How to control your mind | মনের দাসত্ব এবার ছাড়ুন | কিভাবে মনের দাসত্ব করা থেকে নিজেকে বাঁচাবেন



আমাদের মন অনেক সময় অনেক কিছু চায় যা মনের ভালো লাগলেও আসলে তা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মোটেও ভালো হয় না। কারণ মনের কাজ হচ্ছে চাওয়া তাই কোন কিছুর আগা-গোড়া না ভেবে আমাদের মন সব কিছু চেয়ে বসে থাকে।

How to control your mind | মনের দাসত্ব এবার ছাড়ুন | কিভাবে মনের দাসত্ব করা থেকে নিজেকে বাঁচাবেন

 কোন কিছু চিন্তা না করে আমাদের মন একমুহুর্তও থাকতে পারেনা। মনের বৈশিষ্ট্য বা স্বভাব আসলে এমনই হয়, যখনই আমাদের মন ভাবার জন্য কোন কিছু পায় সে এটা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করে। যেমন ধরুন আপনি কোন একটা কাজ করছেন এমন সময় আপনার প্রিয় মানুষের কথা মনে হল, অথবা আপনি কাজ করছেন এমন সময় মন বলছে ইউটিউব থেকে একটু ঘুরে আসি। বিষয়টা যখন আপনার মন ভাবছে যে একটু ইউটিউব থেকে ঘুরে আসি তখন মনকে আপনি কষ্ট দিতে চান না, আপনি সেটায় করতে চলে যান কারণ মন আপনাকে নাছোড়বান্দার মত গান শোনার জন্য বলতে থাকে। কিন্তু এতে করে পরে দেখা যায় গান শুনতে চলে যাবার জন্য আপনার ওই কাজটা ঐ ভাবেই পড়ে আছে এবং এমনও হতে পারে সেই সময় আপনি ভাবলেন যে শুধু শুধু সময়টা (যে সময়টা গান শুনলেন) নষ্ট করলাম (কারন বেশীরভাগ মানুষ এমন ভাবেই ভেবে থাকেন)। এমনটা হবার কারণ হচ্ছে আমাদের মন কোন একটা বিষয় আমাদের কাছে চাইলে আমরা না করতে পারিনা। এটা অনেকটা মনের দাসত্ব করার মত। এই দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া খুব একটা সহজ নয়। কারণ এটার প্রতি আমরা অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যেহেতু ছোটবেলা থেকে আমরা মনের চাহিদাকেই প্রাধান্য দিতে দিতে বড় হয়েছি। এ জন্য মনের কথা না শুনলে এখন আমাদের আর ভালো লাগে না। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে আপনি জীবনে বেশী দূর এগোতে পারবেন না এটা নিশ্চিত। তাই একটু লাগাম দিতে হবে। কিভাবে মনকে লাগাম দেবেন সেটারই কিছু বাস্তব উদাহরণ নিয়ে আজকে লিখব।

How to control your mind | মনের দাসত্ব এবার ছাড়ুন | কিভাবে মনের দাসত্ব করা থেকে নিজেকে বাঁচাবেন

না খেলেও চলবে
ধরুন আপনি একটু আগে কোন খাবার খেয়েছেন এবং এই মুহুর্তে আপনার পেট যথেষ্ট ভর্তি আছে। কিন্তু হঠাৎ করে আপনার পিজ্জা হাটের পিজ্জার টেস্টের কথা মনে পড়ে গেল এবং আপনার মন আবদার করতে শুরু করলো পিজ্জা খাবার জন্য, যদিও এখন পিজ্জা খাবার মত পেটে খালি জায়গা নেই। তাহলে এখন কি করবেন? কারন মন বলছে পিজ্জা খেতে অন্যদিকে পেটের অবস্থা পিজ্জা খাবার মত হয়ে নেই!
যেহেতু মন নতুন কোন টপিক পাওয়া মাত্রই সেটা নিয়ে এক্সিকিউট করতে শুরু করে দেয় তাই ওই মুহুর্তে আপনি মনকে বোঝান এটা বলে যে, এখন আপনার পেটে খাবার মত আর জায়গা নেয় এবং কয়েকদিন পরে বা অন্য কোন সময় পিজ্জা খাওয়া যেতেয় পারে,কিন্তু অবশ্যই এই সময়টা ( যেহেতু এখন পেট ভর্তি) পিজ্জা খাবার জন্য মোটেও আদর্শ নয়। কারণ এতে করে এমনও হতে পারে পরে আপনি অসুস্থ্য হয়ে পড়তে পারেন।
এই থিউরীটা এপ্লায় করার সময় অবশ্যই আপনাকে নিজে থেকে চাইতে হবে যে আসলেই আপনি পিজ্জা খেতে চান না। কারণ আপনার নিজের ভেতরে ওই সময় পিজ্জা খাওয়ার প্রতি যদি এতটুকুও ইচ্ছা থাকে তাহলে তখন মন জিতে যাবে এবং আপনাকে পিজ্জা খাবার জন্য চলে যেতে হবে। আর এভাবে চলতে থাকলে বিনিময়ে বড় ভুড়ির একখানা পেটের অধিকারী হতে হবে!

কাজটা এখনই কমপ্লিট করতে হবে
ধরুন আপনি কোন কাজ নিয়ে ব্যস্ত, হুট করে আপনার মন এমন কিছু চেয়ে বসতে পারে যা আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটাবে। যেমন আপনার মন চাইতে পারে একটু সিরিয়াল দেখি কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে আসি অথবা একটু মিউজিক শুনি, অর্থাৎ এমন কোন কাজ যার ভ্যালু শুন্য। যেহেতু আমাদের মন বেশীক্ষন কোন কিছু নিয়ে না ভেবে থাকতে পারেনা তাই আমরা যখন কোন কিছুতে বিজি থাকি মন এরকম ফালতু চিন্তা আমাদের মাঝে নিয়ে আসে। এখন আমরা যদি মনের ঐ কথাকে গুরুত্ব দিয়ে মনের দাসত্ব করি তাহলে কাজটা ঐ ভাবেই পড়ে থাকবে কিন্তু সময়টা চলে যাবে। তাই যখনই মন এরকম কোন চিন্তা নিয়ে আসবে সাথে সাথে নিজের ভেতর থেকে রিপ্লায় দিন কাজটা ঐ কাজের (মন যে কাজটা করতে বলছে) চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। মনকে বলুন এই কাজটা করার জন্য এই সময়টা আপনি আর কোন দিন ফিরে পাবেন না। কিন্তু মন যে কাজটা করতে চাচ্ছে সে কাজটা করার জন্য অনেক সময় পরে পাওয়া যাবে।
এখানে নিজের মনকে হ্যাক করার জন্য যে টেকনিকগুলো লিখছি সেগুলো একদিনেই আপনি পুরোপুরি আয়ত্ব করতে পারবেন না। মাইন্ড হ্যাক (mind hack) অভ্যাসের ব্যাপার। যেহেতু আগেই বলেছি ছোটবেলা থেকেই নিজের মনের কথা শুনতে শুনতে আমরা অভ্যস্ত তাই শুধুমাত্র অভ্যাসের মাধ্যমেই এ থেকে রেহায় পেতে পারি। বাজারে এ জন্য কোন ঔষধ পাওয়া যাবে না। যে কাজটা আপনার সেটা আজ হোক-কাল হোক, এখন হোক আর তখন হোক আপনাকেই শেষ করতে হবে, অন্য কেউ এসে করে দিয়ে যাবেনা,আর এ জন্য আপনি আলাদা করে অতিরিক্ত সময়ও পাবেন না (কারণ আমাদের সীমাবদ্ধতা ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত, এর বেশী এক সেকেন্ড সময়ও পাওয়া অসম্ভব)। মন যখন আপনাকে কাজের মাঝে অন্য কিছু করার জন্য বলবে এ ধরনের চিন্তাগুলো মাথায় নিয়ে আসুন, মন আপনার কাছে হেরে যাবে।

আরো একটু ঘুমিয়ে নিই
সারারাত ঘুমানোর পর আমরা যখন ভোরে একটু জাগ্রত হই তখন আমাদের মস্তিষ্ক আমাদেরকে ঠিকই নক (knock) করে এটা বলে যে ভোর হয়ে গেছে উঠে পড়ো, ভোরে ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী অথবা অনেক কাজ পড়ে আছে এখন না করলে পরে আর সময় পাবেনা ইত্যাদি। আমাদের ব্রেইন আমাদেরকে এমন নিউজগুলো ঐ সময় দেয় যাতে করে এখন ঘুমিয়ে থাকার জন্য পরবর্তীতে আমরা বিপদে না পড়ি। কারণ আমাদের ব্রেইন আমাদেরকে মোটেও বিপদে ফেলতে চায়না। আর আমাদের ব্রেইন এও খুব ভালো জানে আমরা কি করলে বিপদে পড়ব আর কি করলে বিপদে পড়বো না। এজন্য আমাদের ব্রেইন আগে থেকে আমাদেরকে সংকেত দিয়ে রাখে।

How to control your mind | মনের দাসত্ব এবার ছাড়ুন | কিভাবে মনের দাসত্ব করা থেকে নিজেকে বাঁচাবেন


অন্য দিকে আমাদের মন, এর পুরো উল্টোটা করতে ভালোবাসে। কারণ আমাদের ব্রেইনের মত আমাদের মাইন্ড লজিক অনুযায়ি ভাবতে পারেনা। যেমন আপনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজও যদি ভোরে করার মত থাকে তাও আপনার মন আপনাকে কখনই বিছানা থেকে উঠে গিয়ে কাজটা সমাধান করতে বলবেনা। বরং এ ক্ষেত্রে `পরে` কথাটা মনের খুব পছন্দের! তাই মন ঐ জায়গাতেও আপনাকে এটায় বলবে যে এখন আরেকটু ঘুমাও `পরে` করে নিও! কিন্তু এখানে যদি আপনি আপনার মনের কথাকেই প্রাধান্য দেন অর্থাৎ আরো একটু ঘুমান তাহলে আপনি অ্যাভারেজের ক্যাটাগোরিতে চলে গেলেন। এজন্যই পৃথিবীর মাত্র একভাগ মানুষের কাছে গোটা পৃথিবীর অর্ধেক সম্পদ আছে(Source)। যারা কিনা কখনই নিজের মনের চাহিদাকে প্রায়োরিটি দেন না। তারা অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের ব্রেইনকে অনেক বেশী প্রোডাক্টিভ রাখতে পেরেছেন, এ জন্য তারা জানেন কখন তাদের কি করতে হবে।


অনেক ধন্যবাদ লিখাটি পড়ার জন্য। আর এ পর্যন্তই থাক, ভালো থাকবেন।
How to control your mind | মনের দাসত্ব এবার ছাড়ুন | কিভাবে মনের দাসত্ব করা থেকে নিজেকে বাঁচাবেন  How to control your mind | মনের দাসত্ব এবার ছাড়ুন | কিভাবে মনের দাসত্ব করা থেকে নিজেকে বাঁচাবেন Reviewed by Rone Ahmed on July 27, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.