Header Ads

test

বাজেট অনুযায়ী বর্তমান বাজারের সেরা কিছু স্মার্টফোন (১ম পর্ব)

২০১৭ সাল শেষ । সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা, আপনাদের মনের মত কাটুক ২০১৮ সাল। আজকে আমরা বসন্তবাংলার পাঠকদের কাছে বাজেট অনুযায়ী বর্তমান বাজারের সেরা কিছু স্মার্টফোন নিয়ে আলোচনা করব। কারণ অনেক সময় দেখা যায় খুব শখের বসে বড় বাজেটে সুন্দর দেখে একটা ফোন কিনেও সন্তুষ্ট হতে পারা যায় না শুধু মাত্র এর পার্ফর্মেন্সের ঘাটতির কারণে।সে জন্য বাজেট অনুযায়ী বর্তমান বাজারের এমন কিছু ফোন বাছায় করে আমাদের লিস্টে নিয়ে এসেছি যা কিনলে আশা করা যায় আপনাকে পরে এ নিয়ে আফসোস করতে হবেনা।
শুরুতেয় আমরা কিছু বেসিক ডিভাইস নিয়ে আলোচনা করব। কারণ স্মার্টফোনের যুগে এলেও বেসিক ফোন এখনো অনেকেরি পছন্দের শীর্ষে থাকে অতিরিক্ত একটা ফোন হিসেবে। আর এটার মূল কারণ হল স্মার্টফোনের ব্যাটারি ড্রেইনেজ প্রব্লেম।



সেরা বেসিক ফোন
বাজেট অনুযায়ী আমাদের কাছে সেরা বেসিক ফোনের তালিকায় সবার আগে স্থান পেয়েছে samsung guru music 2. ফোনটা দেখতে খুব বেশি আকর্ষণীয় নয় । কিন্তু তারপরেও এটি অনেক আগেই বাজারে সাড়া ফেলে দিয়েছে কেবলমাত্র এর ভালো সার্ভিস এবং শক্ত বিল্টকুয়ালিটির কারণে। এছাড়াও এর দামটাও অনেকটাই হাতের নাগালে (মাত্র ১৮০০/-)।কিন্তু এত কম প্রাইজ হবার পরেও ফোনটি mp3,mp4 (micro SD card enabled) এবং Fm radio এনাবল্ড। আর কথা বলার জন্য এই প্রাইজ রেঞ্জে আদর্শ ডিভাইস বললে ভুল হবেনা।তবে এর কোন ক্যামেরা নেই।
আর যদি নকিয়া ভক্ত হয়ে থাকেন তবে নিয়ে ফেলতে পারেন Nokia 130. দামটা প্রায় কাছাকাছি (২১০০ টাকার মত)। তবে এই দুইটা ডিভাইসের মধ্যে আসল পার্থক্য হল নকিয়া ১৩০ ক্যামেরা এনাবল্ড ফোন। সে জন্য এতে হাল্কা ছবি এবং ভিডিও করার সূযোগ থাকবে যা গুরু মিউজিক ২ এ থাকছেনা।এছাড়া নকিয়া ১৩০ ডিভাইসটির লুক বেশ স্মার্ট গুরু মিউজিক ২ এর চাইতে।ডিভাইস দুইটির (Guru music 2 & Nokia 130) ব্যাটারি ব্যাকআপও সন্তোষজনক।

এর পর আপনি যদি একটু ফেইসবুক প্রিয় হয়ে থাকেন তাহলে চয়েস হতে পারে নকিয়া ২১৬। যদিও Nokia 216 একটি বেসিক ফোন কিন্তু এতে ফেইসবুক এবং ম্যাসেঞ্জার app দুইটি বিল্ট-ইন দেওয়া আছে, জাভা সুবিধা থাকবার কারণে আরও apps/games ইন্সটল করতে পারবেন। এছাড়া রেয়ার ক্যামেরা দেয়ার পাশাপাশি এতে দেয়া হয়েছে একটি সেলফি ক্যামেরা ফ্ল্যাশ সহ ( যুগ হিসেবে ক্যামেরার মান অচল কিন্তু দাম হিসেবে ঠিক আছে ) ।ফোনটি দেখতেও বেশ স্মার্ট এবং এর ব্যাটারি পার্ফমেন্সও সুন্দর। দাম ৩১০০টাকার আশেপাশে।
এছাড়া আর যে ফোনটি চয়েসে রাখতে পারেন তাহল নকিয়া ৩৩১০ (২০১৭)। যদিও অনেকেই একে এড়িয়ে যান এর চড়া দামের কারণে । কিন্তু সত্যি বলতে ফোনটা আসলেই খুব সুন্দর।এর গ্লোসি ফিনিশিং, পেছনের ফ্ল্যাশ লাইট এবং এর বাটনগুলো এর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয় ফোনটি অতিরিক্ত মজবুতও এবং নকিয়া এতে একটি ক্যামেরাও দিয়েছে যদিও এর আগের 3310 (2000) এ এসব কিছুই ছিলনা। তবে এর উইক পয়েন্ট হল এটি mp4 টাইপ ভিডিও প্লে করতে পারেনা এবং এর মাল্টিমিডিয়া স্পিকারটির কুয়ালিটিও সন্তোষজনক নয়।শুধু মাত্র কথা বলার জন্য ফোনটি আদর্শ হতে পারে কারণ এটি খুব একটা গরম হয়না লম্বা সময় ধরে কথা বললেও।আর এর ব্যাটারি ব্যাকআপও খুব সুন্দর। হাল্কা ব্যাবহারে প্রায় ৭ দিন মত চার্জ থাকে। তবে গান শোনা বা এফএম রেডিও চালালে ৩-৪ দিন ( চালানোর ওপর নির্ভর করে) অনায়াসে চলে যায়। এর আরেকটি গরিব সাইড হল এর 2G কানেক্টিভিটি। দাম ৪৫০০/-।



সেরা স্মার্টফোন (বাজেট অনুযায়ী)


Xiaomi redmi 4x



বাজারে রেডমি ৪এক্সের দাম এখন ১২ হাজার টাকার আশেপাশে। স্থান ভেদে দাম কম বা বেশি হতে পারে। আপনারা হয়ত ভাবতে পারেন ১০ হাজারের নিচে এত চায়না ডিভাইস থাকতে সরাসরি ১২হাজার টাকায় কেন? সত্যি বলতে ১০ এর নিচে যে স্মার্টফোন গুলি বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যায় এদের বেশিরভাগটায় বেশ দূর্বল প্রকৃতির।নতুন অবস্থায় কয়েকদিন ভালো লাগলেও এর পর আর ভালো লাগেনা।এছাড়া এগুলোর বিল্টকুয়ালিটি থেকে শুরু করে  ক্যামেরা অথবা গেমিং এক্সপেরিয়েন্সো খুব খারাপ।তাই চেষ্টা করবেন ১০এর ওপরে বাজেট রাখতে এতে করে একটু লম্বা সময় ডিভাইসটি ব্যবহারের সুযোগ অনেকখানি বেড়ে যাবে।
কম মূল্যে ভালো ডিভাইস বাজারে ছাড়ার জন্য শ্যাওমির সুনাম রয়েছে। রেডমি সিরিজের এই ডিভাইসটি হাতে নিলেও আপনি এই কথার সাথে একমত হবেন। দাম হিসেবে ডিসপ্লে,বিল্ট,ক্যামেরা, গেমিং পারফর্মেন্স এমনকি ব্যাটারিও আপনাকে সন্তুষ্ট করবে।।তাই ১২ হাজারের (২জিবি/১৬জিবি) মত বাজেট হলে কিনে ফেলতে পারেন redmi 4x.এটি মোট তিনটি ভেরিয়েন্টে ( ২/১৬,৩/৩২,৪/৬৪) বাজারে পাওয়া যায়।



Xiaomi redmi note 4



এই ডিভাইসটির বর্তমান বাজার মূল্য ১৫ হাজারের(৩/৬৪) মত।রিলিজ হয়ে প্রায় একবছর হয়ে গেছে কিন্তু তার পরেও এটি আমাদের লিস্টে জায়গা পাবার কারন হল এর অসাধারন পারফর্মেন্স। এটিতে শ্যাওমি ব্যাবহার করেছে স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ এর মত চিপসেট।তাই ল্যাগ কি জিনিস তা বুঝতে পারবেননা মোটেও। গেমিং এর জন্য কম বাজেটে এর বিকল্প এখন পর্যন্ত মার্কেটে আর কেউ নাই। বাজেট ডিভাইস হিসেবে এর ক্যামেরা আউটপুটও অসাধারণ। তবে এর দূর্বল দিক হল এর বিল্ট । বিল্ট নিয়ে যদি কোন কমপ্লেইন না থাকে তাহলে ১৫ হাজারে note 4 পার্ফেক্ট বিস্ট বলা চলে।



iphone 5s



আইফোন পছন্দ করেন না এমন মানুষ এখনকার সময়ে খুজে পাওয়া ভার। তবে বাজেট মুল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় । কারণ আইফোন মানেই আকাশ ছোয়া মুল্য।কিন্তু ঢাকার বসুন্ধরা সিটিতে কিছু মোবাইলের দোকানে পেয়ে যেতে পারেন আইফোন ৫এস তাও আবার ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে।তবে কেনার আগে অবশ্যই এমন কাউকে সাথে নেবেন যিনি অরিজিনাল আইফোন চেনেন।কারন বাজারে এখন নকল আইফোন অনেক।
iphone 5s নিতে আমরা খুব একটা রিকমেন্ট করছি না কারন এটা অনেকটাই ব্যাকডেটেড হয়ে গেছে ।এছাড়া চার্জ নিয়েও খুব একটা সন্তুষ্ট থাকতে পারবেন না।তবে সব কিছু মিলিয়ে এভারেজ বলা যায়। যদি আইফোন ব্যাবহারের সাধ মেটাতে চান তবে কিনে ফেলতে পারেন।তবে বাজেট যদি ২৫ হাজারের মত হয় তবে কিনে ফেলতে পারেন iphone se.
আইফোন ৫এসের চায়তে এটি অনেক বেটার হবে। ৫এসের চায়তে ব্যাটারিও বেশি দেয়া হয়েছে এতে। ক্যামেরাটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারবেন আইফোন এসইর।কারন আইফোন ৬ এ ব্যবহৃত ক্যামেরা সেন্সরটি iphone SE তেও ব্যবহৃত হয়েছে।এর প্রসেসরও অনেক শক্তিশালী। তাই বাজেট ২৫ এর মত থাকলে iphone se মন্দ চয়েস হবেনা।


samsung galaxy s6


ক্যামেরা,পারফর্মেন্স,গেমিং সব দিক দিয়েই এখনো পুরোপুরি ফিট স্যামসাংয়ের ২০১৫ সালের এই ফ্লাগশিপ ডিভাইস। আর সব চেয়ে বড় খবর হচ্ছে এই ডিভাইস খুব শীঘ্রই এন্ড্রয়েড ৮.০ (ওরিও) আপডেট পেতে যাচ্ছে। সুতরাং ২০১৫ সালের ফোন হবার পরেও নতুন ওএস এর কারনে আপনার মনে হবে আপনি ২০১৮ সালেরই কোন ডিভাইস ইউজ করছেন। তাই বিনা দ্বিধায় কিনে ফেলতে পারেন এই ডিভাইসটি। বসুন্ধরাতে ১৬ হাজারের (৩২জিবি) মধ্যেই ইন্টেক্ট S6 পেয়ে যাবেন আশা করছি এবং আমাদের মতে সঠিক value for money হবে।সাথে আই আর ব্লাস্টার থাকছে যা কিনা এস৭ বা এস ৭ এজেও নেই।তবে এতে কোন মেমোরি কার্ড এক্সপ্যান্ড করার সূযোগ নেই এবং ব্যাটারি কম হবার জন্য চার্জ একটু কম থাকে।ক্যামেরা ওপেন করলে ডিভাইসটি অল্প একটু হিট হয় তবে এসব তেমন কোন মেজর সমস্যা করবেনা।



Huawei Honor 6X



বাংলাদেশের বাজারে এই ডিভাইসটির প্রাইজ ২০ হাজারের মত। যদিও হুয়াওয়ের দাবি এটি এই বাজেটে পার্ফেক্ট ক্যামেরা ফোন কিন্তু moto g4plus এর চেয়েও ভালো মানের ছবি তুলতে পারে।তবে যেহেতু G4plus এর হিটিং ইশ্যু আছে সে দিক থেকে honor 6x এগিয়ে থাকবে।এছাড়া ডিভাইসটিতে যেহেতু হুয়াওয়ের নিজিস্ব কিরিন চিপ ব্যাবহার করা হয়েছে যা কিনা পাওয়ার এফিসিয়েন্ট চিপ তাই ব্যাটারি ব্যাকআপও ভালো পাওয়া যায়।নরমাল ইউসেজের জন্য সব ঠিক আছে কিন্তু গেমিংয়ের জন্য এটি না নেওয়ায় ভালো হবে কারন এতে ব্যাবহৃত Mali-T830MP2 একটি ডুয়েল কোর জিপিইউ ।



Xiaomi mi a1




বাজেট ২০ এর মত হলে নির্দিধায় নিয়ে ফেলতে পারেন।এর সব চায়তে বড় প্লাস পয়েন্ট হল এটি ওরিওসহ ওরিও পরবর্তি একটি আপডেট পাবে এবং ওভারঅল সব দিক থেকেয় পার্ফেক্ট (বাজেট অনুযায়ী)।আরো জানার জন্য আমাদের রিভিউ দেখতে পারেন এখানে ।



এই ছিলো আজকের মত। খুব শীঘ্রই বাজেট অনুযায়ী বর্তমান বাজারের সেরা কিছু স্মার্টফোন এর ২য় এবং শেষ পর্ব নিয়ে হাজির হব সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন। এই লিখা সম্পর্কিত যে কোন বিষয় নিয়ে জানতে অথবা জানাতে সরাসরি কমেন্টবক্সে কমেন্ট করতে পারেন অথবা বসন্তবাংলা ফেইসবুক পেইজে যোগাযোগ করতে পারেন।
লিখাটি ভালো লাগলে বসন্তবাংলা  ফেইসবুক পেইজে লাইক দিয়ে এক্টিভ থাকুন যাতে আপকামিং পোস্ট গুলো সহজেই পেতে পারেন। ধন্যবাদ।

1 comment: