কিভাবে আপনার মুল্যবান সময়কে পুরোপুরি কাজে লাগাবেন | LEARN HOW TO MANAGE YOUR valuable TIME(in Bengali)

এই মুহুর্তে আপনার কাছে যদি কোন সেকেন্ডের কাটাওয়ালা ঘড়ি থাকে তার দিকে একটু নজর দিন।এরপর একটু গভীরভাবে সেকেন্ডের কাটার দিকে খেয়াল করুন দেখবেন কাটাটি আপন মনে টিক টিক করে এমনভাবে চলে যাচ্ছে যেন ওকে আটকাবার মত কেউ নেই।আর সত্যিই তো সময়কে আটকাবার মত কেউ কি আছে!থাকলে হয়ত ভালই হত সময়টাকে ধরে রেখে ইচ্ছে মত নিজের কাজগুলো শেষ করা যেত।কিন্তু সে আর হচ্ছে কোথায়।এজন্যই সময় হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে অমুল্য এক জিনিস কারণ কোন মুল্য দিয়ে সময়কে কেনা অসম্ভব।তাই সময়ের কাজ সময়ে শেষ না করাটা বোকামী।পৃথিবীতে যারা এখন সফল ব্যাক্তিদের তালিকায় অবস্থান করছেন তাদের আর ব্যর্থ মানুষদের মাঝে মুল পার্থক্য এটায় যে সফল মানুষেরা তাদের ২৪ ঘন্টাকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করেন।তাই আপনি যদি মনে করে থাকেন আপনাকে জীবনে কিছু করতে হবে তাহলে আপনাকে সময়ের গুরুত্ব বুঝতে হবে।এজন্য টাইম ম্যানেজমেন্ট (Time Management) সম্পর্কে ধারণা থাকা আবশ্যক।তাই আজকে আমরা আপনার টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কিছু ধারণা দেব।
রাতে ঘুমানোর আগে
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর ঠিক পুর্বে পর দিন কোন সময় কোন কাজটা করবেন তা মনে মনে ঠিক করুন।এতে পরের দিন কোন সময় কি করবেন তা নিয়ে ভাবতে হবেনা।আর এতে দিনটাও অগোছালো ভাবে না গিয়ে সুন্দরভাবে কাজের ওপর দিয়ে পার হয়ে যাবে যেহেতু আগে থেকে সব পরিকল্পনা করা ছিলো।
ভোরে ঘুম থেকে ওঠা
ভোরে কারোরই ঘুম থেকে উঠতে মন চায়না।কারণ সেই সময় খুব অলস লাগে মনে হয় আরো একটু ঘুমাই।কিন্তু কেন?এর কারণ হলো আমরা দুপুরের পর একটু ভাতঘুম দিতে ভালবাসি তাই রাতে তাড়াতাড়ি আমাদের ঘুম আসেনা ফলে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে হয়।তাই এই সমস্যাটা সমাধান করতে হলে দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাসটা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।প্রথম তিনদিন একটু কষ্ট হবে কিন্তু চারদিনের দিন সব ঠিক হয়ে যাবে।আবার অনেকে আছেন যারা দুপুরে ঘুমাননা কিংবা ঘুমানোর সময় পাননা ঠিকই কিন্তু রাত জেগে অনলাইনে সময় কাটান,এখন অবশ্য অনলাইনে সময় কাটানোটা স্মার্টনেসের পর্যায়ে পড়ে চলে এসেছে।কিন্তু এগুলো আপনার রাতের মুল্যবান ঘুম কেড়ে নিচ্ছে তাই সকালে ঘুম ভাঙতেও আপনার সময় লেগে যাচ্ছে।কিন্তু ভোরে ঘুম থেকে ওঠা এত গুরুত্বপূর্ণ কেনো?ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠলে সারাদিন আপনার মাঝে একটা ফ্রেশ ভাব থাকবে।কারণ ভোরের হাওয়া আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী।তাই সম্ভব হলে ভোরবেলা বাইরে হাটাহাটির অভ্যাস গড়ে তুলুন।এক সপ্তাহের মাঝে এর উপকার আপনি নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন।এটা আপনার কাজের প্রতি আপনার আত্নবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে বহুগুন।
প্রত্যেকটা কাজের জন্য নির্ধারিত সময়
প্রতিটা কাজের জন্য আলাদা আলাদাভাবে সময় ভাগ করে নেবেন।ধরুন আপনি a কাজটি ২০ মিনিটে,b কাজটি ৩০ মিনিটে শেষ করবেন,এভাবে।এটা আপনার কাজের গতি বাড়াবে।আর অযথা কোথাও কোন সময় নষ্টও হবেনা।
কাজের মাঝে বিরতি
একটা কাজ শেষ হলে কয়েক মিনিটের জন্য একটু বিরতি নিন এতে পরের কাজটা শুরু করতে একটা আলাদা এনার্জি পাবেন।আপনার মস্তিষ্ক আরো ভালো ভাবে কাজ করতে পারবে।আর যে কাজটা খুব গুরুত্বপুর্ণ এবং জরুরী সেই কাজটা আগে শেষ করুন এতে মাথা থেকে একটা বোঝা কমে যাবে।
না বলতে শিখুন
জীবনে সফলতা পেতে গেলে না বলতে শেখাটা কতটা গুরুত্ব বহন করে তা ওয়ারেন বাফেটের একটা উক্তিতে বোঝা যায়।ওয়ারেন বাফেট বলেছেন,The difference between successful people and really successful people is that really successful people say no to almost everything.
অন্যদের কাজ হাতে নেওয়া থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন।কারণ অন্যের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে গিয়ে আপনার কাজের প্রতি আপনার এনার্জি কমে যেতে পারে।এ জন্য স্পষ্ট ভাষায় না বলতে হবে অথবা পরে করবেন,এখন আপনার সময় নেয় এরকম এক্সকিউজ দেখিয়ে এড়িয়ে যেতে পারেন।কারণ একটা কথা মাথায় রাখতে হবে,এ পৃথিবীতে সবাই স্বার্থবাদী।স্বার্থের জন্য তারা আপনার কাছে আসছে।কথাটা তিক্ত হলেও বাস্তব সত্য।এটা প্রমাণ পাবেন যখন আপনার কাউকে খুব প্রয়োজন হচ্ছে অথচ আপনি তখন কাউকেই পাচ্ছেন না।কারণ তাদের কাছে অতটা সময় নেয় আপনাকে নিয়ে ভাবার তাহলে আপনি কেন তাদের পেছনে মাথা ঘামিয়ে নিজের সময়ের অপচয় করবেন।
স্কুল,কলেজ কিংবা ভার্সিটি লাইফের বন্ধুদের ক্ষেত্রেও এই থিউরি প্রযোজ্য।কারণ দেখা যেতে পারে আপনি কেবল পড়তে বসেছেন এমন সময় আপনার কিছু বন্ধু এসে বলল,চল বাইরে থেকে ঘুরে আসি বা কোন রেস্টুরেন্টে ডিনার করে আসি ইত্যাদি।এমন সময় আপনার মন চায়বে একটু আবেগপ্রবণ হয়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরে আসতে।কিন্তু সেই সময় মন থেকে নয় নিজের ব্রেন থেকে চিন্তা করবেন,তাহলেই ব্রেন সঠিক সমাধান দিয়ে দেবে।আমরা মন দিয়ে চিন্তা করতে ভালোবাসি কারণ মন থেকে চিন্তা করাটা খুব সহজ ব্রেন দিয়ে চিন্তা করার চায়তে কিন্তু মন চিন্তা করার জিনিস না বরং মন দিয়ে চিন্তা করাটা হল ফেইলিউরদের ফিলোসোফি।তাই নিজের মস্তিকে ব্যবহার করতে শিখুন।
ফোকাস
অনেকেই আছেন যারা একসাথে একাধিক কাজ (মাল্টিটাস্ক) করতে ভালোবাসেন।এতে আপনার কাজ খুব দ্রুত শেষ হলেও কাজের মধ্যে ভুলভ্রান্তি প্রায়সময়ই থেকে যায় তাই মাল্টিটাস্কিঙ্গে বিশ্বাসী না হয়ে ফোকাসিঙ্গে বিশ্বাসী হউন।মানুষ একসাথে একাধিক কাজে ফোকাস রাখতে পারেনা।তাই ফোকাসে একটায় কাজ রাখুন এতে কাজটাকে খুব যত্নের সাথে শেষ করতে পারবেন আর এতে ভুল্ভ্রান্তি থাকবার চান্সও শুন্য থাকবে।
যে কাজগুলোর পেছনে সময় অপচয় হচ্ছে চিহ্নিত করুন
এ বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ন কারণ আপনি যদি এটা না জানেন যে কোন কোন জায়গায় আপনার সময় অপচয় হচ্ছে তাহলে আপনি সময়কে সঠিকরুপে ব্যবহার করতে পারবেন না।
যে সকল কাজে কোন কারণ ছাড়াই সময় ব্যয় হচ্ছে সেগুলোর একটা লিস্ট বানাতে পারেন।এতে কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে সুবিধা হবে।
নিয়মিত খেলাধুলা করা বা প্রকৃতির মাঝে গিয়ে সময় কাটানো সময়ের অপচয় নয়।খেলা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী তেমনি এটা আপনাকে কাজের প্রতি আরো ডেডিকেটেড রাখতে সাহায্য করে।তবে বিনোদনের নামে টিভির সামনে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে মুভি,কার্টুন কিংবা সিরিয়াল দেখা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর ঠিক তেমনি আপনার কাজ থেকে আপনাকে দূরে সরে থাকতে উৎসাহ যোগায়।এগুলোর সাইকোলজিটা এরকমই আপনি যত দেখবেন ততই দেখতে ইচ্ছা করবে,আর কাজের কথা মনে হলে মন বলবে পরে সব করে নেব।একটা কথা ভেবে দেখেন একবার আপনার জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত যত মুভি দেখেছেন তাতে আপনার কি কোন উপকার হয়েছে?মুভি দেখে আমরা যে আনন্দ উপভোগ করি তা শুধু ততক্ষনই স্থায়ি হয় যতক্ষন আমরা মুভিটা দেখছি।মুভি শেষ হবার সাথে সাথে আপনি আবার বাস্তবে ফিরে আসেন কারণ মুভিটা ছিল একটা ইলিউশন মাত্র যাকে আপনি বাস্তবে কখনো ছুয়ে বা স্পর্শ করে দেখতে পাবেন না।তাই সম্ভব হলে ওই সময়টা বসে বসে কিছু ভালো রায়টারের মোটিভেশনাল কিছু বই পড়ুন বিরক্ত লাগবেনা বরং সারা জীবন কাজে লাগবে।
কাজের সময় কিছু বিষয় ত্যাগ করুন
যখন আপনি কোন কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত তখন আপনার স্মার্টফোনটি বন্ধ করে রাখুন এতে আপনি আপনার কাজের প্রতি পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে পারবেন।গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফোন কল থাকলে তার জন্য আলাদা সিম ব্যবহার করা যেতে পারে তবে ফোন অফ রাখাটা বেশী ভালো হবে।অবশ্য এর জন্য কঠিন ইচ্ছা শক্তির প্রয়োজন।ফোন অন থাকলে মনে হতে পারে একটু ম্যাসেঞ্জারটা অন করি।এটা টিনেজলেভের ছেলেমেয়েদের একটা জাতীয় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।
পরিচিত কেউ কাজের সময় আপনার আপনার কাছে এলে তাকে এটা জানিয়ে দিন আপনি এখন ব্যস্ত।
এখানে লেখা টিপস গুলো কঠিন মনে হতে পারে কিন্তু জীবনে যদি সত্যিই কিছু করার ইচ্ছা থাকে রুলস গুলো নিয়মিত মানতে থাকুন সাফল্য আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।প্রথম দিকে কিছুটা বিরক্ত লাগবে কিন্তু ধীরে ধীরে যখন অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে এসবের মাঝে আলাদা একটা আনন্দ খুজে পাবেন।আর আপনার পার্সোনালিটিও সবার থেকে আলাদা হয়ে উঠবে।
কিভাবে আপনার মুল্যবান সময়কে পুরোপুরি কাজে লাগাবেন | LEARN HOW TO MANAGE YOUR valuable TIME(in Bengali) কিভাবে আপনার মুল্যবান সময়কে পুরোপুরি কাজে লাগাবেন | LEARN HOW TO MANAGE YOUR valuable TIME(in Bengali) Reviewed by Rone Ahmed on June 30, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.