কিভাবে একটি গেমিং পিসি বিল্ড করবেন (Making a best budget gaming machine,2018)

গেম পছন্দ করেননা এরকম মানুষ পৃথিবীতে কমই আছেন।ছেলে বয়স থেকে শুরু করে ২৪-২৫ বছর বয়স হয়ে গেছে এরকম গেম পাগলের সংখ্যা বাংলাদেশেও কম নয়।আবার কিছু হার্ডকোর গেমারও আছেন,গেইম খেলাটা যাদের কাছে নেশার মত।আজকে আমরা একটি বাজেট গিমিং পিসি বিল্ড করার চেষ্টা করব।এই পিসি দিয়ে যেকোন গেইম  স্মুথলি হাইফ্রেমে খেলা যাবে এবং আগামী ৩ বছর পর্যন্ত পিসি আপগ্রেড করার চিন্তা মাথায়  আসবেনা কথা দিলাম।
বর্তমানে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লো বাজেট গেমিং সিপিইউ হিসিবে কেবি-লেইক ডুয়েলকোর G4560 বেশ আলোচিত হয়ে আসছে। আর এটি আলোচিত হবার যথাযোগ্য কারনও আছে। কারনটা হলো এটি ডুয়েল কোর প্রসেসর হবার পরেও এর পারফর্মেন্স কোর আই থ্রী ৬১০০ এর প্রায় কাছাকাছি।তাই বাজেট যদি কম থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে পেন্টিয়াম G4560 দিয়ে একটি পিসি বানিয়ে নিতে পারেন।
আজকে আমরা গেমিং পিসি বানাতে কোন এএমডি প্রসেসর ব্যবহার করব না তাই এএমডি ফ্যানরা এতে মন খারাপের কিছু নেই।যেহেতু এএমডি প্রসেসর গুলো বাংলাদেশে তেমন সহজলভ্য না তাই আমরা এটাকে বাদ দিয়েছি।তবে যদি এএমডি(AMD) প্রসেসর দিয়েই পিসিটি বিল্ড করতে চান তাহলে এএমডি রায়যেন ৫ (AMD Ryzen 5 1600) দিয়ে পিসিটি বানিয়ে নিতে পারেন (সাথে একটি AM4 মাদারবোর্ড,আর সব কনফিগার একই)।আমরা এটাকে বাদ দেবার আরো একটা কারণ হলো এটা রিলিজ হয়ে ৯ মাসের মত অতিবাহিত হয়ে গেছে।আর যেহেতু আমরা এমন একটি পিসি বানাব যেটা নিয়ে আগামী ৩ বছর আমরা ভাববো না তাই চেষ্টা করেছি যতটুকু আপডেটেড থাকা যায়।



কোর আই ৫ (৮৪০০)

আমরা পিসিটিতে ইন্টেলের আলোচিত গেমিং প্রসেসর কোর আই ৫ (৮৪০০) ব্যবহার করবো। এর বাজার মুল্য ১৬৫০০ টাকার মত।দাম অনুযায়ি বিচার করলে খুব পাওয়ারফুল পারফর্মেন্স দিয়ে থাকে এই প্রসেসরটি।বাজারে AMD এর প্রসেসরো অনেক জনপ্রিয় গেমিংয়ের জন্য তবে দাম থেকে শুরু করে সব দিক থেকে আমদের কাছে 8th gen. core i5 (8400) কে আমরা এগিয়ে রেখেছি।

গিগাবাইট মেইনবোর্ড

যেহেতু আমাদের চয়েস করা প্রসেসরটি একটি 8th gen. প্রসেসর তাই বাধ্য হয়ে আমাদেরকে Z370 মাদারবোর্ড নিতে হচ্ছে।কারণ 8th gen. প্রসেসর গুলো Z370 মাদারবোর্ড ছাড়া চলবে না।
এখানে অনেকে দ্বিমত করতে পারেন কারণ 7th gen. প্রসেসর এবং মাদারবোর্ড গুলোর দাম অনেক কম (পারফর্মেন্স অনুযায়ি)। সে দিক থেকে বিচার করলে Z370 মাদারবোর্ড গুলো অনেক এক্সপেন্সিভ।আমরা আগেয় বলেছি যেহেতু আমরা পরবর্তী ৩ বছরের কথা মাথায় রেখে পিসিটি বিল্ড করছি তাই ব্যাকডেটেড কোন কিছু ব্যবহার করবো না।তবে বাজেট যদি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় সেক্ষেত্রে 7th gen i5 দিয়ে পিসিটা না বানানোই ভালো হবে। এর চাইতে AMD Ryzen 5 (1600) দিয়ে পিসি বানানোটা অনেক বেটার হবে বলে আমাদের মনে হয়েছে।সেক্ষত্রে সব কিছুই ঠিক থাকবে শুধু মাদারবোর্ডটা এমন নিতে হবে যেটা am4 সকেট সাপোর্ট করবে।
মাদারবোর্ড হিসেবে আমরা Gigabyte Z370 Aorus Gaming 3 মাদার্বোডটি নিয়েছি।কারন বোর্ড তৈরীতে গিগাবাইটের সুনাম বহু আগে থেকে।যারা গিগাবাউটের বোর্ড ব্যবহার করেছেন তাদের অভিজ্ঞতা থাকবার কথা।Asus বা msi এর মধ্যেও নিতে পারেন (পছন্দ অনুযায়ি)।তবে এদের বাইরে না যাওয়াটাই ভালো হবে।বাজারে এই বোর্ডের দাম পড়বে ১৬,০০০ টাকার মত।তবে শোরুম বা দোকান ভেদে দাম কম বেশী হতে পারে।

গ্রাফিক্স কার্ড


গ্রাফিক্স কার্ড হচ্ছে গেমিং পিসির মুল পার্ট। এ নিয়ে একটা প্রবাদ আছে।"যত গুড় তত মিষ্টি!" গ্রাফিক্স কার্ডের পেছনে যত টাকা ঢালবেন গেইম গুলো তত হাই ফ্রেমে খেলা সম্ভব হবে।বাজারে 1080ti গ্রাফিক্সকার্ড গুলোর দাম ১ লাখ টাকার মত।কিন্তু যেহেতু আমরা একটি বাজেট গেমিং পিসি বানাচ্ছি তাই 1080ti GPU আমরা নিতে পারবোনা।সেক্ষেত্রে আমরা 1050ti গ্রাফিক্স কার্ড নেবো, যা আমাদের চাহিদা গুলো ভালোবাবেই পুরণ করতে সক্ষম হবে।বাজারে এর দাম ১৭,৫০০ টাকার মত।বাজেট নিয়ে ঝামেলা থাকলে 1050 নিতে পারেন।তবে এর নিচে না নামাটায় ভালো হবে।কারণ লো-বাজেট জিপিইউ গুলো ভালো ছবি তৈরী করতে পারেনা। তাই গ্রাফিক্স কার্ড থাকলেও পারফর্মেন্স দেখে তখন তা বোঝা যায় না যে পিসিতে আসলেই কোন গ্রাফিক্সকার্ড আছে কিনা।তাই সম্ভব হলে ভালো মানের গ্রাফিক্স কার্ড নেয়ার চেষ্টা করুন।
পিসি বানানোর সময় বাজেটে সমস্যা থাকলে লো বাজেট গ্রাফিক্স কার্ড নিয়ে কয়েক মাস পরে আবার ভালো মানের গ্রাফিক্স কার্ড নিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া বিক্রয় ডট কমেও খোজ রাখতে পারেন কারণ অনেক সময় টাকার প্রয়োজনে অনেকেই কম দামে ভালো গ্রাফিক্স কার্ড বিক্রি করে দিতে চায়।তবে চেনা জানা না হলে কম্পিউটার এক্সেসোরিজ গুলো পুরাতন না কেনায় ভালো।
আমাদের রিকমেন্ডেশনঃZotac GeForce GTX 1050 Ti 4GB OC Edition.এছাড়া msi,Asus অথবা Gigabyte এরও গ্রাফিক্সকার্ড নিতে পারেন।

র‍্যাম (মেমোরি)

যেহেতু কোর আই ৫ দিয়ে আমরা পিসি বানাচ্ছি তাই ভালো স্পীড পেতে গেলে অবশ্যই ১৬ জিবি র‍্যাম নিতে হবে।তাছাড়া আমরা প্রসেসরটি পুরোপুরিভাবে ব্যবহার করতে পারবোনা।
র‍্যামের ক্ষেত্রে কোরসেয়ার একমাত্র ভরসা।এছাড়া জিস্কিল,পিএনওয়াই,এডাটা,কিংস্টোন এর যে কোন একটা নিয়ে নিতে পারেন।সার্ভিস একই।বাজারে কোরসেয়ারের ১৬ জিবি র‍্যাম নিতে ১৫,০০০ টাকার মত লাগবে।

এসএসডি

এটা আধুনিক যুগ তাই আমরা হার্ডডিস্কের প্লেটের ঘুর্নোন থেকে বেরিয়ে আসবো।এছাড়া যেহেতু হার্ডডিস্ক গেম বুট করতে অনেক সময় নেয় তাই SSD হচ্ছে আদর্শ চয়েস গেমিং পিসির জন্য। এতে গেম বুট হতে বা পিসি অন/অফ হতে তেমন সময় লাগবেনা।তাই SSD অবশ্যই রাখতে হবে। বাজেট কম থাকলে ১২০ জিবি SSD সি ড্রাইভ হিসিবে ব্যবহার করতে পারেন এবং ৪০০০ টাকা দিয়ে ১ টেরা ভালো মানের একটি হার্ডডিস্ক নিয়ে রাখতে পারেন।
ক্রুশিয়ালের SSD গুলো কম বাজেটে অনেক ভালো সার্ভিস দিয়ে থাকে তবে এটা বাংলাদেশে খুব কম পাওয়া যায়,তাই যদি পেয়ে যান নিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া এডাটা,ট্রান্সেন্ড,প্লেক্সটোর,পিএনওয়াই এর যে কোন একটা নিয়ে নিতে পারেন।দাম ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০০ থেকে ৫৫০০ টাকা পড়বে।

পাওয়ার সাপ্লায় ইউনিট

ভালো পিসির জন্য ভালো একটি পাওয়ার সাপ্লায় অবশ্যই প্রয়োজন। আমরা এক্ষেত্রে কোরসেয়ার এর ৫৫০ওয়াট পাওয়ার সাপ্লাই নিয়েছি।এর দাম ৫০০০ টাকার মত পড়বে।কোরসেয়ার ভালো না লাগলে থার্মাল্টেক,কুলারমাস্টার,এন্টেক এর পাওয়ার সাপ্লায় গুলো দেখতে পারেন।তবে অবশ্যই কম দামী পাওয়ার সাপ্লাই গুলো ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন কারণ এগুলো খুব কম সময়ে এবং খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যায়।

চেসিস/কেসিং

ভালো মানের একটি কেসিং ব্যবহার করতে হবে।কারণ এই কেসিংয়ের ভেতরেয় আপনার সব দামী এক্সেসোরিজ গুলো থাকবে। যত টুকু সম্ভব বড় এবং ফাপা কেসিং কিনবেন। বাজারে ৫০০০ - ৭০০০ টাকার মধ্যে অনেক ভালো কেস পেয়ে যাবেন,পছন্দ মত একটি কিনে ফেলুন।
কোর আই ৫ (৮৪০০) এর স্টক কুলিং বেশ ভালোই সার্ভিস দিয়ে থাকে তবে সমস্যা মনে করলে কুলার মাস্টারের Hyper 212 evo কুলারটি নিয়ে রাখতে পারেন। এর দাম ২২০০ টাকার মত পড়বে।এছাড়া এক্সট্রা কুলারের তেমন একটা প্রয়োজন পড়বেনা,কারণ কেসের সাথে যে কুলারটা থাকবে তা দিয়েই কাজ চলে যাবার কথা।তবে বাজেট নিয়ে ঝামেলা না থাকলে নিয়ে রাখা ভালো।কারণ আপনার হার্ডওয়্যার গুলো যত ঠান্ডা থাকবে তত ভালো সার্ভিস দিতে পারবে এবং নষ্ট হবার ঝুকিও কম থাকবে।

মনিটর

কম দামের মধ্যে ভালো মনিটর পাওয়া একরকম দায় সাধ্য ব্যাপার।এদিক থেকে আমরা রিকমেন্ট করছি ASUS VX229HJ/VZ229H 22'' মনিটর। বাজারে এর দাম ১২,২০০ টাকার মত। বাজেট কম থাকলে ডেল/এসারের মনিটর গুলো দেখতে পারেন।কম বেশী প্রায় সব গুলোই ভালো হবে।তবে গেমিং এর জন্য ২২ ইঞ্চির নিচে মিনিটর না নেয়াই ভালো।

এছাড়া গেমিং কিবোর্ড-মাউস এবং হেডসেটের জন্য আমরা ৫০০০ টাকা রেখেছি।আশা করছি এই বাজেটের মধ্যেই আপনার এইসব এক্সেসোরিজ গুলো হয়ে যাবে।
এই পিসিতে আমরা কোন সিডি রোম রাখছিনা কারণ এখন আর এসবের তেমন একটা দরকার পড়ে না।তবে খুব বেশী প্রয়োজন মনে হলে একটা সিডি রোম নিয়ে নিতে পারেন,দাম ১,১০০ টাকার মত।

Total:1,00,000/-

পিসিটা যদি ১ বছর বা দেড় বছর পরে আপগ্রেড করার ইচ্ছা থাকে তাহলে কোর আই ৫ (7th gen.) দিয়ে নিঃসন্দেহে পিসিটা বানিয়ে নিতে পারেন। এতে একই না হলেও প্রায় কাছকাছি পারফর্মেন্স পাবেন।

যদি বাজেট কম থাকে তবে কোর আই থ্রী (8th gen.) দিয়ে একটি পিসি বিল্ড করে নিতে পারেন।সেক্ষত্রে ৮ জিবি র‍্যাম রাখলেই হবে।গ্রাফিক্স কার্ড gtx 1050ti এর জায়গায় gtx 1050 অথবা gtx 1030 (বাজেট অনুযায়ি) দিয়েও পিসি তৈরী করে নিতে পারেন।আর ভুলেও নেটে বিভিন্ন রিভিউ দেখে ডুয়েল কোর দিয়ে গেমিং পিসি বিল্ড করার চিন্তা মাথায় নিয়ে আসবেন না।কারণ ঐটা ডুয়েল কোর সিপিইউ তাই ঐটার ইন্টীগ্রেটেড গ্রাফিক্স ততটা উন্নত নয়।
এবং অবশ্যই গেমিং লেপটপ কেনা থেকে দূরে থাকুন।যদি গেম খেলার জন্যই পিসি নিতে চান তাহলে ডেস্কটপ পিসি বানাতেই হবে।অন্যথায় গেমিং লেপটপ কিনলে কিছু দিন পর আফসোস করতে হবে।

N.B. এখানে আমরা যে কনফিগারটি দিয়েছি আপনাকে যে এভাবেই পিসিটি বিল্ড করতে হবে এমন কোন কথা নেই।আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ি কনফিগারটি কম বা বেশী করে নিজের চাহিদা মত পিসিটি বানিয়ে নিতে পারেন। সমস্যা হলে বসন্ত ডট নেটের ফেসবুক পেজের ম্যাসেজ অপশন থেকে ম্যাসেজ করুন অথবা কমেন্ট করুন,আমরা আমাদের জায়গা থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করব।
কিভাবে একটি গেমিং পিসি বিল্ড করবেন (Making a best budget gaming machine,2018) কিভাবে একটি গেমিং পিসি বিল্ড করবেন (Making a best budget gaming machine,2018) Reviewed by Rone Ahmed on January 28, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.