Header Ads

test

iphone X প্রিভিউঃ স্মার্টফোনের ভবিষ্যত দ্রষ্টা

আইফোন ১০ (iphone X) প্রিভিউ
গুটি গুটি পায়ে আইফোন এখন ১০ বছর পার করার পথে। ২০০৭ সালের জানুয়ারির দিকে স্যার স্টিভ জবসের হাত ধরে সর্বপ্রথম আইফোনের ১ম সংস্করণটি বাজারে আসে। এর পর একে একে আইফোনের বিভিন্ন সংস্করন বের হয় এবং সর্বশেষ আইফোনের ৮ম সংস্করন হিসেবে বাজারে আসে আইফোন ৮ এবং আইফোন ৮ প্লাস। আইফোনের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আইফোনের ৯ম সংস্করণটি আনার জায়গায় সরাসরি আইফোন ১০(iphone X) নিয়ে আসার ঘোষনা দেন অ্যাপলের বর্তমান নির্বাহী টিম কুক। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩রা নভেম্বর বাজারে আসে আইফোন ১০। 

আইফোন ১০ এর ঘোষণা আসার পর থেকেয় এটি নিয়ে আইফোন প্রেমিদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। আর হবেই না বা কেন, এটি যে আইফোনের ১০ বছরের সফলতার ফসল। অত্যাধুনিক আর অসাধারণ সব ফীচার নিয়ে আইফোন ১০ বাজারে ঢোকার সাথে সাথেই বেশির ভাগ মার্কেটে এর স্টক শেষ হয়ে যায়। ভারতেও এই একই (স্টক শেষ হয়ে যাবার) ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এর পরবর্তি চালান ভারতে আসতেও একটু সময় লেগে যেতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।
আইফোন ১০ কে অ্যাপল ভবিষ্যতের ফোন হিসেবে দাবি করছে,আর এর পেছনে যথেষ্ট যুক্তিও আছে।কারণ,আইফোন ১০ এ অ্যাপল এমন কিছু ফিচার দিয়েছে যা স্মার্টফোন ভক্তরা এর আগে দেখেনি।

ডিজাইন


আইফোন ১০ এর বডি তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে সার্জিকাল গ্রেড স্টেইনলেস স্টিল।এর সামনে এবং পেছনে দুপাশেই পানি এবং ধুলা নিরোধক গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে।যদিও স্যমসাং তার ফ্লাগশিপ ডিভাইস গুলোতে অনেক আগে থেকেয় গ্লাস ব্যবহার করে আসছে কিন্তু অ্যাপলের ক্ষেত্রে এটা একেবারেই নতুন এবং অ্যাপলের দাবী এতো মজবুত গ্লাস এর আগে কোন স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হয়নি।
ডিভাইসে কোনো হোম বাটন বা অডিও জ্যাক রাখা হয়নি, সামনের দিকে একেবারে টপে ছোট্ট একটা অংশ জুড়ে স্থান দেয়া হয়েছে সেন্সর, স্পিকার,মাইক্রফোন,ট্রুডেপথ ক্যামেরা এবং ডট প্রজেক্টরবাম দিকে রয়েছে পাওয়ার বাটন ভলিউম কি এবং নিচে চার্জিং পোর্ট।

ডিসপ্লে


  অ্যাপল আইফোন ১০ এর মাধ্যমে তাদের বাধা ধরা এলসিডি ডিসপ্লে থেকে এতদিনে বের হয়ে এসেছে।আইফোন ১০এঅ্যাপল ওএলইডি(OLED) ডিসপ্লে ব্যবহার করেছে আর এটি বানিয়েছে স্যামসাং।অ্যাপল এই ডিসপ্লের নাম দিয়েছে সুপার রেটিনা ডিসপ্লে।
আইফোন ১০ ১ম আইফোন যেটার ডিসপ্লে HDR (HIGH DYANAMIC RANGE) এবং এটি ডল্বি ভিশন/এইচ ডি আর ১০ কন্টেন্ট সমর্থন করে।যদিও আইফোন ৮/৮ প্লাসেও এইচডিআর কন্টেন্ট সমর্থন করবে বলেঅ্যাপল তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে কিন্তু আইফোন ৮/৮প্লাসের ডিসপ্লে এইচডিআর না হবার কারণে এইচডিআর কন্টেন্ট প্লেহলেও তা দেখতে 4k ভিডিওর মত লাগবে।এর আগে হাতে গুনা কয়েকটা ডিভাইসে যেমন,LG G6,Xperia Xz premium, LG v30 এবংnote 8 এ ডল্বি ভিশন/এইচডিআর ১০ সুবিধা পাওয়া যেত।

 ক্যামেরা


 আইফোন ১০ এ পেছনের দিকে ১২মেগাপিক্সেলের দুইটা ক্যামেরা দেয়া হয়েছে। নতুন বলতে দেয়া হয়েছে টেলিফোটো লেন্স এবং ওআইএস (অপ্টিকাল ইমেজ ইস্টাবিলাইজেশন) সুবিধা। টেলিফোটো লেন্সের জন্য ইমেজ কুয়ালিটি হবে অনেক নিখুত এবং ওআইএস সুবিধা থাকবার কারণে ছবি তোলা অবস্থায় ফোন নড়লে বা ঝুকলেও ছবিতে তা বোঝা যাবেনা।
নোট ৮ 4k শ্যুট করতে পারে ৩০ফ্রেম রেটে কিন্তু আইফোন ১০ 4k শ্যুট করতে পারবে ৬০ ফ্রেম রেটে, একারণে অসাধারন 4k ভিডিও শ্যুট করা যাবে আইফোন ১০ দিয়ে।

প্রসেসর এবং জিপিইউ


আইফোন ১০ এর মাধ্যমে  A11 Bionic নামে সম্পুর্ন নতুন প্রজন্মের ৬ কোরের একটি প্রসেসর নিয়ে এসেছে অ্যাপল।এটির বিশেষ্যত্ব হল অন্য যে কোন স্মার্টফোন চিপের চেয়ে এটি আকারে ছোট এবং এ ১০ ফিউশনের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।এটি প্রতি সেকেন্ডে সর্বচ্চ ৬০০ বিলিয়ন কাজ করতে পারে।
এত দিন অ্যাপল নিজেদের তৈরি জিপিইউ ব্যবহার না করলেও আইফোন ১০ এ ব্যবহারকৃত জিপিইউটি অ্যাপলের নিজস্ব ডিজাইন করা এবং এটি আগের জিপিইউ গুলোর চাইতে প্রায় ৩০ ভাগ বেশি দ্রুতগতি সম্পন্ন।


এনিমোজি


 শুধু মাত্র ফান করার উদ্দেশ্যে অ্যাপলের ডেভেলপাররা এটি বানিয়েছেন।বর্তমানে শুধু iphone X ডিভাইসটিতে এই সুবিধাটি পাওয়া যাচ্ছে।iphone X এর ট্রুডেপথ ক্যামেরাটি আপনার চেহারার বিভিন্ন মাসেলের ৫০টারও বেশি মুভমেন্টের প্রতিচ্ছবি তৈরি করে এবং ১২ টা এনিমজি সেটাকে হুবহু কপি করে।
মূলতঃ ইমোজির লেটেস্ট ভার্সন বলা যায় এনিমোজিকে

ফেস আইডি ভবিষ্যত শুরু এখান থেকে!

সম্ভবত এটাই এখন পর্যন্ত স্মার্টফোন জগতের সবচাইতে স্মার্ট ফিচার যার দ্বারা ভবিষ্যত পৃথিবী নিয়ে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়। কিছু দিন আগেও আমরা হয়ত এটা কল্পনা করতাম কিন্তু এখন এসব অনেকটায় বাস্তব।
আপনার ফোনের লক খুলবে আপনার ফেস নিশ্চিত হবার পরে!


আইফোন ১০এ স্ক্রীনের একেবারে ওপরে একটি ডট প্রজেক্টর,একটি ইনফ্যারেড ক্যামেরা দেয়া হয়েছে।ডট প্রজেকটর আপনার ফেসের উপর ৩০,০০০ ডট ফেলে এবং ইনফ্যারেড ক্যামেরা আপনার ফেসের একটা 2D ফটো ক্যাপচার করে । তারপর সেই ফটো সরাসরি প্রসেসরে পাঠায় , নিরাপত্তা চীপে সংরক্ষিত আগের ডাটার সাথে ম্যাচ করলে লক খুলে যায়।
অ্যাপলের দাবী বিভিন্ন সময়ে(বয়স বাড়ার ফলে চেহারায় যে পরিবর্তন গুলো এসে থাকে) আপনার ফেসের পরিবর্তন হলেও ফেস আইডি আপনাকে ট্র্যাক করতে সক্ষম হবে,তবে আসলেয় এটা সম্ভব কিনা তা ভাবার বিষয়।কিন্তু নিশ্চয়তাটা যখন অ্যাপল নিজেই দিচ্ছে তখন কিছুটা হলেও নিশ্চিত হওয়া যেতেয় পারে।
 

কিছু কথা

  • ডিভাইসটি কেনার ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই ৬৪ জিবি এর ভার্শনটা না কেনাটায় ভালো । কারন 4k শ্যুট করতে গেলে ৬৪ জিবি কিছুই না তখন শুধু শুধু কপাল চাপড়াতে হবে। বাজেটে সীমাবদ্ধতা থাকলে তবেয় ৬৪ জিবি ভার্শনটা কিনবেন।
  • আইফোন ১০ এ ওয়ারলেস চার্জিং সুবিধা থাকলেও অ্যাপলের ওয়ারলেস চার্জিং প্যাড Airpower mat ২০১৮ সালের আগে বাজারে আসবে না। তাই এক্ষেত্রে থার্ড পার্টি Qi ওয়ারলেস চার্জার কিনে ব্যবহার করতে হতে পারে।
  •  আইফোন ১০ অবশ্যই একটি অসাধারন ডিভাইস এবং এটি বর্তমান মার্কেটে থাকা যে কোনো ডিভাইসের চাইতে সব দিক থেকে এগিয়ে (এমন কি দামের দিক থেকেও এগিয়ে!)।
    সোর্সঃ apple,the verge,mashable                                         কোন সমস্যা অথবা ভুল ভ্রান্তি বুঝতে পারলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

No comments