number ones

নকিয়ার স্মার্টফোনগুলো কেনা উচিত কি | ARE NOKIA SMARTPHONES WORTH BUYING RIGHT NOW

নকিয়া ব্র্যান্ডের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে।কারণ নকিয়া এক সময় মোবাইল ফোনের বাজারে রাজত্ব করেছে।কিছু ভুল ডিসিশন হাতে নেবার জন্য একসময়কার বিখ্যাত এই মোবাইল প্রস্তুতকারী কোম্পানীটিকে মাইক্রোসফট করপোরেশনের কাছে বিক্রি হতে হয়েছিলো।এর পর এখন এইচএমডি গ্লোবাল নকিয়া নামটি ব্যবহার করে তাদের স্মার্টফোনগুলো বাজারে বাজারজাত করছে।নকিয়ার ডায়হার্ড কিছু ফ্যান নকিয়ার লোগো দেখে এই ডিভাইসগুলো কিনছেন এবং প্রতিনিয়তই ঠকছেন।ঠকছেন কারণ তারা ভাবছেন এটা সেই সময়কার অরিজিনাল নকিয়া কোম্পানীর তৈরী কিন্তু আসলে এমনটা নয়।এটা বোঝার একটা সহজ উপায় হচ্ছে বর্তমান নকিয়া ফোন গুলোর ডিসপ্লে খুবই অনুন্নত অথচ যারা আসল নকিয়া ব্যবহার করেছেন তাদের মনে থাকার কথা নকিয়ার ডিসপ্লে গুলো খুব উন্নত হত।২০১৭ সালে এইচ এম ডি গ্লোবালের নকিয়া,সাড়া জাগানো এবং বহুল বিক্রিত মোবাইল ফোন নকিয়া ৩৩১০ কে রিলঞ্চ করে।এতে যে ডিসপ্লেটি ডিসপ্লে প্যানেলটি ব্যবহার করা হয় তা খুবই অনুন্নত অনেকটা চাইনিজ থার্ডপারটি ব্র্যান্ডগুলোর ফোনগুলোতে যেমন ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয় সেরকম ডিসপ্লের মত।এছাড়াও এই ফোনের ক্যামেরাটাও পূর্বের নকিয়া ২৭০০ ক্লাসিক এর চেয়েও কম মানের অথচ এটি ২০১৭ সালে রিলঞ্চ করা হয়েছে তাই সেদিক থেকে এই সালে এসে আরো উন্নত ক্যামেরা আশা করাই যায় কারণ এর দামও কোন অংশে কম না (৪৫০০ টাকা যা পূর্বের ক্লাসিক নকিয়া ফোন গুলোর দামের মতই)।তাছাড়াও এই ফোনটির ইউআই(ইউজার ইন্টারফেস) খুব একটা স্মুথলি রান করেনা যেমনটা অরিজিনাল নকিয়া ফোনগুলো রান করত।বেসিক ফোন হবার পরেও এর ব্যাটারি ব্যাকাপ মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও আগের নকিয়ার কথা চিন্তা করলে তার তুলনাই কিছুই নয়।
এবার নকিয়া স্মার্টফোনে আসি।নকিয়া ৩,নকিয়া ৫ এবং নকিয়া ৬ এই তিন স্মার্টফোন নিয়ে এইচ এমডি গ্লোবালের নকিয়া বাজারে আসে।এই তিনটি ডিভাইসে একটা বিষয় খুব মিল ছিলো আর তা হল এদের বডি খুব উন্নত ছিলো (৬০০০ সিরিজ অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে বানানো)।এর একটা কারণ হচ্ছে আমরা দেখে এসেছি নকিয়ার ডিভাইসগুলোর বডি তৈরীতে নকিয়া কখনই কোন ছাড় দেয়নি এ জন্য অনেকেই সে সময় নকিয়ার ডিভাইসগুলো পছন্দ করতেন।তাই এইচএমডি গ্লোবালও তাদের ফোনগুলো তৈরীতে এই থিউরিটা কাজে লাগিয়েছে।তারা এটাকে প্রথম শর্ত হিসেবে নিয়েছে যেন তাদের ডিভাইসগুলোর বডি অবশ্যই ড্যুরেবল হয়।কারণ এটা তাদের মর্কেটিং এ এবং তাদের নকিয়াই যে অরিজিনাল নকিয়া ব্র্যান্ড এই বিশ্বাসটা নকিয়ার গ্রাহকদের আবারো নকিয়া মুখি করতে অনেক কাজে দেবে।
বাজেট অনুযায়ী নকিয়া ব্র্যান্ডিং ব্যতীত নকিয়া ৩,৫,৬ এ এমন সার্ভিস এমন ছিলনা যা গ্রাহোক টানতে পারার ক্ষমতা রাখে বরং ডিভাইসগুলোর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স একদমই স্মুথ ছিলোনা।নকিয়া ৩ এ মিডিয়াটেকের চীপসেট দেয়াটা এবং নকিয়া ৫ ও ৬ এ এসডি ৪৩০ এর মত সাধারণ চীপসেট দেয়াটা যে নকিয়ার একটা বিশাল ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।নকিয়া অবশ্যই জানত মিডিয়াটেকের চীপসেট গুলো প্রচুর গরম হয় কারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া একটা ডিভাইস কখনই তৈরী হয়না।অন্তত তাদের এটা মাথায় রাখতে হত ইতিমধ্যেই নকিয়ার স্মার্টফোনগুলো বাজার হারিয়ে ফেলেছে এর মধ্যে নকিয়াকে আবার রিলঞ্চ করা হচ্ছে তাহলে এক্সেপশনাল কিছু না পেলে শুধু নকিয়া লোগো দেখে গ্রাহক কেন তাদের ডিভাইস কিনতে যাবে।
২০১৭ সালের শেষ দিকে যখন সব স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতষ্ঠানগুলো বেজেললেস ডিসপ্লে বাজারে নিয়ে আসতে ব্যস্ত নকিয়া সেই সময় মোটা বেজেলের ১৬:৯ রেশিওর নকিয়া ৮ বাজারে ছাড়ে।বোথী ভিডিও আর নকিয়া ওজো অডিও ছাড়া দেবার মত কিছুই পায়নি নকিয়া।ডিসপ্লেতেও নকিয়া আদি যুগের গরীব আইপিএস এলসিডি প্যানেল ব্যবহার করেছে।অথচ ডিভাইসটি বাজারে আসার সময় অন্যসব ব্র্যান্ডগুলো তাদের ফ্লাগশিপ ডিসভাইসগুলোতে সুপার অ্যামোলেড প্যানেল ব্যবহার করা শুরু করে দিয়েছিলো।নকিয়া চাইলেয় তাদের ফ্লাগশিপ নকিয়া ৮ এ অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করতে পারত কারণ এখন অ্যাপলও স্যামসাঙ্গের কাছে তাদের আইফোনের জন্য অ্যামোলেড ডিসপ্লে বানিয়ে নিচ্ছে।এতে নকিয়া ৮ এর গ্রাহোকেরাও ডিসপ্লের জন্য অন্তত সন্তুষ্ট হতেন।
সম্প্রতি নকিয়া নকিয়া ৭ প্লাস নামে একটা কিলার ডিভাইস লঞ্চ করেছে।কিলার এ জন্যই কারণ ডিজাইন,ডিসপ্লে,পার্ফমেন্স,ব্যাটারি ব্যাকাপ সবদিক থেকেই ডিভাইসটি বেশ ভালো।কিন্তু নকিয়া যে ভুলটা করেছে তা হলো এর মুল্য নির্ধারন।ভারতে ডিভাইসটির দাম ২৬ হাজার রুপি হলেও বাংলাদেশের মার্কেট থেকে ডিভাইসটি কিনতে গেলে গুনতে হবে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।৪০ হাজার টাকায় একজন সাধারণ গ্রাহক কেনো এই ডিভাইসটি কিনতে যাবেন যেখানে কিছু টাকা যোগ করলে ওয়ানপ্লাসের ফ্লাগশিপ কিলার ডিভাইসগুলো পাওয়া যাচ্ছে।তাই মার্কেটে টিকতে হলে নকিয়ার উচিত ছিলো ডিভাইসটির দাম আরো কম রাখা।দাম অনুযায়ি বিচার করলে নকিয়ার স্মার্ট ডিভাইসগুলো খুব একটা ভ্যালু প্রভাইড করতে পারছেনা যা শ্যাওমি,মটোরোলা কিংবা ওয়ানপ্লাসের ডিভাইসগুলো থেকে পাওয়া যাচ্ছে।
বর্তমান প্রতিযোগীতাপূর্ণ মার্কেটে নকিয়াকে টিকে থাকতে হলে শ্যাওমিকে অনুকরন করা উচিত কারণ শ্যাওমির ডিভাইসগুলোর কুয়ালিটি দাম অনুযায়ী মানানসই।অন্যথায় নকিয়াকে আবারো বিক্রি হতে হবে।

No comments