ডিফেন্ডার আপনার পিসির সুরক্ষার জন্য কি যথেষ্ট? IS IT ENOUGH USING DEFENDER AS ANTIVIRUS ON YOUR PC(in Bengali)

এক সময় উইন্ডোজের ইউজারদেরকে থার্ডপার্টি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হতএরপর ২০০৯ সালে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ডিফেন্ডার নামে বিল্ট ইন অ্যান্টিভায়রাস তাদের অপারেটিং সিস্টেমে জুড়ে দেয়কারণ হ্যাকারদের আক্রমনের ঘটনা হর হামেশায় ঘটছেডিফেন্ডার তৈরীর পেছনে একটায় উদ্দেশ্য ছিলো আর তা হল অ্যাডওয়ার,স্পাইওয়ার এবং ভাইরাসের মত থ্রেট গুলো থেকে যাতে রেহায় পাওয়া যায়।মাইক্রোসফট থেকে লঞ্চ হওয়া ডিফেন্ডারগুলোর মধ্যে উইন্ডোজ ১০ এর ডিফেন্ডারকে এখন পর্যন্ত সবচাইতে বেশী শক্তিশালী মনে করা হচ্ছে।এই আর্টিকেলে উইন্ডোজ ১০ এর ডিফেন্ডার এবং অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার সম্পর্কে কিছু বিষয় জানবো।
উইন্ডোজ ১০ এর ডিফেন্ডারের ইন্টারফেস খুবই সাধারণমাত্র ৩-৪ টা উইন্ডো আছে যদিও এটা পুরোপুরি নির্ভর করে আপনি ডিফেন্ডারের কোন ভার্সনটি ব্যবহার করছেন।উইন্ডোজ ১০ এ ডিফেন্ডার নিজে নিজেই আপডেট নেয় (উইন্ডোজ ৭ এ নিজে নিজে অটোমেটিক আপডেট নেয় না)।যদি ম্যানুয়ালভাবে কোন স্ক্যান করার কথা ভাবেন তবে তার আগে আপডেট করে নেয়াটা ভালো এতে করে সঠিক ফলাফলটা পাবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
ডিফেন্ডার তিনভাবে স্ক্যান করে
১.কুইক স্ক্যান (কোন জায়গায় যদি ম্যালওয়ার লুকিয়ে থাকে তা খুজে বের করে)।
২.ফুল স্ক্যান (পুরো সিস্টেমকে স্ক্যান করে)
৩.কাস্টম স্ক্যান (আপনার যদি কোন ড্রাইভ কিংবা কোন ফোল্ডার নিয়ে সন্দেহ হয় সেখানে থ্রেট খুজে বের করার জন্য এই স্ক্যান করতে পারবেন)
ফুল স্ক্যান এবং কাস্টম স্ক্যানগুলো সম্পন্ন হতে লম্বা সময় লাগে।আপনার সিস্টেমকে ভালো রাখতে প্রতি মাসে একবার ফুল স্ক্যান করতে পারেন।
ইউকে সিকিউরিটি এনালিস্টস এসই ল্যাবস (UK security analysts SE Labs) এর পরীক্ষায় ডিফেন্ডারের স্কোর ছিলো ৯৪ শতাংশ।পরিমানটা বেশী মনে হলেও ESET এবং Norton এর তুলনায় কম কারণ ঐ একই জায়গায় এদের স্কোর ছিলো ১০০ ও ৯৯তাই ESET এবং Norton থেকে ডিফেন্ডারের তুলনাই অনেক ভালো প্রটেকশন পাবেনতবে,যেহেতু ডিফেন্ডার ফ্রী এবং এর জন্য আপনাকে আলাদাভাবে নর্টন এর সিকিউরিটি কিনে নেবার মত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে না সে দিক থেকে বিচার করলে ডিফেন্ডার অনেক এগিয়ে থাকে।শুধু তাই নয় ডিফেন্ডারে এখন এক্সপ্লয়েট গার্ড (Exploit Guard) যুক্ত করা হয়েছে যা আপনার ফাইলগুলোকে র‍্যানসামওয়ার থেকে বাচাতে পারবে।তবে এ জন্য আপনার উইন্ডোজ ১০ কে ক্রিয়েটরস আপডেট নামের আপডেটটি (অথবা এখনকার লেটেস্ট আপডেট গুলো) পেতে হবে অন্যথায় আপনি এ সুবিধাটি পাবেন না।
থার্ডপার্টি অ্যান্টিভাইরাস
অনেকে ডিফেন্ডারের ওপরে ভরষা না পেয়ে থার্ডপার্টি বিভিন্ন অ্যান্টিভাইরাস পিসিতে ইন্সটল করে রাখে। কিন্তু এগুলো কতটা কাজের?যদি পেইড বা কেনা অ্যান্টিভাইরাস হয় তাহলে এ নিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে এটা আপনাকে প্রটেক্ট করছে।কিন্তু যদি ফ্রীওয়্যার (ফ্রী সফটওয়্যার) হয় তাহলে এ নিয়ে আশা না রাখায় ভালো।কারণ এগুলো প্রটেকশনের নামে আপনার পিসির ক্ষতিই বেশী করছে।তাছাড়া এ ধরনের অ্যান্টিভাইরাসগুলো খুব বিরক্তিকরও বটে।বিভিন্ন রকম অ্যাড/বিজ্ঞাপন শো করা,একটু পর পর প্রো ভার্সনে আপগ্রেড করার জন্য বলা সহ অদরকারী বিভিন্ন সফটওয়্যার ডাউনলোড করার জন্য বলে ইউজারকে খুব বিরক্ত করে।কিন্তু যে জন্য একে পিসিতে রাখা হয়েছে সে কাজটায় ভালো মত করেনা।না করাটা অস্বাভাবিক নয় কারণ এগুলো ফ্রীওয়্যার/ফ্রী সফটওয়্যার।একজন ডেভেলপার কেনো কষ্ট করে ভালো মানের একটা অ্যান্টিভাইরাস আপনাকে ফ্রী তে দিয়ে দেবেন?তার কি ফ্যামিলি নেই?
তাই,যদি প্রটেকশনের দরকার আছে বলে মনে হয় ডিফেন্ডারকে নিয়মিত আপ টু ডেট করে রাখুন,আপনার জন্য ডিফেন্ডারই যথেষ্টশুধু শুধু থার্ডপার্টি অ্যান্টিভাইরাস পিসিতে ইন্সটল করে রেখে র‍্যামের জায়গা খাইয়ে লাভ কি।
যেকোন লিঙ্কে ক্লিক করবার আগে সাবধান
আপনার সিস্টেমে হ্যাকাররা সরাসরি কখনো এক্সেস করতে পারেনা (এটা মাথায় রাখবেন)তাই যতক্ষণ না আপনি তাদের ফাদে পা দিচ্ছেন তারা আপনার পিসির কোন ক্ষতি করতে পারবেনা।কোন মেইল এলে একটু খেয়াল করে তার পর ক্লিক করুন।হ্যাকাররা এই পন্থাটা খুব ব্যবহার করে কারণ এভাবে আপনাকে বোকা বানানো সহজ।
কোন সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে বলতে পারে অথচ ঐটা হতে পারে কোন ম্যালওয়ার যা আপনার পিসিতে প্রবেশ করা মাত্র হ্যাকারের হাতে আপনার সিস্টেমের কন্ট্রোল চলে যাবে।এজন্য unknown সোর্স থেকে এবং অদরকারী সফটওয়্যার গুলো পিসিতে ইন্সটল করা থেকে বিরত থাকুন।
কোন ইমেইল যদি এরকম দেখায় যে আপনার ইমেইল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড এখনি পরিবর্তন করতে হবে তাহলে এরকম ইমেইল কখনই সাথে সাথে ওপেন করবেন না বরং ডিলিট করে দিন।এমনো হতে পারে,আপনি যে ইমেইল প্রভাইডারের ইমেইল সার্ভিস ব্যবহার করেন সেই ইমেইল প্রভাইডারই আপনাকে ইমেইলটা পাঠিয়েছে বলে আপনার মনে হতে পারে।কারণ আপনার ইমেইল প্রভাইডারের ইমেইল ঠিকানা আর যে ঠিকানা থেকে মেইলটি করা হয়েছে তা প্রায় একই (দেখবেন পুরোপুরি একই কিন্তু কোথাও না কোথাও অল্প একটু অমিল আছে)।কিন্তু যতক্ষণ না নিশ্চিত হতে পারছেন আপনার ইমেইল সার্ভিস প্রভাইডারের কাছ থেকেই মেইলটা এসেছে ততক্ষণ ক্লিক করবেন না।কারণ হ্যাকারেরা এমনভাবে লিঙ্কটি বানায় যাতে আপনার দেখে মনে হবে এটা আপনার সার্ভিস প্রভাইডারের কাছ থেকেই এসেছে।তাই অপ্রয়োজনীয় এসব লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে সবসময় দূরে থাকুন।এখানে লোভ দেখানো বিভিন্ন অফারের কথাও বলা হতে পারে যা আপনাকে ওই লিঙ্কে ক্লিক করার জন্য ফোর্স করবে।এগুলোকে হ্যাকারদের ভাষায় ফিশিং টেকনিক বলে।
ব্যাকআপ রাখুন
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে,সাবধানের মার নেই।তাই সাবধান থাকাটা বুদ্ধিমানের কাজ।কারণ কপাল খারাপ হলে ডিফেন্ডার কেনো কোনো প্রটেকশনেই কাজ হবেনা।তাই আপনার যে ফাইলগুলো খুবই গুরুত্বপুর্ন তার একটা ব্যাকআপ রাখুন।অনলাইনে বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজ গুলোতে ব্যাকআপ রাখতে পারেন তবে অফলাইন ব্যাকআপ রাখাটা তার চাইতেও বেশী ভালো হবে।কারণ ক্লাউড স্টোরগুলো হ্যাক হবেনা এমন তো কোথাও লেখা নেই।
যদি আপনি এই নিয়ম গুলো মেনে চলতে পারেন তাহলে ডিফেন্ডার আপনার চাহিদা পুরন করতে পারবে।আর যদি আপনার মনে হয় আপনার খুব কড়া সিকিউরিটি দরকার তাহলে পেইড অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারগুলো কিনে ব্যবহার করতে হবে,কিন্তু ভুলেও ফ্রী অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে যাবেন না।
একটা কথা মনে রাখবেন আপনি নিজে যতক্ষণ না সচেতন হতে পারছেন কোন সফটওয়্যার আপনার সিস্টেমকে হ্যাক হওয়া থেকে বাচাতে পারবেনা।এজন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় একটু সচেতন থাকুন।
ডিফেন্ডার আপনার পিসির সুরক্ষার জন্য কি যথেষ্ট? IS IT ENOUGH USING DEFENDER AS ANTIVIRUS ON YOUR PC(in Bengali) ডিফেন্ডার আপনার পিসির সুরক্ষার জন্য কি যথেষ্ট? IS IT ENOUGH USING DEFENDER AS ANTIVIRUS ON YOUR PC(in Bengali) Reviewed by Rone Ahmed on July 03, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.