ওয়ানপ্লাস ৬ হ্যান্ডস-অন রিভিউ I OnePlus 6 (Exclusive Hands On review in Bangla)

গরীবের আইফোন?


বিখ্যাত ব্রান্ডগুলোকে প্রতিনিয়তই প্রতিযোগীতায় ফেলে দিচ্ছে চাইনিজ স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলো।আর ওয়ান প্লাসের নামটি এর শীর্ষেই থাকবে।কারণ প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকে এ পর্যন্ত কখনই এর ভক্তদের আশাহত হতে হয়নি।কম মুল্যে ফ্লাগশিপ ডিভাইস বাজারে বের করলেও অনায়াসে বাজারের শীর্ষ ডিভাইস গুলোর মাঝে জায়গা করে নিতে একটুও বেগ পেতে হয়না ওয়ানপ্লাসের তৈরী ডিভাইসগুলোর।তাই অল্প কিছু দিন আগে স্মার্টফোন বানানো শুরু করলেও গ্রাহোক পর্যায়ে পৌছাতে খুব বেশী দেরী করতে হয়নি ওয়ানপ্লাসকে।গতবছর জুনমাসে ওয়ানপ্লাস ৫ বাজারে ছেড়েছিলো ওয়ানপ্লাস।তাই এরই ধারাবাহিকতাই একবছর পর গত ২২ এ মে ওয়ানপ্লাস তাদের অষ্টম সংস্করণ হিসেবে ওয়ানপ্লাস ৬ বাজারে ছাড়লো।
বাংলাদেশে ওয়ানপ্লাস ৬(৬/৬৪) এর বাজার মূল্য হতে পারে ৫০ হাজার টাকার আশেপাশে।ওয়ানপ্লাস এর ডিভাইস গুলো মুলত সেইসব ইউজারদের টার্গেট করে বানানো হয় যারা বেশ কয়েক হাজার টাকা কম দামে স্যামসাং বা অ্যাপলের ফ্লাগশিপ ডিভাইস গুলোর মত পারফর্মেন্স আশা করে থাকেন।তাই ওয়ানপ্লাস ৬ যে GALAXY S9 বা IPHONE X এর সাথে টেক্কা দেবার ক্ষমতা রাখে এতে কোন সন্দেহ নেই।
আমাদের কাছে ওয়ানপ্লাস৬ এর ৬৪ জিবি ভেরিয়েন্টটি ছিলো।ডিভাইসটি আমরা টানা ২ দিন ব্যবহার করেছি।এর মাঝে বেশ কিছু ফিচার আমরা পেয়েছি যেগুলো আমাদের ভালো লেগেছে আবার কিছু ফিচার আমরা পাইনি যেগুলো না থাকাতে আমাদের মনে হয়েছে যে থাকলে ভালো হত।

ডিজাইন

এতদিন পর ওয়ান প্লাস তাদের ট্রেডিশনাল মেটাল ব্যাক ফিনিশ থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে।কারণ এই প্রথম ওয়ান প্লাস তাদের ব্যাকপ্যানেলে কর্নিং গোরিলা গ্লাস ৫ ব্যবহার করেছে(*ডিসপ্লেতেও গোরিলা গ্লাস ৫ ব্যবহার করা হয়েছে)।এতে ডিভাইসটি হাতে নিলে মনে হতে পারে আপনি সিরামিকের তৈরী কোনো ফোন হাতে নিয়েছেন যা অসাধারণ একটা প্রিমিয়াম ফিল দিতে বাধ্য।তাই ওয়ানপ্লাসের পূর্বের তৈরী ডিভাইসগুলোকে ওয়ানপ্লাস ৬ হার মানাবে।ডানে রয়েছে এলার্ট স্লাইডার কি ও পাওয়ার বাটন এবং বামে রয়েছে ভলিয়ুম লকার।রেয়ার প্যানেলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার,ফ্ল্যাশ এবং ডুয়েল ক্যামেরা।ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারটিকে একটু ছোট আকার দেয়া হয়েছে যা দেখতে ভালোই লাগে এবং ছোট হলেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিড করতে ডিভাইসটিকে কোন বেগ পেতে হয়না।ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি আগের ডিভাইসগুলোর চাইতেও দ্রুত রিড কর‍তে পারে।ডিভাইসটির একেবারে নিচে রয়েছে যথারীতি স্পিকার গ্রীল,ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট এবং অডিও জ্যাক।ডিসপ্লের একেবারে ওপরে ছোট্ট একটি নোচ(notch) যার ভেতরে আছে ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা,স্পিকার এবং সেন্সর।যেহেতু নোচ ২০১৮ সালের ট্রেন্ড হয়ে দাড়িয়েছে তাই দেখতে ভালোই লাগে।

ডিসপ্লে

ওয়ানপ্লাস ৬ এ ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাং এর তৈরী ৬.২৮ ইঞ্চি অ্যামোলেড প্যানেল যা স্যামসাং এর নিজস্ব ডিভাইসগুলোতে ব্যবহার করা ওলেড ডিসপ্লেগুলোর মতই।তাই ডিসপ্লে নিয়ে চিন্তা করার মত কোন কিছু রাখেনি ওয়ানপ্লাস।কিন্তু সমস্যাটা শুরু হবে তখনই যখন আপনি এর রেজুলেশনের দিকে তাকাবেন।কারণ OnePlus 5/5t তে ব্যবহৃত রেজুলেশন থেকে খুব একটা বের হয়ে আসতে পারেনি। এই ডিভাইসটিতেও FHD+ রেজুলেশন ব্যবহার করা হয়েছে যখন অন্য ব্র্যান্ডের ফ্লাগশিপ ডিভাইসগুলো QHD ডিসপ্লের প্রতি ঝুকে পড়ছে।কিন্তু মজার বিষয় হল ১৯ঃ৯ রেশীও এবং ৪০২ পিপিআই পিক্সেল ডেন্সিটির সাথে কম্বিনেশন করে অনেক শার্প এবং ভাইব্রেন্ট ছবি ফুটিয়ে তুলতে পারে ডিসপ্লেটি।তাই Samsung S9 বা Iphone X এর মত না হলেও এদের কাছাকাছি বলা যায়।কারণ একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবেনা যে এই ডিভাইসটির দাম ওই সব ডিভাইস গুলোর দামের প্রায় অর্ধেক।
হার্ডওয়ার
The Speed You need! এটা হচ্ছে ওয়ানপ্লাস ৬ এর ট্যাগ লাইন।ট্যাগলাইন পড়ে কিছুটা হলেও আন্দাজ করা যায় যে ওয়ানপ্লাস এদিক থেকে কোন কার্পন্য করেনি।আর তাই কোয়ালকমের সবচাইতে আধুনিক এবং প্রিমিয়াম চিপসেট এসডি৮৪৫ এই ডিভাইসটি তৈরীতে ব্যবহার করেছে ওয়ানপ্লাস।যা Samsung Galaxy S9,Sony XZ2,LG G7 ThinQ এও ব্যবহার করা হয়েছে।অথচ আশ্চর্জজনক বিষয় হলো দামে এই ডিভাইস গুলোর চাইতে অনেক কম হলেও পারফর্মেন্সে এদেরকে হার মানিয়েছে OnePlus 6(বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী)।আর এটা মুলত হয়ে থাকতে পারে ৬জিবি(৮জিবি অপশনাল) র‍্যামের কারণে ।কারণ S9SD 845 চিপ ব্যবহার করা হলেও ৪জিবি র‍্যাম দিয়েছিলো স্যামসাং।সাথে থাকছে এড্রিনো ৬৩০ জিপিইউ।তাই ৬ইঞ্চি ডিসপ্লের সাথে যেকোন হার্ডকোর গেইম চলে পানির মত।ওয়ানপ্লাস যারা এর আগেও ইউজ করেছন তারা এটা খুব ভালো বুঝতে পারবেন।
এতে ব্যবহার করা হয়েছে এন্ড্রয়েড ওরিও ৮.১।আর খুব শীঘ্রই পেয়ে যাবে নতুন অ্যান্ড্রয়েড পি বিটা সংস্করণ(Android P Beta).এছাডাও ওয়ানপ্লাস তাদের নিজস্ব অক্সিজেন ওএসে গুগোল প্লাটফর্ম থেকে গেমিং মোড,রিডিং মোড,দ্রুত ফেস আনলক,অ্যাপলকারের মত কিছু নতুন ফিচার যুক্ত করেছে যা OnePlus 6এর ইউজার এক্সপেরিয়েন্সকে আরো সহজ করে দিয়েছে।
ক্যামেরা
ক্যামেরাতে আহামরি কোন পরিবর্তন নিয়ে আসেনি ওয়ানপ্লাস।এর রেয়ারে ব্যবহৃত ডুয়েল ক্যামের একটি ১৬ মেগাপিক্সেল এবং আরেকটি ২০ মেগাপিক্সলের সেন্সর।দুটিতেয় সনির তৈরী সেন্সর ব্যবহার করেছে ওয়ানপ্লাস।দুইটি ক্যামেরার এপার্চারই ১.৭ যা OnePlus 5t তেও ব্যবহার করেছিলো ওয়ানপ্লাস।১৬ মেগাপিক্সল সেন্সরে ইমেজ স্টাবিলাইজেশন সুবিধা যোগ করা হলেও ২০ মেগাপিক্সেল সেন্সরে তা যোগ করা হয়নি।
রেয়ার ক্যামেরাগুলো ৬০ ফ্রেম রেটে 4K শ্যুট করতে পারে।আর যেহেতু S9 এর স্লোমো ভিডিও এখন বেশ আলোচিত তাই এই সুবিধাটিও রাখা হয়েছে Oneplus 6এ।তবে এটি ৭২০পিক্সেল রেজুলেশনে ৪৮০ ফ্রেমে স্লোমো ভিডিও ক্যাপচার করতে পারে।
লো লাইটে অসাধারণ ছবি তুলতে পারে এই ডিভাইসটি যা এর আগের ডিভাইস গুলোর চাইতে উন্নত।তবে এটা নতুন কিছু নয়।কারণ গুগোলের পিক্সেল ২ এর কাছে সহজেই হার মানবে এর ক্যামেরা পারফর্মেন্স।তবে দাম যেহেতু এর দ্বিগুন তাই সাত খুন মাফ।

ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরাটিতে ১৬ মেগাপিক্সেল(1080p) সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে এবং সৌভাগ্যজনকভাবে এতে ইমেজ স্টাবিলাইজেশন সুবিধাটি রাখা হয়েছে।
ব্যাটারি
ব্যাটারিতেও বিশেষ কোন পরিবর্তন নিয়ে আসেনি ওয়ানপ্লাস ৬।এতে 3300mAh ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে এর সব চাইতে বড় সুবিধাটি মিলে ড্যাশ চার্জার থেকে।কারণ এটি অনেক দ্রুত চার্জ করতে পারে(৩০ মিনিটে ৬০ পার্সেন্ট)।এবং পুরোপুরি চার্জ হতে ১ ঘন্টা ১০ মিনিট মত সময় লেগেছিলো আমাদের।শুধু যে ওয়ানপ্লাসের ডিভাইস গুলোর চাইতে দ্রুত চার্জ হয় এমন নয় বরং বাজারের যে কোন ডিভাইসের চাইতে অনেক দ্রুত চার্জ হয় ওয়ানপ্লাস ৬। আমাদের কাছে থাকা LG v30 ৩০ মিনিটে ৫৩ পার্সেন্ট এবং ৬০ মিনিটে ৮৬ পারসেন্ট চার্জ হয়েছিলো।Iphone X ৩০ মিনিটে ৫০ পার্সেন্ট চার্জ হয় কিন্তু এর জন্য আপনাকে ইউএসবি টাইপ সি ক্যাবল(১০০০/- থেকে ১৫০০/-) আলাদা করে কিনে নিতে হবে।

কিন্তু চার্জ দ্রুত হলেও চার্জ শেষ হতেও কম সময় নেয় ডিভাইসটি।আমরা মাত্র ১০ ঘন্টা ৪০ মিনিট স্ক্রীন অন টাইম পেয়েছি যা আমাদের কাছে খুব একটা ভালো লাগেনি কারণ স্নাপড্রাগন ৮৪৫ একটি পাওয়ার এফিসিয়েন্সি প্রসেসর।এই দিকটাতে ওয়ানপ্লাসের একটু নজর দেয়া উচিত ছিলো বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে।
যা আমাদের কাছে ভালো লেগেছে
·         কোন রকম আইপি সার্টিফাইড না হলেও পানি নিরোধক ব্যবস্থাটা বেশ উন্নত।
·         ফোন হিট হয় খুব কম,বিশেষ করে দ্রুত চার্জ হলেও ফোনটি খুব একটা হিট হয়না।
·         বাজেট অনুযায়ি বেস্ট ক্যামেরা পারফর্মেন্স।
·         হার্ডকোর গেম গুলো পানির মত চলে।
·         কম দামে পাওয়ারফুল ডিভাইস।
·    সুন্দর ফেস আনলক ফিচার।(যদিও এটি IPHONE X এর মত সিকিউর্ড নয় কিন্তু যথেষ্ট ফাস্ট এবং একুরেট)।
যা আমাদের কাছে ভালো লাগেনি

·          কোন কার্ড স্লট নেই।
·         ওয়ারলেস চার্জিং নেই এবং ওয়াটার রেজিস্টেন্ট নয়।
·         ব্যাটারি লাইফটা আরেকটু বেশী হওয়া উচিত ছিলো।
ওয়ানপ্লাস ৬ হ্যান্ডস-অন রিভিউ I OnePlus 6 (Exclusive Hands On review in Bangla) ওয়ানপ্লাস ৬ হ্যান্ডস-অন রিভিউ I OnePlus 6 (Exclusive Hands On review in Bangla) Reviewed by Rone Ahmed on May 25, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.