রাতে ঠিকমত ঘুম হচ্ছে না ? জেনে নিন ইনসোমনিয়া হবার কারণ এবং কিভাবে ইনসোমনিয়া থেকে মুক্তি পাবেন

©www.huffingtonpost.com


বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ ইনসোমনিয়া(insomnia)রোগে আক্রান্ত।সাধারণ বাংলায় আমরা ইনসোমনিয়া বলতে রাতে ঘুম কম হওয়া বা না হওয়াকে বুঝে থাকি।একজন সুস্থ্য ও স্বাভাবিক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানোর প্রয়োজন।কিন্তু যাদের ইনসোমনিয়া আছে তারা ঠিক মত রাতে ঘুমাতে পারেন না।
ইনসোমনিয়া বা রাতে ঘুম ঠিক মত কেন হয়না এ নিয়ে আমরা জানতে চেষ্টা করেছি এবং সেখান থেকে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের কিছু জানাতে চেষ্টা করব।এবং শেষে ইনসোমনিয়াকে কিভাবে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব এমন কিছু দিক নির্দেশনা আলোচনা করব যেগুলো আপনাকে এ রোগ থেকে অনেকটায় দূরে রাখবে।

কি করে বুঝবেন আপনার ইনসোমনিয়া আছে
১।ধরুন আপনি রাতে ঘুমাতে গেলেন কিন্তু ১ ঘন্টা,২ ঘন্টা এমনকি ৩ ঘন্টাও হয়ে যাচ্ছে আপনি ঘুমানোর জন্য চেষ্টা করছেন অথচ আপনার চোখে ঘুম আসছেনা।অথবা অনেক দেরি করে ঘুম আসছে।
২।এমনও হতে পারে রাতে হঠাৎ করেই আপনার ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে।
৩।স্বাভাবিকভাবে ভোরে যে সময় ঘুম ভাঙ্গার কথা (যেমন ৪টা বা ৫টা) তারও অনেক আগে ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে।যেমন রাত ৩টার আগে ঘুম ভেঙ্গে গেলো কিন্তু এটা ঘুম ভাঙ্গার কোন সময় নয়।
৪।দিনের বেলা কোন কাজ করার সময় ঘুম পাচ্ছে (যেহেতু রাতে আপনার ঘুম ঠিক মত হচ্ছে না তাই দিনের বেলা ঘুম পাওয়াটা স্বাভাবিক)।
৫।কোন একটা বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় মনোযোগ হারিয়ে ফেলছেন।
৬।অনেক বেশী খিটখিটে স্বভাবের হয়ে পড়ছেন কিন্তু আপনি এ রকম নন।
যদি এসব বিষয়গুলো আপনার সাথে মিলে যায় এবং একমাসেরও বেশী সময় ধরে এমনটা আপনার সাথে হচ্ছে দেখেন তাহলে ধরে নেওয়া যেতে পারে আপনি ইনসোমনিয়াতে আক্রান্ত।

কেন ইনসোমনিয়া হয়
ওয়েবএমডির সুত্র অনুযায়ী বেশ কয়েকটি কারণে ইনসোমনিয়া হতে পারে।যেমন-
১।জীবনের বিভিন্ন টানাপড়ন (চাকুরীহীনতা,বৈবাহিক কলহ বা ডিভোর্স,বিশেষ কোন বিষয় নিয়ে কারো সাথে দ্বন্দ) নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে।
২।শারীরিক দুর্বলতা কাজ করলে।
৩।অতিরিক্ত কোলাহল কিংবা বেশী আলো আছে এমন জায়গায় কাজ করলে।
৪।বিভিন্ন রোগের (অ্যাজমা,উচ্চ রক্তচাপ,বিষণ্ণতা) ঔষধের পার্শপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও অনেক সময় ঘুম ঠিক মত হয়না।
৫।একেক দিন একেক সময়ে ঘুমানো অর্থাৎ সময়মত না ঘুমালে।

কি করে ইনসোমনিয়া থেকে বাঁচা যাবে

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন
আপনি যদি একেক দিন একেক সময়ে ঘুমান তাহলে আপনার শরীর বুঝতে পারেনা কখন তার ঘুমানোর সময় এবং কখন তার ঘুম থেকে ওঠা উচিত।এতে একটা বিছিন্ন পরিবেশের তৈরী হয় এবং আপনার ঘুম ঠিক মত হয় না।তাই নির্দিষ্ট একটি সময় নির্বাচন করুন যে সময় আপনি ঘুমাতে যাবেন।এতে আপনার মাঝে প্রতি দিন একই সময় ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস নিজে থেকেই তৈরী হয়ে যাবে।প্রথম সাত দিন ঘুম হতে খুব সমস্যা হতে পারে যেহেতু এটা অভ্যাসের ব্যাপার কিন্তু সাতদিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে।

বুঝে শুনে ক্যাফেইন নিন
ক্যাফেইনের প্রতিক্রিয়া আপনার শরীরে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত থাকতে পারে।এ জন্য রাতে ঘুমানোর পর একটু পর পর আপনার ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে।কারণ ক্যাফেইন আপনার নার্ভাস সিস্টেম বা স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত রাখে।তাই ক্যাফেইন যতদুর সম্ভব কম নিতে হবে এবং বিকেলের পর কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় গ্রহণ করা অবশ্যই পরিহার করুন,রাতে সুন্দর ঘুম হবে।

শুতে যাবার আগে খাবেন না
রাতের খাবার শুতে যাবার অন্তত ৩ ঘন্টা আগে খেয়ে নিন।এতে আপনার হজম প্রক্রিয়াটি আপনার ঘুমানোর আগে শেষ হয়ে যাবে।বিভিন্ন রকম বুক জ্বালাপোড়া বা গ্যাস্টিক জাতীয় সমস্যাগুলোও এ জন্য অনেক কমে যাবে।যদি শুতে যাবার ঠিক আগে খাবার খান তাহলে সে সময় আপনার হজম প্রক্রিয়াটি চালু হয়ে যাবার কারণে আপনার ঘুম আসতে সময় লাগবে।
পানি অথবা পানি জাতীয় খাবারগুলোও শোবার আগে যতদুর সম্ভব কম পান করুন কারণ এতে আপনার ঘন ঘন প্রসাব লাগতে পারে যা আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

বিছানায় ফোন বা ল্যাপটপের ব্যবহার কম করুন
বিছানা শুধু মাত্র ঘুমানোর জায়গা (আরো একটা কাজ আছে কিন্তু এখানে উল্লেখ করতে পারলাম না আপনারা বুঝে নিলে ভালো হয়)।তাই ঘুমানো ছাড়া বিছানায় করার জন্য অন্য কোন কাজ বরাদ্দ রাখবেন না।বিশেষ করে ম্যাসেঞ্জারে চ্যাট করা বা নেট ব্রাউজ করা অথবা অফিসের কাজগুলোতে একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া এ ধরনের কাজ গুলো আমরা সবাই করে থাকি কিন্তু এতে আমাদের ব্রেইন কাজের মোডে চলে যায় এবং ঘুম আসতে দেরী হয়।
এ জন্য সব কাজ শেষ করে তারপর ঘুমানোর জন্য বিছানায় আসুন।এতে করে অন্তত ঘুমটা ঠিক মত হবে।

শোবার ঘরে ঘুমানোর পরিবেশ রাখুন
সুন্দর ঘুমের জন্য ভালো পরিবেশ প্রয়োজন।অতিরিক্ত আলো কিংবা কোলাহল না থাকায় ভালো।আর অবশ্যই ঘুমানোর সময় টিভি দেখার অভ্যাস পরিহার করুন।এটা আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।সম্ভব হলে শোবার ঘরে টিভি না রাখায় ভালো যখন আপনি ইনসোমনিয়াতে ভুগছেন।অনেকে অন্ধকারে ভয় পান কিন্তু অন্ধকার ঘুমের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরী করে।তবে অন্ধকারে বেশী সমস্যা হলে মৃদু আলো আছে এমন লাইটগুলো জালিয়ে রাখতে পারেন এগুলোও আপনার ঘুমের জন্য সুন্দর আবহাওয়া তৈরী করবে।

দুশ্চিন্তা কম করুন
দুশ্চিন্তা এমন একটা কাজ যাতে আপনার কোন উপকার হবে না এবং যে বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন তারও কোন সমাধান আসবে না।বরং দুশ্চিন্তা থেকে আপনার শরীরে বড় বড় জটিল রোগের সৃষ্টি হতে পারে।তাই দুশ্চিন্তা করবেন না।প্রয়োজনের সময় মাথা ঠান্ডা রাখার অভ্যাস তৈরী করুন।এটা সব সময় মাথায় রাখুন যে বিপদ সবারই আসে এটা একটা নিয়মের মত যে বিপদ আসবেই কিন্তু এর থেকে বের হবার জন্য অবশ্যই কোন না কোন উপায় এবং সমাধান দুটোই আছে।

নিয়মিত ব্যায়াম এবং মেডিটেশন করুন
ব্যায়াম আপনার শরীরে ফুয়েলের মত কাজ করে।নিয়মিত ব্যায়াম আপনার ঘুমের পরিধি (বা সময়কাল) বৃদ্ধি করবে।তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম করা ঠিক হবেনা।ব্যায়ামের জন্য আদর্শ সময় হল সকাল।সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করতে বের হউন আপনার কাজ করার পরিধি (Productivity) অনেক গুণ বেড়ে যাবে,সারা দিন শরীরে একটা প্রফুল্ল আমেজ পাবেন।ঘুমানোর আগে মেডিটেশন করে নিতে পারেন।এটা আপনাকে খুব তাড়াতড়ি ঘুম আসতে সাহায্য করবে।
এ বিষয়গুলো মেনে চলার পরেও যদি মনে হয় আপনার ঘুমের তেমন কোন উন্নতি হচ্ছে না তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হউন।তাকে আপনার সমস্যা গুলোর বিষয়ে বিস্তারিত বলুন আশা করা যায় তিনি কোন ভালো সমাধান দিতে পারবেন।
আজ এ পর্যন্তই থাক।কমেন্ট বক্সে লিখুন আপনার ইনসোমনিয়া সমস্যা নিয়ে।সচেতন থাকুন,সুস্থ্য ও সুন্দর থাকুন।আর্টিকেলটি পড়তে পড়তে যদি এতদুর এসে থাকেন অনেক ধন্যবাদ!
সোর্সঃওয়েবএমডি

রাতে ঠিকমত ঘুম হচ্ছে না ? জেনে নিন ইনসোমনিয়া হবার কারণ এবং কিভাবে ইনসোমনিয়া থেকে মুক্তি পাবেন রাতে ঠিকমত ঘুম হচ্ছে না ? জেনে নিন ইনসোমনিয়া হবার কারণ এবং কিভাবে ইনসোমনিয়া থেকে মুক্তি পাবেন Reviewed by Rone Ahmed on July 13, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.