সুস্থ থাকার ৬টি বসন্ত কিলার টিপস । কিভাবে সুস্থ থাকবেন ।

আমরা সবাই সুস্থ থাকতে চাই।কিন্তু যান্ত্রিকতার এই আধুনিক ব্যস্ততার যুগে সুস্থ থাকাটা একটু কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।অথচ আগের যুগের মানুষদের সুস্থ থাকার বিষয়ে এত কিছু ভাবতে হয় নি। কারণ তারা যা খেতেন এবং যেভাবে জীবন ধারণ করতেন তাতে তাদের জীবন সুন্দরভাবে পার হয়ে যেত।কিন্তু সমস্যাগুলো তখন থেকে শুরু হল যখন মানুষ আধুনিক যুগে পা রাখতে শুরু করলো।কারণ এখন আমরা এতটাই ব্যস্ত থাকি যে নিজের সুস্বাস্থ্যের কথা ভাবার মত সময় আমাদের কাছে একেবারেই নেই।আর সে কারণেই আমরা এখন নানা রকম মরন ব্যাধির দেখা পাচ্ছি।

আমরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচুর ব্যস্ত থাকি তাই সময় মত খাওয়া বা ব্যয়াম,কোনটাই করা হয়ে ওঠেনা আমাদের দ্বারা।কারণ আমরা আগে থেকেই আমাদের মনকে এভাবেই প্রোগ্রাম করে রেখেছি যে এই কাজটা যদি এখন না করতে পারি তাহলে অনেক বড় একটা ক্ষতি হয়ে যাবে বা কাজটা এখন করতে পারলে অনেক টাকা পাবো। আর এই প্রোগ্রামটা আমাদের করে দিয়েছে আমাদের করে দিয়েছে আমাদের মা-বাবা এবং আমাদের সমাজ।কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে পৃথিবীতে আপনার আয়ু যে ক দিন ছিল তার থেকে কমে অর্ধেক হয়ে যাবে।তাহলে এখন আপনার কি করা উচিত? নিজের মনকে সেট করুন।নিজের মনকে এটা বোঝান যে আপনার শরীরের চাইতে আপনার কাজটা বেশী গূরুত্বপূর্ণ না বরং আপনার কাজটার চাইতে আপনার শরীরটা অনেক বেশী গূরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনার শরীরের জন্যই আপনি বেচে আছেন আর তাই কেবল মাত্র আপনার শরীর ভালো থাকলেই আপনি সব কাজগুলো ভালো ভাবে করতে পারবেন।তখন দেখবেন আপনার খাওয়া-দাওয়া বা ব্যয়ামের মত কাজ গুলো সারবার জন্য যে সময়টুকু দরকার তা খুব সহজে বের হয়ে যাবে।তখন আপনি যতই ব্যস্ত থাকেন না কেনো আপনার মনই আপনাকে এটা মনে করিয়ে দেবে যে এখন খাবার/ব্যয়াম করার সময় হয়ে গেছে এবং আপনার এই কাজ গুলো আপনার কাজের চাইতে অনেক বেশী গুরুত্বপুর্ণ।

এখানে আমরা সুস্থ থাকার কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করেছি যা আপনাকে কিছুটা হলেও সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।

১.কম পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করুন


এটা মেডিক্যালি প্রমাণিত যে যারা কম পরিমাণে খাবার খান তাদের রোগ ব্যাধি অনেক কম হয়।কারণ পরিমাণে কম খেলে আপনার পাকস্থলীতে এ খাবারটা সহজেই হজম হয়ে যায়।কিন্তু শর্ত হচ্ছে পরিমাণে কম খাবার খেলে অবশ্যই একটু সময় পর পর খাবার খেতে হবে।পেট খালি রাখা যাবে না।

২.পানি খাওয়ার অভ্যাস বদলান


আমরা যেখানে সেখানেই দেখি প্রচুর পানি পান করতে হবে। ডাক্তারের কাছে গেলেও দেখবেন ডাক্তার প্রচুর পানি খেতে বলেন।কিন্তু কেউই বলছেন না যে কিভাবে পানি খাবেন।আর এখানেই আমরা একটা বড় ভুল করে বসি। যেমন আমরা কোন কিছু খাবার সময় ঐ খাবারটা খাওয়ার পাশাপাশি পানিও খেয়ে নিই।কিন্তু এটা একটা বড় ভুল।খাবার সময় পানি খাবেন না।মেডিকেল সাইন্স অনুযায়ী পানি খাবার কিছু-নিয়ম কানুন আছে যেগুলো মেনে চললে গ্যাস-টিকের সমস্যা গুলোতে কখনো পড়তে হবেনা।
> সকাল বেলা ঘুম থেকে ঊঠে আধা লিটার থেকে এক লিটার পর্যন্ত পানি পান করুন।
> খাবার খেতে যাবার আধা ঘন্টা আগে পানি খেয়ে নেবেন।এতে খাবার সময় পানি খেতে হবেনা এবং খাবার খুব           সহজে হজম হবে।
> খাবার খাওয়ার ঠিক এক ঘন্টা পরে আবার পানি খাবেন।

৩.চিনি জাতীয় খাবার কম খাবেন


কোমল পানীয় বা জুস এবং যাবতীয় খাবার যেগুলোতে চিনি দেয়া থাকে সেই খাবারগুলো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ চিনি আপনার শরীরের শত্রু।কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি থাকে  যা আপনার শরীরের ওজন বৃদ্ধিতে বিরাট ভূমিকা  রাখে।অথচ সে অনুপাতে চিনিতে কোন পুষ্টি উপাদান (যেমন,আমিষ,ভিটামিন,মিনারেল বা শরীরের জন্য দরকারি ফ্যাট) নেই যা আপনার শরীরের জন্য উপকারী।এছাড়া চিনি দাতের স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক ক্ষতিকর।
কিন্তু যেহেতু চিনি একেবারেই অ্যাভোয়েড করা সম্ভব নয় তাই যতটুকু সম্ভব কম পরিমাণে চিনি খাওয়ার জন্য চেষ্টা করুন।

৪.সুষম খাবার খান


আমরা এখন ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খেতে অনেক অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি।কারণ এখন ট্রেন্ড চলে এসেছে ম্যাকডোনাল্ড, কেএফসি,সাবওয়ে অথবা পিজ্জা হাটের।তরুন প্রজন্ম তো রীতিমত পাগল এসব ফাস্টফুড চেইনের (fastfood chains) নাম শুনলে।আমাদের দেশে মূলত এসবকে স্মার্টনেসের তালিকায় ফেলা হয়। অথচ এতসব বাহারি নামের ফুড গুলো কতটা উপকারী আমাদের শরীরের জন্য তাকি আমরা জানি? স্মার্ট হতে গিয়ে মনের অজান্তে নিজের শরীরের ক্ষতি করে ফেলছিনাতো?
২০১৩ সালের শেষ দিকে ম্যাকডোনাল্ড তাদের ওয়েবসাইটে নিজেদের কর্মীদের নিজেদের তৈরী ফাস্টফুড জাতীয় খাবার এড়িয়ে যাবার কথা বলে যা বিস্তারিত আকারে প্রভাবশালী বার্তা সংস্থা সিএনএন জানায়।বাংলাদেশী পত্রিকা প্রথম আলো সেই সময় সিএনএন এর বরাত দিয়ে এই খবরটি তাদের পত্রিকায় তুলে ধরেছিলো।বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
এছাড়া এই সমস্ত ফাস্টফুড জাতীয় খাবার গুলো যেকারণে এড়িয়ে যাওয়া উচিত তার মধ্যে প্রধান কারণ হল আপনি জানেন না আপনি যে খাবারটি খাচ্ছেন তা তৈরীতে কি কি উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।তাই সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।সুষম খাবার বলতে যে খাবার গুলো খুব সহজে পাওয়া  যায় এবং আমাদের বাসাতেও আমাদের মা-বোনেরা রান্না করে থাকেন।যেমন,বিভিন্ন শাক-সবজি,মাছ,মাংস,ডিম,নানা রকম ডাল,বাদাম,দেশী ফল-মুল,সালাদ ইত্যাদি।তবে অবশ্যই শাক-সবজি জাতীয় খাবার গুলো বেশী পরিমাণে খাবার চেষ্টা করবেন।কারণ এতে প্রচুর আঁশ থাকে যা আমাদের শরীরের পরিপাক ক্রিয়াকে সচল রাখে এবং হজমে সহায়তা করে।
(সামনে একদিন ফাস্টফুডের অপকারীতা এবং উপকারীতা উভয় দিক নিয়ে বিস্তারিত লিখার চেষ্টা করব)

৫.সকালের কাজ ঠিক মত করুন


আমাদের সারাটা দিন কেমন যাবে তার বেশীর ভাগটাই নির্ভর করে আমাদের সকালের কাজ গুলোকে ঘিরে।সকালের কাজ বলতে সকালে যে কাজ গুলো প্রত্যেকটা মানুষেরই করা উচিত সে কাজ গুলোকে বোঝাতে চাচ্ছি।যেমন,সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা,একটু ব্যয়াম করা,একটু জগিং এ যাওয়া,পারলে মেডিটেশন করে নেওয়া।আর এই সব সকালের কাজের সাথে রাতের কিছু কাজ জড়িত।যেমন,রাতে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস গুলোর সাথে সময় নষ্ট না করে বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব (যাবতীয় কাজ শেষ করার পর) দাঁত ব্রাশ করে ঘুমাতে চলে যাওয়া।কারণ এই ধরণের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস গুলো ব্লু-লাইট ছাড়ে যার কারণে আমাদের শরীর মনে করে এখন দিন(যদিও তখন রাত) তাই সহজে ঘুম আসেনা।অনেক সময় এভাবে ভোর ৩টা -৪টাও বেজে যায়।অথচ এটা আমাদের শরীরের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়।কারণ এটা আমরা সবাই জানি যে সুস্থ জীবন পেতে হলে ঘুমের গুরুত্ব কতখানি।তাই ঘুমাতে যাবার অন্তত ১ঘন্টা আগে এসব ডিভাইস গুলো দূরে রাখুন।এতে তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসবে।
নিজের মনস্থির করুন এভাবে যে আপনি ১৪ দিন যেভাবেই হোক রাতে উল্টো পাল্টা কাজ করে সময় নষ্ট করবেন না এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভোরে (৫টা/৬টা) উঠবেন,এরপর জগিং এ যাবেন এবং মেডিটেশন করবেন।১৪ দিন এই রুটিনটা একটু কষ্ট করে হলেও মেনে চললে ১৫ দিনের দিন আপনি নিজেই এর উপকার উপলোব্ধি করতে পারবেন।

৬.বর্তমান নিয়ে ভাবুন


পৃথিবীর বেশীর ভাগ মানুষই ব্যর্থ কেনো জানেন? কারণ পৃথিবীর বেশীর ভাগ মানুষই তাদের অতীত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক বেশী চিন্তিত থাকেন।অথচ আশ্চর্য জনক হলেও এটায় সত্যি যে, যে দুইটা বিষয় নিয়ে মানুষ এত বেশী ভাবে তার ভ্যালু "শুন্য"।বরং এর থেকে জন্ম নেয় স্ট্রেস বা ডিপ্রেশন যা আমাদের সুস্থ থাকতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।কারণ গবেষনায় উঠে এসেছে হার্টের অসুখ,স্থুলতা বেড়ে যাওয়া এমনকি ডায়াবেটিসও স্ট্রেস থেকে হতে পারে(সোর্স)।
অতীতকে আমরা শুধু মাত্র শিক্ষা নেয়ার কাজে ব্যবহার করব এবং আমরা বর্তমানে যা করছি তার ওপরই ভবিষ্যত নির্ভর করছে।তাই এই দুটো বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট করার কোনই মানে হয়না।তাই যতটুকু সম্ভব বর্তমান নিয়ে ভাবুন এবং বর্তমানে যে কাজটি করছেন তার পেছনে সময় খরচ করুন এতে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।
বর্তমানে সময় খারাপ যাচ্ছে বা কোন একটা কাজ করতে পারছেন না ভেবে স্ট্রেস নেবেন না বরং মনকে বোঝান এভাবে যে 'এখন সময় খারাপ যাচ্ছে এবং সব মানুষেরই সময় খারাপ যায় কিন্তু কিছু দিন পর সব আগের মতই ঠিক হয়ে যাবে'।এভাবে দেখবেন আপনার মনের মধ্যে একটা প্রশান্তি কাজ করছে।
বর্তমান নিয়ে ভাবার কথা বলার কারণ হল আমরা বর্তমান নিয়ে ভাবলে আমাদের স্ট্রেস অনেকটায় কমে যায়।কারণ সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই স্ট্রেস ফ্রি থাকাটা বাঞ্ছনীয়।

লিখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন এবং বসন্ত ডট নেট ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন আরো এরকম লিখা পাবার জন্য।লিখাটি পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
সুস্থ থাকার ৬টি বসন্ত কিলার টিপস । কিভাবে সুস্থ থাকবেন । সুস্থ থাকার ৬টি বসন্ত কিলার টিপস । কিভাবে সুস্থ থাকবেন । Reviewed by Rone Ahmed on February 14, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.