number ones

দাঁতের যত্ন | Care Your Teeth (in Bengali)


দাঁতের ব্যাথা থেকে রক্ষা পেতে এবং দাঁতকে সুন্দর দেখাতে দাঁতের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপুর্ণনিয়মিত দাঁতের যত্ন নেওয়া কঠিন কিছু নয় এর জন্য শুধু অভ্যাসের প্রয়োজন।
দাঁতের সঠিক নিতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে চেষ্টা করুন।
কমপক্ষে দুই বার ব্রাশ করতে হবে
দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্রাশ করাটা অতিব জরুরী এবং আপনার যদি এই জায়গায় ঘাটতি থাকে তার মানে আপনি দাঁতের যত্ন ঠিক ঠাক নিচ্ছেন না।নিয়মিত ব্রাশ করা না করলে আপনার দাঁত খুব তাড়াতাড়ি অকেজো হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকবেতাই প্রতিদিন কমপক্ষে দুইবার ব্রাশ করুনপ্রতিবার ব্রাশ করার সময় কমপক্ষে দুই মিনিট ধরে ব্রাশ করতে হবে।এ থেকে ভালো ফল পেতে আপনার ব্রাশকে ৩ মাস পর পর পরিবর্তন করুন।এতে আপনার দাঁত পরিষ্কার এবং ঝকঝকে দেখাবে।যদি ইলেক্টিক টুথব্রাশ ব্যবহার করেন তাহলেও তিন মাস পর পর ব্রাশের মাথা/head পরিবর্তন করে নিন।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাচ্চাদের নতুন দাঁত উঠা শুরু হলে তখন থেকে ব্রাশের অভ্যাস করাতে হবে।এতে করে তার ভেতরে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাসটা ছোট অবস্থা থেকে তৈরী হবে।
আপনি আপনার কাজের জায়গা গুলোতেও ব্রাশ নিয়ে যেতে পারেনকাজের ফাকে যে ধরনের খাবারগুলো সাধারনত খাওয়া হয়ে থাকে সে খাবারগুলো খাবার পরে ব্রাশ করে নিতে পারেন।এতে করে ঐ খাবার থেকে মুখে যে দুর্গন্ধ তৈরী হয় তা থেকে বেচে যেতে পারবেন।তবে খাবার খাওয়ার পরই তৎক্ষনাত ব্রাশ করা থেকে বিরত থাকুন।খাবার খাওয়া শেষ করা থেকে শুরু করে আধা ঘন্টা পরে ব্রাশ করুন।

ফ্লোরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করুন
ফ্লোরাইড আপনার দাঁতের জন্য খুব দরকারী কারণ এটা আপনার দাতকে শক্ত ও মজবুত রাখে।এটা আপনার দাঁতকে ক্ষয় হবার হাত থেকেও বাচায়।এমন টুথপেস্ট খুজুন যাতে ১৩৫০ থেকে ১৫০০ পিপিএম (ppm) ফ্লোরাইড আছেবাচ্চারাও এই মানের টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারে (কারণ আজকাল বেবিটুথপেস্ট যেগুলো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তাতে ফ্লোরাইড খুব কম পরিমাণে থাকে।বাচ্চাদের দাঁতের জন্য কমপক্ষে ১০০০ পিপিএম ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ টুথপেস্ট প্রয়োজন।) তবে খেয়াল রাখুন তারা যাতে এটাকে গিলে না নেয় (খেয়ে না নেয়)প্রাপ্তবয়স্করা যে পরিমাণ টুথপেস্ট নেন ২ থেকে ৬ বছরেরে বাচ্চারা তার থেকে অনেক কম পরিমাণ (ডালের একটি দানা পরিমাণ) টুথপেস্ট নিয়ে ব্রাশ করবে।
একই টুথপেস্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।কারণ এক পেস্টে দাঁতের সুস্বাথ্যের জন্য দরকারী সব উপাদান থাকে না।তাই আলাদা আলাদা ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট ব্যবহার করুন এতে করে আপনার দাঁত প্রয়োজনীয় সব উপাদান পাবে

নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার (Dental Floss) করুন
ফ্লসিং দাঁতের জন্য উপকারী।কারণ আপনি কোন খাবার খাওয়ার পর তার কিছু খাদ্য কণা বা ব্যাক্টেরিয়া দাঁতের সাথে লেগে থেকে যায় যা আপনি ফ্লসিং করার মাধ্যমে করে দূর করতে পারেন।যখন ফ্লসিং করা শুরু করবেন তখন আপনার মাড়ি দিয়ে রক্ত ঝরতে পারে কিন্তু কিছু দিন পর এটা নিজে নিজে ঠিক হয়ে যাবে।দাঁত ব্রাশ করার আগে ফ্লস করুন এতে আপনার দাঁত সহজেই এবং আরো বেশী ভালোভাবে পরিষ্কার হবে।অবশ্যই ১৮ ইঞ্চি ফ্লস ব্যবহার করতে হবে।কারো কারো কাছে ফ্লসিং বিষয়টা অনেক বিব্রতকর সেক্ষেত্রে বাজারে অনেক ইন্টারডেন্টাল ক্লিনার (interdental cleaner) পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

মাউথওয়াশ ব্যবহার
মাউথওয়াশ আপনার দাঁতের ব্যাক্টেরিয়া এবং দুর্গন্ধ দূর করতে ভালো কাজে দেয়বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাউথওয়াশ পাওয়া যায় আবার আপনি চাইলে নিজের বাসায় বসেও বানাতে পারেন।হালকা গরম পানির সাথে অল্প পরিমাণ লবণ মিশিয়ে সুন্দর করে নিজের বাসাতেই মাউথওয়াশ বানিয়ে নিতে পারেনবাজারে কেনা মাউথওয়াশগুলোর কিছু ফ্লেভার আপনার সাথে নাও যেতে পারে তাই কেনার সময় বুঝে শুনে কেনার চেষ্টা করুনকিন্তু মাউথওয়াশ ব্যবহার করলেও আপনাকে ব্রাশ করতে হবে।

জিহ্বা পরিষ্কার করুন
বাজারে কিনতে পাওয়া বেশীরভাগ ব্রাশের পেছনে জিহ্বা পরিষ্কার করার জন্য চাঁছনি দেয়াই থাকে।এর সাহায্যে কাজ চালিয়ে নিতে পারেন।এছাড়া আরো ভালো ফল পেতে আলাদা ভাবে জিহ্বা চাঁছনি কিনে নিতে পারেনব্রাশের ব্রিসেলস (bristles) দিয়েও জিহ্বা পরিষ্কার করা যায়।

ধুমপান থেকে বিরত থাকুন
ধুমপানের কোন উপকারীতা নেই বরং এটার অপকারীতা লিখে শেষ করা যাবে নামানুষ নেশাই পড়ে ধুমপান করে।ধুমপান আপনার মুখে ক্যান্সার হবার ঝুকি অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়তাই এটা থেকে বিরত থাকুন।এটা আপনার মুখে আলাদা এক দুর্গন্ধ তৈরী করে যে কারণে আপনার কাছের মানুষ আপনার সাথে কথা বলা কিংবা চলাফেরা করতে মোটেও সাচ্ছন্দ বোধ করবেনা।

চিনি কম খান
চিনি অথবা চিনি জাতীয় খাবার দাঁতের শত্রু।তাই চকলেট-ক্যান্ডি,পেস্ট্রি,কেক,আইস্ক্রীম,বিভিন্ন কোমল পানীয় যেগুলোতে প্রচুর চিনি থাকে সেই খাবার গুলো কম পরিমানে খান দাঁত আপনাকে ভুগাবেনা।

ফলমুল এবং শাকসবজি খান
ফল এবং শাকসবজি একই সাথে আপনার দাঁত এবং শরীরের জন্য উপকারী।পরিষ্কার এবং ক্রাঞ্চি (কুড়মুড়ে) ফল বা সবজি আপনার দাঁত ঝকঝকে এবং মাড়ি মজবুত রাখতে সহায়তা করে।আপেল,ব্রকলি,লেটুস,গাজর এবং শশাকে এজন্য বেছে নিতে পারেন।
আর শুকনো চটচটে এবং আঠালো খাবারগুলো কম খেতে চেষ্টা করুন।এগুলো খাবার সময় দাঁতের সাথে শক্ত হয়ে লেগে থেকে যায় যা দাঁতের ক্ষয় (ডেন্টিস্টদের ভাষায় যাকে ক্যাভিটি/cavity বলে) তৈরী করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

sugar free চুয়িং গাম খাওয়ার অভ্যাস করুন
সুগার ফ্রি চুয়িং গাম চিবানোর সময় মুখে সেলিভা (saliva) উৎপন্ন করে যা পূর্বে খাওয়া খাওয়া খাদ্যগুলোর যেকণাগুলো আপনার দাঁতে লেগে থেকে গিয়েছিলো সেগুলোকে দূর করে দেয়।আপনার বাসার কাছেয় কোন দোকান থেকে সুগার ফ্রি চুয়িং গাম পেয়ে যাবেন।কিন্তু যদি না পান কখনোই চিনি যুক্ত চুয়িংগাম গুলো মুখে দেবেন না।কারণ এটা আপনার দাঁতে ক্যাভিটি (ক্ষয়) সৃষ্টি করবে।

দাঁতের সমস্যা এড়াতে
যে কোন সমস্যা শুরুতে খুব ছোট্ট হয়ে দেখা দেয় কিন্তু যখন আমরা এটাকে গুরুত্ব না দিই তখন সময়ের ব্যবধানে এটা মারাত্নক রুপ ধারণ করে।দাতের ক্ষেত্রেও এরকমটা হয়।কারণ আমরা আমাদের দাঁত নিয়ে খুব একটা ভাবি না।ভুলটা তখন বুঝতে পারি যখন অনেক দেরি হয়ে যায় (অথচ একটু খেয়াল রেখে চললে এ সমস্যাগুলো খুব সহজে এড়ানো যেত)এজন্য দাঁত নিয়ে কোন সমস্যা (যেমন মাড়ি ব্যাথা,মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া,দাঁত নড়ে যাওয়া,দাত ব্যাথা,ক্যাভিটিস/ছোট্ট গর্ত/ক্ষয়,শিরশির করা ) বুঝতে পারলে এড়িয়ে না গিয়ে ডেন্টিস্টের কাছে যেতে দেরি করবেন না।সম্ভব হলে ৬ মাসে অন্তত একবার কোন ডেন্টিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন
আজ এ পর্যন্তই।সুস্থ্য থাকুন,ভালো থাকুন।

No comments