চুলের যত্ন নিতে কিছু টিপ্সঃ কিভাবে নিজের চুলের যত্ন নেবেন | (How to care your hair)



চুল কার না ভালো লাগে! সুন্দর এবং ঝলমলে কারো চুলে চোখ পড়লে মনে হয় যে দেখতেয় থাকি! নারী হোক কিংবা পুরুষ সবারই যেন চুলের প্রতি আলাদা একটা মায়া কিংবা আলাদা একটা ভালোবাসা কাজ করে। এ বিষয়টা অনেকটা ন্যাচারাল, এ জন্য (নিজের চুলকে ভালোবাসতে) কাউকে টাকা দিতে হয়না। যায় হোক আজ আপনাদের সাথে খুব সহজ কিছু বিষয় শেয়ার করব যা আপনাদেরকে নিজেদের চুলের যত্ন নিতে অনেক কাজে দেবে। কারণ দাঁত থাকতে যেমন দাঁতের মর্ম মানুষ বুঝতে চায়না তেমনি নিজের চুলের কি দাম তা যাদের মাথায় চুল নেয় তারায় ভালো বোঝেন। অথচ আপনি যদি কিছু বিষয়ে একটু কেয়ারফুল (Careful) হন আশা করা যায় মাথার চুল জনিত সমস্যাগুলো আপনাকে নিয়ে বিপাকে পড়তে হবেনা। এখানে চুলের যত্ন নিয়ে সহজ কিছু বিষয় লিখেছি যা আপনাদের চুলের যত্ন নিতে বেশ কাজে দেবে।

প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না
অনেকেই আছেন যারা প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন। কিন্তু তারা এটা একবারো চিন্তা করতে চান না যে ভালো করতে গিয়ে কত বড়ই না সর্বনাশ করে ফেলছেন নিজের চুলের। বাজারের ৯৯ ভাগ শ্যাম্পুই চুলের জন্য ক্ষতিকর এমন কেমিকেল দিয়ে বানানো হয় কিন্তু যেহেতু আমাদের জানাশোনা এ নিয়ে অনেক কম (কারণ আমরা সবাই ফার্মেসি/কেমিস্ট্রী নিয়ে পড়িনা!) এবং কোম্পানীগুলো তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য এত পরিমাণ টাকা খরচ করেন যে আমাদের মাথায় ওইটায় সবার আগে আসে যে শ্যাম্পুটা যদি আমরা ব্যবহার করি তাহলে কি কি উপকার পাবো।
আপনার মাথার ত্বক অনেক নরম এবং আপনি যদি প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে থাকেন তাহলে এমনও হতে পারে যে ধীরে ধীরে এটা আপনার চুলের ঘনত্ব হ্রাস করে ফেলতে পারে। তাই অবশ্যই প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। মেডিকেল সাইন্স অনুযায়ী সপ্তাহে ২ বারের বেশী শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত নয়। এজন্য কমপক্ষে তিন দিন পর পর শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

চুলের সাথে সদয় আচরণ করুন
গোসল করার পর আমরা অনেকেই টাওয়াল দিয়ে খুব দ্রুত চুল মোছা শুরু করি চুল থেকে পানি ঝেড়ে ফেলার জন্য। কিন্তু এমনটা মোটেও করবেন না।কারণ ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া অনেক নমনীয় থাকে তাই সে সময় যদি চুলে জোড়ে আঘাত করা হয় চুলের গোড়া ভেঙ্গে যেতে পারে কিংবা চুলটা গোড়া সহ উপড়ে আসতে পারে। এজন্য চুল মোছার সময় তাড়াহূড়ো নয় বরং ধীরে ধীরে চুল মুছুন। আর অবশ্যই নরম টাওয়াল ব্যবহার করবেন এতে আপনার চুল ক্ষতিগ্রস্থ হবে না।
গোসল করার পরে যদি চুল ভেজা থাকে ওই অবস্থাতে জোড়ে চুল আচড়াবেন না। কারণ এতে করেও আপনার চুল ঝরে যেতে পারে। চুল শুকিয়ে যাবার পরে চিরুনী দিয়ে চুল আচড়ান।

হেয়ার জেল ব্যবহার করা থেকে ১০০ ভাগ দূরে থাকুন
আপনি যদি একজন ভদ্র ছেলে হন তাহলে জেল ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন নেয়। কারণ আমার মতে জেল আপনাকে এক্সেপশোনাল কোন ভদ্র লুক (Gentle look) দেবে না। আর এমন তো নয়, যেসব ছেলেরা জেল ব্যবহার করেন না তাদের গার্লফ্রেন্ড নেই! সুতরাং এটা শুধুমাত্র আপনার অর্থের অপচয় বললে ভুল হবেনা।

চুলের যত্ন নিতে কিছু টিপ্সঃ কিভাবে নিজের চুলের যত্ন নেবেন

কারণ জেলে এমন কোনই উপকরণ নেই যা আপনার চুলকে আরো হেলদি (Healthy) করবে। বরং জেলও তৈরী হয় ক্ষতিকর কেমিকেল দিয়ে। তাই জেল ব্যবহার করা থেকেও দূরে থাকুন। যা আপনার কোন উপকারে লাগছে না বরং ক্ষতি করছে তা শুধু শুধু কেন ব্যবহার করতে যাবেন।

ক্যাপ বা টুপি ব্যবহার করুন
ধুলা ময়লা আমাদের চুলের বড় শত্রু। কারণ এগুলো মাথার ত্বকে জমে খুশকি সৃষ্টি করে। আর খুশকি হলে চুল এমনিতেয় পড়তে শুরু করবে। এ জন্য ধুলা-বালি থেকে যতটা সম্ভব চুলকে রক্ষা করুন। এ দিক থেকে ক্যাপ একটা সহজ সমাধান। বাইরে বের হবার সময় ক্যাপ পরে বের হউন, এতে আপনার চুল ধুলা-বালি থেকে অনেক বেশী বেচে যাবে এবং চুলে সহজে ময়লা জমবে না। মেয়েরা এখানে স্কার্ফ জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে পারেন অথবা যারা স্কার্ফ পরতে চান না তারা ওড়নাকেও ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত এক মাস একটু ব্যবহার করে দেখুন উপকার এমনিতেয় চোখে পড়বে।

চুলে তেল ব্যবহার করুন
তেল আপনার চুলের ঘনত্ব বাড়াতে কিংবা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে না। টিভিতে বা পত্রিকায় ( এমনকি ইন্টারনেটেও ) এ নিয়ে যে খবর বা ভিডিওগুলো দেখানো এগুলো সঠিক নয়। কখনই এগুলো বিশ্বাস করে কিনতে যাবেন না কেননা কেনার পর মনে হবে পুরো টাকাটায় জলে গেল। যদি টাকা খরচ করা ইচ্ছা হয়ে থাকে তাহলে ভালো কোন ডাক্তারকে দেখান।
চুলে তেল ব্যবহারের সময় যে মাসাজ করা হয় এটায় মুলতঃ কাজে লাগে। কারণ মাসাজের ফলে আপনার মাথার ত্বকের রক্ত চলাচল বাড়ে যা আপনার চুলের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। তবে ধীরে ধীরে মাসাজ করুন তাড়াহুড়ো করবেন না। পাশে কেউ থাকলে তার দ্বারাতেও মাসাজ করিয়ে নিতে পারেন।

হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন
একটা নারিকেলের অর্ধেক অংশ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিয়ে মাথায় লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। অথবা নারিকেল না পেয়ে যদি অ্যাভোকাডো পেয়ে থাকেন তাহলে অ্যাভোকাডোকেও একই ভাবে ব্লেন্ড করে নিয়ে হেয়ার মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। মাসে অন্তত একবার এই হেয়ার মাস্কটি ব্যবহার করুন। যেহেতু এটা একেবারেই প্রাকৃতিক একটা উপায় তাই আপনার চুল আগের চেয়ে অনেক হেলদি (Healthy) দেখাবে।

চুলের যত্ন নিতে কিছু টিপ্সঃ কিভাবে নিজের চুলের যত্ন নেবেন

পোস্টটি পড়ে কোন উপকার বুঝতে পারলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। কি নিয়ে আর্টিকেল চান তা কমেন্ট বক্সে লিখে আমাদের জানান। আজ এ পর্যন্তই থাক, সুস্থ্য থাকুন-ভালো থাকুন।
চুলের যত্ন নিতে কিছু টিপ্সঃ কিভাবে নিজের চুলের যত্ন নেবেন | (How to care your hair) চুলের যত্ন নিতে কিছু টিপ্সঃ কিভাবে নিজের চুলের যত্ন নেবেন | (How to care your hair) Reviewed by Rone Ahmed on July 26, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.