number ones

টিভি দেখা কেন বাদ দেবেন | IS WATCHING TV DETRIMENTAL FOR YOU

কিছু মানুষ মনে করেন টিভি দেখা উচিত নয়।আবার একশ্রেণীর মানুষ মনে করেন প্রতিদিন অল্পখানি সময় টিভি দেখলে কোন ক্ষতি নেই বরং টিভি দেখলে অনেক কিছু শেখা যায়।কিন্তু এই অল্পখানি সময় বলতে ঠিক কতখানি বোঝায় তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।নেইলসন রিপোর্টের একটি গবেষণা থেকে উঠে এসেছে একজন আমেরিকান সপ্তাহে ৩৪ ঘন্টারো বেশী সময় টিভি দেখেন.১.।এটা জেনে যদি আপনি অবাক না হন তাহলে আমার কিছু বলার নেই কারণ রিপোর্টটি দেখে আমিও একদমই অবাক হইনি।বরং ভাবছিলাম গবেষণাটা আমাদের দেশে হলে আমরা আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যেতাম তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।আর যারা এ রিপোর্টে অবাক একটু হয়েছেন তারা একটু কষ্ট করে নিজের হিসেবটা কষে নিন এ সপ্তাহে সব মিলিয়ে কয়টা মুভি দেখলেন,কয়টা সিরিয়াল দেখলেন আর ইউটিউবে কতক্ষণ ভিডিও দেখলেন।যে উত্তরটা আসবে তা হল ওই সময়টা যা শুধুমাত্র টিভি দেখার ছলে প্রতি সপ্তাহে আপনার জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু এ সময়টা আপনি আপনার পরিবার,বন্ধু কিংবা নিজের রিল্যাক্সেশনের মত অন্য কোন ভালো কাজেও লাগাতে পারতেন।এটা সৌভাগ্যের বিষয় যে এত সময় ধরে টিভি দেখার পরেও আপনার কাজ করার জন্য সময় থেকে যায়।একবার ভেবে দেখুন আপনি যদি টিভি দেখে ঐ সময়টা না নষ্ট করেন তাহলে আপনি যে সময়টা পাবেন তা দিয়ে আরো কত কাজই না করতে সক্ষম হবেন।তাই টিভি কেনো দেখা উচিত নয় তা নিয়ে আজকে আলোচনা করব।
সময়ের অপচয়
টিভি দেখা হচ্ছে সময় অপচয়ের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।কারণ এটা ধরে নেয়া যেতে পারে আপনি যখন টিভি দেখছেন তখন আর কোন কাজ করতে পারছেন না।কারণ মানুষ মাল্টিটাস্কিং (একই সময়ে একাধিক কাজ করা) করতে পারেনা।টিভি দেখে সময় অপচয় করাটা হলো বেশী ঘুমানোর মত।এখন এটা পুরোপুরি আপনার বিষয় দিনে কতক্ষণ সময় আপনি বেশী ঘুমিয়ে নষ্ট করতে চায়বেন।টিভি না দেখলে আপনি হাতে অনেক ফ্রী সময় পাবেন অন্য কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য।
এটা আপনার কাছের মানুষ গুলো থেকে আপনাকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।প্রতিদিন লম্বা সময় ধরে স্ক্রীনের সামনে বসে না থেকে বরং সময়টা কাছের মানুষগুলোর সাথে কাটানোর চেষ্টা করুন।কারণ আপনি যে প্রোগ্রামটি দেখছেন তা শুধুমাত্র ওই সময়টায় আপনাকে আনন্দ দেবে যতক্ষন প্রোগ্রামটি চলছে।প্রোগ্রাম শেষ হবার পর দেখবেন কিছুই মনে হবেনা।এগুলো শুধুমাত্র একটা ইলিউশন যার কোন বাস্তবতা নেই।টেলিভিশন কেন তৈরী হয়েছে তা কখনো ভেবে দেখেছেন কি?এটা তৈরী হয়েছে শুধুমাত্র পণ্য বিক্রি করতে।সারা বিশ্বে যত টিভি চ্যানেল আছে সবগুলোর অর্থ আসার রাস্তা হচ্ছে বিজ্ঞাপন।বিজ্ঞাপন আছে বলেয় চ্যানেল গুলো আছে।বিজ্ঞাপন ছাড়া আপনি কোন চ্যানেলকে কল্পনা করতে পারবেন না।চ্যানেলগুলো নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন প্রোগ্রাম বানিয়ে আপনাকে দেখাচ্ছে যাতে প্রোগ্রাম দেখার পর আপনি বিজ্ঞাপনটা দেখেন।এরা আপনার সাইকোলজি ব্যবহার করে আপনার কাছেই পণ্য বিক্রি করছে।আপনি তার কাছে শুধুমাত্র একজন ক্রেতা,এর বেশী কিছু না।শুধুমাত্র টিভি না ফেসবুক,টুইটার,ইউটিউব,ইন্সটাগ্রাম এসব কিছুর মুল ম্যাকানিজমটা এটায়।আপনি যত বেশী সময় তাদের সাইটে অবস্থান করবেন তাদের তত বেশী লাভ।এখানে আপনাকে বিনিময়ে যে সুবিধাটা দেওয়া হচ্ছে তা তাদের লাভের তুলনায় কিছুই না বরং এখানে আপনার ক্ষতির পরিমানটা অনেক বেশী।টিভি প্রোগ্রামগুলোর চাইতে আপনার জীবনের সাথে যে মানুষগুলোর জীবন জড়িয়ে আছে তাদের গুরুত্ব আপনার জীবনে অনেক অনেক গুণ বেশী।তাই তাদেরকে সময় দিতে চেষ্টা করুন এতে আপনারই ভালো লাগবে।
শিশুরা বদ্ধ জীবন-যাপন করছে
আপনি নিজে যেহেতু টিভি দেখেন তাই আপনার শিশুটিও ছোট অবস্থা থেকেই এটা শিখে নিচ্ছে যে টিভি দেখতে হয়।সে ধীরে ধীরে বড় হবে সাথে তার টিভি দেখার পরিমাণও বাড়তে থাকবে।একসময় সেও সবসময় টিভি দেখতে শুরু করবে।কারণ তখন আর বাইরের হাওয়া খেতে যেতে তার মন চায়বেনা।বর্তমান পরিবারগুলোতে এ সমস্যাগুলো খুব দেখা যাচ্ছে।এতে শিশুটির মানসিক বিকাশ ঠিক মত হচ্ছে না।আর এ জন্য আমরাই দায়ি কারণ আমরাই ওই বাচ্চা শিশুটিকে ছোট বেলা কার্টুনের সাথে পরিচয় করে দিয়েছি।
টিভি আপনার মস্তিষ্কের এক্টিভিটি কমিয়ে দিচ্ছে
আপনি যখন লম্বা সময় ধরে বসে বসে টিভিতে কোন প্রোগ্রাম দেখছেন তখন আপনার মস্তিষ্কের হায়ার ব্রেইন রিজেন (higher brain region) বন্ধ হয়ে যায় আর লোয়ার ব্রেইন রিজেন (lower brain region) খোলা থাকে।এর অর্থ আপনার ব্রেইনের মুল অংশটি তখন অলস সময় পার করে।এরকম চলতে থাকলে দীর্ঘ দিন পরে হায়ার ব্রেইন রেজিনের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে.২.।শুধু তাই নয় নিয়মিত টিভি দেখলে আপনার শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে।টিভির আলো চোখের জন্যে ক্ষতিকর।
টিভিতে একটা খবর আপনাকে যে দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হয় আপনি সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখেন।সেখানে আসলেই কি ঘটেছিলো বা ঐ রকম ঘটনা আদৌ ঘটেছিলো কি না সে বিষয়ে আপনার কাছে কোন ধারণায় থাকেনা।সিনেমাগুলোতে প্রায়ই ১৮ প্লাস (18+) কন্টেন্ট থাকে যা বাচ্চাদের নিয়ে দেখা যায়না।
টিভি দেখা খুব সহজ কাজ।মনে রাখবেন,সহজ কাজের পারিশ্রমিক বেশী হয়না।সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে একটাই জীবন দিয়েছেন এখন এই সুন্দর জীবনটা আমরা টিভি দেখে কাটাবো নাকি আমাদের সাথের মানুষদেরকে নিয়ে কাটাবো পুরো বিষয়টায় নির্ভর করছে আমাদের ওপর।জীবনের প্রতিটা মিনিটকে কাজে লাগানোটা হলো একেকটা বিনিয়োগের মত যার মুনাফা আমরা ভবিষ্যতে পাবো।বিনিয়োগটা যদি ভালোভাবে করতে পারি তাহলে মুনাফাটিও মোটা অঙ্কের হবে।তাই টিভি দেখা যতটুকু সম্ভব কমিয়ে দিন।সম্ভব হলে একেবারে বাদ দিয়ে দিন,কঠিন মনে হবে ঠিকই কিন্তু অসম্ভব নয়।যারা এ পৃথিবীকে রুল করছেন তারা টিভি নিয়ে পড়ে থাকেন না,আমরাই সব সময় তাদেরকে টিভিতে দেখি,তাদের কথা শুনি।যদি কিছু হতে চান তাহলে তাদের মত হবার কথা ভাবুন।
টিভি না দেখে যে কাজগুলো করতে পারেন
১.ব্যায়াম
২.বন্ধুদের সাথে আড্ডা
৩.ভালো রায়টারের বই পড়া (মোটিভেশনাল/গল্প)
৪.নিজের রুম সুন্দর করে সাজাতে পারেন
৫.মেডিটেশন করতে পারেন
৬.পছন্দের কোন একটা বিষয়ে একটা কোর্স করে ফেলতে পারেন
৭.আগামী একমাসে কি কি কাজ করবেন তা ঠিক করে ফেলতে পারেন
.সাইক্লিং করতে পারেন
৯.মা-বাবা অথবা কাজিনদের সাথে সময় কাটাতে পারেন
১০.ফটোগ্রাফী করতে পারেন
১১.মেডিটেশন করতে পারেন
১২.পছন্দ মত খেলাধুলা করতে পারেন।

No comments