Header Ads

test

যারা নতুন কম্পিউটার কেনার কথা ভাবছেন । (ডেস্কটপ নাকি ল্যাপটপ) । How to buy a pc । PC buying guide in bangla

যদিও এটা স্মার্টফোনের যুগ কিন্তু তারপরেও কম্পিউটার বা পিসির ব্যবহার যেন কমছেই না।কারণটা খুব সহজ।আমরা পিসিতে যে কাজ গুলো করতে পারি স্মার্টফোন গুলো এখনো সেটা করে দেবার মত পর্যায়ে যেতে পারেনি। পিসিতে করা যায় এমন হাতে গুনা কয়েকটি কাজ এখনকার সময়ের স্মার্টফোন গুলো করে দিতে পারে আর বেশীর ভাগ কাজ গুলো (যেমন,হাই রেজুলেশন ভিডিও এডিটিং,ভিএফএক্স বা হার্ডকোর গেমিং) করে দিতে পুরোপুরি অক্ষম বললে ভুল হবেনা।তবে বর্তমান সময়ে স্মার্ট ডিভাইস গুলো প্রতিনিয়ত যেভাবে আপগ্রেড হচ্ছে তাতে আন্দাজ করা যায় যে সেই দিন থেকে আমরা আর বেশী দূরে নেই যে দিন আমাদের পিসির সব কাজ গুলো স্মার্টফোন গুলো করে দিতে সক্ষম হবে।

আমরা পিসি কিনতে যাবার আগে সবার আগে যে প্রশ্নের সম্মুক্ষীন হই তা হচ্ছে কি পিসি কিনলে ভালো হবে? ডেক্সটপ পিসি নাকি ল্যাপটপ পিসি? অনেকেই আছেন যারা পিসি কিনতে যাবার আগে এটা নিয়ে প্রচুর কনফিউজড হয়ে পড়েন এবং এটা নিয়ে অনেকের কাছে জানতে চান এবং ঐ জান্তারা একেকজন একেক রকম যুক্তি দিয়ে কনফিউজড হয়ে পড়া লোকটিকে বোঝান যে আসলে কোন ধরনের পিসি নিতে হবে।এছাড়া অনেকে আবার এটা নিয়ে নেটে খোজা খুজি করতে শুরু করেন।কিন্তু সত্যি কথা বলতে এ বিষয়টা নিয়ে এত মাথা ঘামানোর মত কিছুই নেই। আপনার ল্যাপটপ পিসি কেনা উচিত নাকি ডেস্কটপ পিসি কেনা উচিত তা বোঝার জন্য আপনি কি কাজে পিসিটি কিনতে চান সেটা ভাবুন। যদি দরকারটা এমন হয়ে থাকে যে পিসিটি নিয়ে আপনাকে এখানে ওখানে যেতে হতে পারে তাহলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ল্যাপটপের বিকল্প কিছু নেই কারণ এটি পোর্টেবল।আর যদি বাসার জন্য নিতে চান তবে ডেস্কটপ নেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে কারণ ডেস্কটপের অনেক সুবিধা আছে ( ডেস্কটপ পিসির প্রত্যেকটা এক্সেসিরিজ বা পার্টস পরিবর্তন করা যায়,রাফ ইউজ করা যায়) যা ল্যাপটপ দিতে পারবেনা।



এবারে একটা খুব সাধারণ প্রশ্ন নিয়ে কথা বলব। আর তা হল "আসলে ল্যাপটপ ভালো নাকি ডেস্কটপ ভালো?"
এই দন্দটা অনেকটা ক্যামেরা নির্মাতা দুই জায়ান্ট ব্র্যান্ড ক্যানোন এবং নিকোনের মত।যারা ক্যানোন ক্যামেরা ব্যবহার করেন তারা বলেন ক্যানোন ভালো আবার যারা নিকোন ক্যামেরা ব্যবহার করেন তার বলেন নিকোন ভালো।আসলে দুইটা ব্র্যান্ডই অনেক নাম করা, কেউ কারো চাইতে কম যায় না। তবে এক্সপার্টরা বলে থাকেন ভিডিওর জন্য ক্যানোন এবং ফটো শ্যুটের জন্য নিকোন ভালো।
এবারে আলোচনাই ফিরে আসি।একই কনফিগের একটি ল্যাপটপ এবং একই কনফিগের একটি ডেস্কটপের মধ্যে পারফর্মেন্স বিচার করলে ডেস্কটপ অনেক এগিয়ে থাকবে ল্যাপটপের চায়তে। কারণ ল্যাপটপ অল্পতেয় গরম হয়ে যায় আর গরম হয়ে গেলে হ্যাং করা শুরু করে। কারণ ল্যাপটপের ভেতর স্পেস খুব কম থাকে সে জন্য এর কুলার ভালোভাবে কাজ করতে পারেনা।।অন্যদিকে ডেস্কটপ যেহেতু অনেক ফাপা এবং এর কুলিং ভালোভাবে কাজ করতে পারে তাই এটি তেমন গরম হয়না।
ডেস্কটপের চাইতে পারফর্মেন্সের দিক দিয়ে ল্যাপটপ পিছিয়ে পড়ার আরেকটি মুল কারণ হল ল্যাপটপ পাওয়ার এফিসিয়েন্সি (যেহেতু এটি সরাসরি বিদ্যুতে চলছেনা,ব্যাটারিতে চলছে)।এক্ষেত্রে ল্যাপটপের প্রসেসর বা অন্যান্য পার্টস গুলো পুরোপুরিভাবে প্রয়োজনীয় সবটুকু পাওয়ার খরচ করতে পারেনা এবং ল্যাপটপের প্রসেসর গুলোকে আন্ডার ক্লক করে রাখা হয় যাতে করে ল্যাপটপের ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশী পাওয়া যায়।তাই যখনই কোন ভারী কাজ বা গেমিংয়ের জন্য পিসির দরকার পড়বে অবশ্যই ডেস্কটপ পিসি নেবেন।তবে বাজারে গেমিং ল্যাপটপও পাওয়া যায় এখন, কিন্তু সেগুলোর দামও আকাশ ছোয়া (লাখের ওপরে)। কিন্তু এতো দাম দিয়ে গেমিং ল্যাপটপ কেনার পরেও এর পারফর্মেন্সে সন্তুষ্ট হওয়া যাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই।অথচ ঐ ধরনের বাজেটে একটি হাইএন্ড গেমিং পিসি বিল্ড করা সম্ভব যার পারফর্মেন্স নিয়ে আপনাকে মোটেও ভাবতে হবেনা।
এছাড়া ল্যাপটপের লাইফটাইমও কম বলা যায় ডেস্কটপ পিসির সাথে তুলনা করলে।কারণ একটি ভালো মানের ল্যাপটপ খুব বেশী হলে ৩-৪ বছর ব্যবহার করা যায় কিন্তু তার পরে ব্যাকডেটেড মনে হয়।অন্যদিকে ডেস্কটপ পিসির ক্ষেত্রে যেহেতু এটিকে প্রতিনিয়তই আপগ্রেড করার সুযোগ থাকছে তাই এটিকে মোটেও আউটডেটেড মনে হবেনা।
তাই আপনার যদি প্রয়োজনটা একটু ছোটখাট হয় (যেমন গান শোনা,মুভি দেখা,নেট ব্রাউজ করা,ভার্সিটির এসাইন্মেন্ট তৈরী করা,মাইক্রোসফট অফিসের কাজ করা) তবেই ল্যাপটপ নেয়া উচিত।এছাড়া অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে ডেস্কটপ চয়েসে রাখুন ভালো আউটপুটের জন্য।



কোন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ কিনবেন



খুব কমন একটা প্রশ্ন শোনা যায় যে কোন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ ভালো।আসলে কোন একটা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সব গুলো ল্যাপটপ ভালো হয় না।তাই ব্র্যান্ড চয়েস করে ল্যাপটপ কিনে ফেললে পরে পস্তাতে হতে পারে।এক্ষেত্রে চিন্তার কিছু নেই, ব্র্যান্ডটির সিরিজ দেখে ল্যাপটপ কিনতে পারেন কারন প্রত্যকটা ব্র্যান্ডেরই জনপ্রিয় কিছু সিরিজ থাকে যে গুলো মার্কেটে জনপ্রিয়তা পায়। তবে সব চায়তে ভালো হয় নেটে কোন ল্যাপটপের রিভিউ দেখে ল্যাপটপ কিনতে পারলে।এছাড়া বসন্ত ডট নেটের কাছ থেকেও এসব বিষয়ে সাজেশন নিতে পারেন।সাজেশন নিতে আমাদের ফেসবুক পেজে্র মেসেজ অপশনে গিয়ে মেসেজ করুন।



কিভাবে ডেস্কটপ পিসি কিনবেন
এ বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যেয় অনেক বড় বড় পোস্ট লিখা হয়ে গেছে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে,তাই আমরা এ লিখাটাকে খুব বেশি দীর্ঘ করবোনা।
আমরা বেশীরভাগ মানুষই কোন কিছু বোঝার আগেয় সরাসরি দোকানে গিয়ে একটা ডেস্কটপ কিনে ফেলি। এর পর কয়েক দিন পিসি নিয়ে খুব সন্তুষ্ট থাকি।কিন্তু ধীরে ধীরে যখন আমরা আমাদের চাহিদা বুঝতে পারি এবং দেখি সে অনুযায়ী আমাদের পিসিটা হয় নি তখন খুব আফসোস করতে হয়।কিন্তু তখন কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা।তাই সবার আগে এটা বোঝার চেষ্টা করুন আপনি কোন কাজের জন্য ডেস্কটপ কিনতে চান তারপর সে অনুযায়ী কনফিগার বানানোর চেষ্টা করুন।যেমন,যদি আপনার প্রয়োজনীয়তা দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে ইন্টেলের (আমরা ইন্টেলের প্রসেসর রিকমেন্ড করছি,আপনি চাইলে এএমডি(AMD)  এর প্রসেসর নিতে পারেন) পেন্টিয়াম ডূয়েল কোর প্রসেসর নিলেয় যথেষ্ট।আবার যদি হালকা ফটোশপ বা হালকা গেম খেলতে চান তাহলে কোর আই ৩ নিতে হবে। যদি পুরো পিসিই গেমিং বানাতে চান তাহলে কমপক্ষে কোর আই ৫ (কোর আই ৭ নিলে আরো ভালো) নিতে হবে(এটি দিয়ে আপনি ভিডিও এডিটিং এর মত কাজ গুলোও ভালো ভাবে করতে পারবেন)। তবে ভিএফএক্সের মত কাজ করতে চাইলে অবশ্যই কোর আই ৭ প্রসেসর ব্যবহার করতে হবে। হার্ডকোর গেমারদের জন্যও কোর আই ৭ প্রথম পছন্দ।তাই গেম যদি আপনার মুল লক্ষ্য হয়ে থাকে তবে কোর আই ৭ দিয়ে পিসি বিল্ড করুন।এতে হয়ত আপনার খরচ কিছু বেশী পড়বে কিন্তু পারফর্মেন্স নিয়ে শান্তি পাবেন।
ডেস্কটপ পিসি বিল্ড করার সময় মাদারবোর্ডের দিকে নজর দেবেন। গিগাবাইট,আসুস অথবা এমএসআই(msi) এর মাদারবোর্ড গুলো নিতে চেষ্টা করুন কারণ এগুলো সেরা মাদারবোর্ড নির্মাতা ব্র্যান্ড।
বর্তমান যুগে ৪ জিবি র‍্যাম আদর্শ বলা যায়।তাই কমপক্ষে চার জিবি র‍্যাম মেমোরি কেনার চেষ্টা করুন।এর ওপরে যত নিতে পারেন ততই ভালো।কোরশেয়ার,জিস্কিল,এডাটা অথবা পিএনওয়াই(PNY) এর র‍্যাম গূলো ভালো সার্ভিস দিয়ে থাকে।
সেগেট,তোশিবা অথবা ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ নিতে পারেন।তবে যেহেতু এখন এসএসডির যুগ তাই বাজেট বেশী থাকলে এসএসডি (SSD-Solid state Drive) নিন,এতে পিসি অনেক ফাস্ট হবে।এক্ষেত্রে বাজেট কম থাকলে ১২০ জিবি এসএসডি লাগাতে পারেন সি ড্রাইভ হিসেবে এবং আপনার পিসির স্টোরেজ হিসেবে হার্ড ডিস্ক ব্যবহার করতে পারেন। সি ড্রাইভটি এসএসডি হবার কারণে পিসি ফাস্ট হবে। তবে বাজেট কম থাকলে শুধু হার্ড ডিস্ক নিলেয় যথেষ্ট।
গেমিংয়ের জন্য অথবা গ্রাফিক্সের কাজের জন্য পিসি বিল্ড করলে অবশ্যই গ্রাফিক্স কার্ড নিতে হবে। এর জন্য এনভিডিয়া (Nvidia) একমাত্র ভরসা।
কেসিংঃস্পেস/থার্মাল্টেক/কুলার মাস্টারের কেসিং নিতে পারেন। এসব ব্র্যান্ডের কেসিং গুলো বেশ মজবুত হয়।তবে পছন্দ মত বড় এবং ফাপা কেসিং কিনুন এতে কেসিংয়ের ভেতরটা কম গরম হবে।
পাওয়ার সাপ্লায়ঃ থার্মাল্টেক অথবা কুলার মাস্টারের পাওয়ার সাপ্লায় নিতে পারেন কারণ এগূলো কয়েক বছর চলে যায়।ডুয়েল কোর প্রসেসর হলে এতো দামী পাওয়ার সাপ্লায় না লাগালেও চলে। তbe লাগানো ভালো,এতে আপনার মাদারবোর্ড,র‍্যাম এবং অন্যান্য এক্সেসিরিজ গুলো ভালো থাকবে।কারণ কেসিংয়ের সাথে যে পাওয়ার সাপ্লায় দেওয়া হয়ে থাকে তা অনেক নিম্ন মানের।
অপ্টিকালঃডিভিডি রোম না নিলেও চলে। তবে ইচ্ছে হলে আসুস বা স্যামসাং এর মধ্যে যে কোন একটা ডিভিডি রোম নিতে পারেন।
মাউস/কিবোর্ডঃকম বাজেটের মধ্যে A4tech, বাজেট বেশি হলে Logitech।

নোটঃ চেষ্টা করবেন কোন পরিচিত শোরুম থেকে পিসি বিল্ড করতে কারণ এতে এক্সেসিরিজ বা পার্টস গুলো অরিজিনাল হবে।


সময় নিয়ে লিখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

No comments