Header Ads

test

ওয়ানপ্লাস ৫টি রিভিউঃ দ্যা ফ্লাগশিপকিলার ইজ ব্যাক

খুব স্বল্প সময়ে যে স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো বাজারে শক্ত অবস্থানে দাড়াতে পেরেছে তাদের মাঝে ওয়ানপ্লাস অন্যতম।২০১৪ সালের এপ্রিলের দিকে ওয়ানপ্লাস তাদের প্রথম স্মার্টফোন ওয়ানপ্লাস ওয়ান নিয়ে যাত্রা শুরু করে এবং কম বাজেটে বাজারের অন্যান্য জায়ান্ট ব্র্যান্ড গুলোর মত সার্ভিস দেবার কারণে ফ্লাগশিপ কিলার তকমা পেতে ওয়ানপ্লাস ওয়ানের খুব একটা সময় লাগেনি। এর পর এ কয়েক বছরে ওয়ানপ্লাস বেশ কয়েকটি ডিভাইস বাজারে নিয়ে এসেছে যার মধ্যে প্রায় সব গুলোই ব্যাপক পরিমাণে ক্রেতা জনপ্রিয়তা পায়।এবছরের জুন মাসে ওয়ানপ্লাস তাদের ৬নম্বর ফ্লাগশিপ কিলার ওয়ানপ্লাস ৫ বাজারে ছেড়েছিলো এবং গত নভেম্বর মাসে তারা ঐ ডিভাইসটির একটা নতুন সংস্করণ ওয়ানপ্লাস ৫টি বাজারে নিয়ে এসেছে। বেশ কয়েকটি বিষয় খুব বেশি পরিমাণে হাইলাইট হবার কারণে ওয়ানপ্লাস ৫টি বাজারে রাজত্ব শুরু করেছে।
আজকে আমি ওয়ানপ্লাস ৫টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব। কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

ডিস্প্লে


এটা ভীষণ দুঃখজনক যে একটি ফ্লাগশিপ ডিভাইস হবার পরেও ওয়ানপ্লাস এখনো তাদের এই ডিভাইসটিতে Full HD ডিস্প্লে  ব্যবহার করেছে যেখানে অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলো QHD ডিস্প্লের যুগে পা রাখতে শুরু করেছে। তবে এর মানে এই নয় যে ওয়ানপ্লাস ৫টি তে লো কুয়ালিটির ডিস্প্লে ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এতে QHD ডিস্প্লে প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। আর এ ভুলটা হওয়া খুব স্বাভাবিক। তার কারণ এর রেশিও এবং পিক্সেল ডেন্সিটি। এই ডিস্প্লেটির রেশিও ১৮ঃ৯ এবং পিক্সেল ডেন্সিটি ৪০১ পিপিআই যেকারণে ডিস্প্লেকে অনেক শার্প দেখায়।তবে নোট ৮ অথবা গুগোল পিক্সেল ২এক্সএলের সাথে তুলনা করলে অনেকটা বোকামী করা হবে। কারন ওই ডিভাইসগুলোতে ৫০০'রও বেশি পিক্সেল ডেন্সিটি দেওয়া হয়েছে এবং এগুলোর মার্কেটপ্রাইজ 5t এর দ্বিগুন। তবে প্রাইজের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বিচার করলে Oneplus 5t যে অনেক এগিয়ে থাকবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেয়। আর এর কারন হচ্ছে ডিভাইসটির কালার রিপ্রডাকশন এবং শার্পনেস।
এখন পর্যন্ত Oneplus 5t তেয় Oneplus তাদের সবচাইতে বড় ডিস্প্লে ব্যবহার করেছে যার মাপ হচ্ছে 6.01inch. আর একে প্রটেক্ট করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কর্নিং গোরিলা গ্লাস ৫। বর্তমানে এটায় হচ্ছে গোরিলাগ্লাসের সবচাইতে লেটেস্ট এডিশন যার দেখা নোট ৫ এবং পিক্সেল ২ এক্সেলেও পাওয়া যায়।
সানলাইট ডিস্প্লে নামে একটি নতুন সুবিধা ওয়ানপ্লাস তাদের এই ডিভাইসটিতে অন্তরভুক্ত করেছে যা জানে আপনার স্ক্রীনে এখন কি (গেইম,মুভি ইত্যাদি) চলছে এবং এটি সে অনুযায়ি ডিস্প্লে লাইট সরবরাহ করবে।


ডিজাইন এবং বিল্ট




খুব সুন্দর প্রিমিয়াম ফীল পাওয়া যায় ডিভাইসটি হাতে নিয়ে। বডিটা পুরপুরি মেটাল। ডিস্প্লের ওপরে এবং নিচে হালকা বেজেল রয়েছে তবে দেখতে খুব একটা মন্দ লাগেনা। স্ক্রীন টু বডি রেশিও ৮০%।ডান দিকে রয়েছে পাওয়ার বাটন এবং বাম দিকে রয়েছে ভলিয়ুম কি। আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারটি রয়েছে ব্যাক সাইডে। যদিও স্যামসাং এর ডিভাইস গুলোতে এটি সামনের হোম বাটনে দেওয়া হয়ে থাকে কিন্তু আমার মতে ডিভাইসের ব্যাক প্যানেলেয় এটি রাখা বেটার কারন এতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরে ফিঙ্গারগুলো বসাতে কোন বেগ পেতে হয় না।
এর পর আশা যাক ক্যামেরার অবস্থান নিয়ে আর এখানেয় ঘটেছে বিপত্তি কারন Oneplus 5 এবং 5t দুটোরই ডুএল ক্যামেরা অবস্থান হুবহু মিলে যায় আইফোন ৭প্লাসের সাথে যা ওয়ানপ্লাসের মত একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের কাছে কখনই কাম্য নয়। এবং দূর থেকে এর ক্যামেরার দিকে চোখ পড়লে দেখতে অনেকটা আইফোন ৭প্লাসের মতই দেখায়।এ বিষয়গুলো নিয়ে ওয়ানপ্লাসের আরো ভাবা উচিত।
 সৌভাগ্যজনকভাবে এই ডিভাইস্টিতেও ওয়ানপ্লাস 3.5mm অডিওজ্যাক দিয়েছে যা এখনকার সময়ে অন্যান্য জায়ান্ট ব্র্যান্ড গুলোর ডিভাইসে দেখা পাওয়া অনেকটা বিরল ঘটনা। আর ওয়ানপ্লাস এটাও জানিয়েছে যে যতদিন পর্যন্ত না ইউএসবি টাইপ সি হেডফোন সহজলোভ্য হচ্ছে ততদিন তারা এই 3.5mm অডিওজ্যাক দিয়ে যাবে। স্পিকার গ্রীল এবং  ইউএসবি টাইপ সি চার্জার পোর্টটি অডিওজ্যাকের বাম পাশেয় অবস্থান দেয়া হয়েছে।
ডিভাইসটির রেয়ার প্যানেল্টি হালকা বাকানো এবং এ কারণে এটি হাতের তালুতে খুব সহজ ভাবে বসে যায়।


হার্ডওয়ার



হার্ডওয়ারের জন্য সবসময় আপোশহীন থাকতে দেখা গেছে ওয়ানপ্লাসকে।এবারেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।এতে দেওয়া হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ এর মত বিস্টকিলার চীপসেট।এবং উন্নত গ্রাফীক্সের জন্য এড্রিনো ৫৪০ এর মত হার্ডকোর জিপিইউ। এখানে উল্লেক্ষ যে, এই একই চীপ এবং জিপিইউ গুগোলের নিজস্ব ডিভাইস পিক্সেল ২ তেও ব্যবহার করা  হয়েছে।ডিভাইসটি ৬জিবি র‍্যাম (৬৪জিবি রম) এবং ৮জিবি র‍্যামের (১২৮জিবি রম) দুইটি ভেরিয়েন্টে বাজারে এসেছে।তবে মাইক্রো এসডি কার্ড এক্সপ্যান্ড করার কোন সুযোগ থাকছেনা।


ক্যামেরা



ওয়ানপ্লাস ৫ এর মত ওয়ানপ্লাস ৫টি তেও রেয়ারে ডুয়েল ক্যামেরা সেটআপ ব্যবহার করা হয়েছে। এর একটি হল ১৬মেগাপিক্সেল এবং অপরটি হচ্ছে ২০ মেগাপিক্সেল। দুটোরই এপার্চার ১.৭ এবং এই সেন্সর গুলো সনির তৈরি।ফ্রন্টফেসিং ক্যামেরায় দেয়া হয়েছে ১৬মেগাপিক্সেল সেন্সর যার এপার্চার ২.০।সৌভাগ্যজনকভাবে   ফ্রন্ট এবং রেয়ার দুই জায়গাতেয় EIS (Electronic image stabilization) সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে শ্যুট করার সময় ক্যামেরা শেক করলেও ছবিতে তা বোঝা যাবেনা।
রেয়ার ক্যামেরাতে সর্বচ্চ 2160p এ 30fps রেটে ভিডিও করা যাবে এবং ফ্রন্ট ক্যমেরাতে 1080p এ (30fps) ভিডিও শ্যূট করা যাবে।
ওয়ানপ্লাস ৫টি এর পিকচার কুয়ালিটি গুগলের পিক্সেল ২ এক্সেলের মত না হলেও 40k বাজেটে এখনকার বাজারে সবচায়তে ভালো ক্যামেরা বলে আমার মনে হয়েছে।কারন প্রাইজ রেঞ্জ অনুযায়ি যথেষ্ট ভালো এবং শার্প ছবি দিচ্ছিলো Oneplus 5t. আর লো লাইটে ওয়ানপ্লাস ৫ এর চায়তেও বেশ ক্লিয়ার ছবি দিচ্ছিলো ওয়ানপ্লাস ৫টি।এর শাটার স্পীড তুলনামুলক বেশ ফাস্ট এবং ভালো আলোতে অসাধারণ আউটপুট পাওয়া যাচ্ছিলো।
সব মিলিয়ে ওয়ানপ্লাস ৫টি এর ক্যামেরা এক্সপেরিয়েন্স এলিট ফ্লাগশিপ (এস ৮, আইফোন ১০) গুলোর মত মনে না হলেও এর কাছাকাছি মনে হয়েছে( প্রাইজ অনুযায়ী)।



সফটওয়ার আপডেট এবং নেটফ্লিক্স 




শুধু যে হার্ডওয়ারের দিক থেকেয় Oneplus 5t এগিয়ে তা নয় বরং সফটওয়ার আপডেটের দিক দিয়েও এগিয়ে এই ডিভাইস কারন ইতমধ্যেই এন্ড্রয়েড ওরিও (Android 8.0) বেইসড অক্সিজেন ওএস( ওয়ানপ্লাসের ইউআই) 5.0 আপডেট নিতে শুরু করেছে ওয়ানপ্লাস ৫টি।
এছাড়াও ক্যামেরা সংক্রান্ত কিছু বাগ ফিক্স করা হয়েছে আপডেটের মাধ্যমে। তবে যে বিষয়টা এখন সব চাইতে অবাক করার মত তা হল নেটফ্লিক্স এবং আমাজনের প্রাইম ভিডিও গুলো প্লে করতে সক্ষম হচ্ছেনা 5t. এত উন্নত সফটওয়ার অপ্টিমাইজেশন এবং হার্ডওয়ার  হবার পরেও  এ ধরনের ব্যর্থতা কখনই কাম্য নয়। তবে আশার কথা হল ওয়ানপ্লাস অফিসিয়ালি জানিয়েছে যে খুব তাড়াতাড়ি আপডেটের মাধ্যমে এটি ফিক্স করা হবে।
এর পর আশা যাক ফেইস রিকোগ্নেশন এর বিষয় নিয়ে। আইফোন ১০এ সর্বপ্রথম এ সুবিধাটি আসে এবং ব্যাপক আলোচিত হয়। এর জের ধরেয় ওয়ানপ্লাস তাদের সপ্তম ডিভাইস ওয়ানপ্লাস ৫টি তে এই সুবিধাটি অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে আইফোনের মত এতে তারা কোন ইনফারেড ক্যামেরা ব্যবহার করেনি। ফেইস রিকোগ্নেশনের কাজটি ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা দ্বারা করানো হয় এবং বাকি কাজ সফটওয়ার করে থাকে। আর এ কারনে Oneplus 3, 3t,5 এই সব ডিভাইসে খুব তাড়াতাড়ি ফেইস রিকোগনেশন সুবিধাটি আপডেটের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।আর এই তথ্যটি জানিয়েছেন ওয়ানপ্লাসের কো-ফাউন্ডার কার্ল পেয় নিজে।এটি হয়তবা আইফোন ১০ এর মত অতটা নিখুত হবেনা (যেহেতু আপডেটের মাধ্যমে আসছে) তবে বেশ ভালো ফীচার এখনকার যুগ অনুযায়ী।পাশাপাশি ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার তো থাকছেয়।



ড্যাশ চার্জিং এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ



ডিভাইসটিতে দেওয়া হয়েছে 3300mah ব্যাটারি । 6inch ডিস্প্লে অনুযায়ি আরেকটু বেশি দিলে ভালো হত তবে এটাও কোন খারাপ চয়েস না। যেহেতু এতে ড্যাশ চার্জিং সুবিধা দেওয়া হয়েছে তাই মাত্র ৩০ মিনিটে ৬০% চার্জ হয়ে যায় এবং ফুল চার্জ হতে ১ঘন্টা ১০-১৫মিনিট সময় লাগে।



কেন কিনবেন
১। পাওয়ারফুল প্রসেসর
২। উন্নত ক্যামেরা
৩। প্রিমিয়াম ডিজাইন
৪। টাকার সঠিক ব্যবহার


কেন কিনবেন না
১। মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট নাই
২। বেটারি আরেকটু হলে বেটার হত।

দামঃ ৪০ হাজারের মত (৬/৬৪)
(বাজেট ঘাটতি থকলে ফেব্রুয়ারির পরে নিয়েন দাম কমে যাবে কারন মার্চে Oneplus 6 বাজারে আসতে পারে)
রেটিংঃ ৮.৮  (রিকমেন্ডেড)


[ কোন প্রশ্ন অথবা সাজেশন অথবা কোন ভুলভ্রান্তি বুঝতে পারলে প্লিজ কমেন্টে জানাবেন]
[সাইটটির কাজ চলছে]

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া, ভার্জ,ম্যাশেবল, এনডিটিভি।






No comments