রুট কেন করা উচিত এবং কেন করা উচিত নয় জেনে নিন (Why you should not root your Device)



রুট হচ্ছে আপনার ফোনের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে প্রবেশ করার মত একটা ব্যাপারযেখানে প্রবেশ করতে পারলে আপনার ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেমের অ্যাডমিন প্যানেলে (উইন্ডোজে যাকে অ্যাডমিস্ট্রেশন বলা হয়) ঢুকে আপনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে আপনার ডিভাইসটিকে ব্যবহার করতে পারেন বা সাজাতে পারেনআমাদের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোতে এমন অনেক অপশন আছে যেগুলোতে একসেস (Access) করার মত কোন অনুমতি সরাসরি গুগোল আমাদেরকে সরাসরি দেয় না অথবা আরো সহজ করে বললে যে কাজগুলো সাধারণ অবস্থায় আমাদের ডিভাইসে আমরা করতে পারব না(কিছু কাজ আছে যেগুলো করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে গুগোলের পক্ষ থেকে)যেহেতু রুট আপনাকে আপনার ডিভাইসের ওপরে আপনার ফুল একসেস (Access) দিয়ে দিচ্ছে তাই রুট করার কারণে আপনি ঐ ধরণের সকল কাজগুলো করতে পারবেন যেগুলোর সাথে সিকিউরিটি সংক্রান্ত বিষয়গুগুলো জড়িত থাকবার কারণে গুগোল আপনাকে না করার জন্য নিরুৎসাহিত করে
রুট শব্দটি নেওয়া হয়েছে লিনাক্স অপারেটং সিস্টেম থেকেলিনাক্সে এ রুট বলতে লিনাক্স ওএসের ওই অ্যাকাউন্টের কথা বলা হয়েছে যা যেকোন সময় ওই ওএসের সমস্ত কমান্ড বা ফাইলে একসেস (Access) করার ক্ষমতা রাখে।অ্যান্ড্রয়েডে একে রুট বলা হলেও আইওএসে বা আইফোনের ক্ষেত্রে একে বলা হয় জেলব্রেকিং (Jail-breaking).তাই এই জেলব্রেকিং বা রুট দুটো শব্দ আলাদা শোনালেও দুটোর অর্থ একই।
ফোন রুটিংএর সব থেকে বড় অসুবিধা হচ্ছে ফোন রুট করার সাথে সাথে আপনার ফোনের ওয়ারেন্টি চলে যাবেবেশীরভাগ ব্র্যান্ড ফোন রুটিং সমর্থন করে না শুধুমাত্র নিরাপত্তা জনিত বিষয়গুলো রুটিঙ্গের সাথে জড়িত থাকার কারণে(কয়েকটি ব্র্যান্ড আছে যাদের ফোন রুট করা হলেও তারা ওয়ারেন্টি সংক্রান্ত সার্ভিস গুলো দিয়ে থাকে কিন্তু এরা হাতে গুণা দুই একটা)।স্যামসাং থেকে শুরু করে নামীদামী সব ব্র্যান্ডগুলোর ডিভাইস রুট করা হলে আপনার ডিভাইসটি এদের সার্ভিসের আওতাই আর থাকবেনা
এছাড়া আরো একটা বড় অসুবিধা হচ্ছে রুট করাকালীন সময়ে ইন্সট্রাকশন গুলো পুরোপুরি ফলো না করতে পারলে অথবা কোথাও অল্প একটু ভুল হয়ে গেলে আপনার ডিভাইসটি একেবারেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে যাকে আপনি আর কোনভাবেই ঠিক করতে পারবেন না,তখন এটা শুধু একটা বাক্সের মত যেখানে সেখানে পড়ে থাকবে!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে রুট করা উচিত নাকি উচিত নয়?যদি সাধারণভাবে বলি তাহলে আমার মতে এখনকার দিনে রুট করার আর কোন প্রয়োজন নেই।কারণ ৪-৫ বছর আগে যে অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনগুলো বাজারে এসেছিলো সেগুলো বর্তমান অ্যান্ড্রয়েড ওএস গুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিলো।অনেক সীমাবদ্ধতা ছিলো।সে কারণে সে সময় যদি ফোন রুট করা হত তাহলে তা থেকে নানা রকম সুবিধা পাওয়া যেত।যেমন ফোন রুটের সাথে সাথে আপডেট পাওয়া যেত।কারণ ওই সময় অ্যান্ড্রয়েডের আপডেট নিয়ে অনেক ভুগতে হত।সঠিক সময়ে অ্যান্ড্রয়েড নতুন আপডেট পাওয়া যেত না,আপডেট আসতে অনেক দেরী হত ইত্যাদি সমস্যা ছিলো।কিন্তু বর্তমানে যে ওএস গুলো চলছে সেগুলোতে এই সমস্যাগুলো একেবারেই নেই।এমনকি লো-বাজেট বা মিড বাজেটের ডিভাইসগুলোতেও এখন সঠিক সময়ে আপডেট চলে আসে।কিছু কিছু ডিভাইস এখন ২ বছর পর্যন্ত আপডেট নিশ্চিত করছে যেমন শ্যাওমি মি এ১।এছাড়াও গুগোল গত কয়েক বছর অ্যান্ড্রয়েড ওএস নিয়ে অনেক কাজ করেছে যে কারণে এখনকার অ্যান্ড্রয়েড ওএসে এমন কিছু ফীচার যুক্ত হয়েছে যা আমাদের অ্যান্ড্রয়েড ইউজার এক্সপেরিয়েন্সকে অনেক সহজ এবং সুন্দর করে তুলেছে।যেমন এখন আমরা আমাদের ডিভাইসেই মাল্টিটাস্কিং করতে পারি।একই স্ক্রিনে দুটো কাজ একসাথে করতে পারছি(নোগাট ৭.০)।
কারা ফোন রুট করবেন না?
ফোন রুট করার প্রথম শর্ত হচ্ছে আপনার ফোনে এমন কোন ফাইল বা ডেটা থাকা চলবেনা যা লিক হয়ে গেলে আপনার ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বিশেষ করে যারা কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে আছেন তারা ফোন রুট না করাই ভালো।এছাড়া আপনি যদি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফোনের মাধ্যমে চেক করেন বা টাকা লেনদেন করেন তাহলেও আমি বলব ফোন রুট আপনার জন্য না করাই ভালো।কারণ রুট করার পরে আপনার ডিভাইসটি আর গুগোলের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকেনা এবং সে কারণে আপনি এমন কোন অ্যাপ ইন্সটল করে ফেলতে পারেন যাতে কোন কি-লগার (keylogger/এমন একটা স্ক্রিপ্ট যা আপনার ডিভাইসে কি করা হচ্ছে বা না করা হচ্ছে সমস্ত কিছু মনিটর করতে পারে) স্ক্রিপ্ট আছে যা আপনার অ্যাক্টিভিটি গুলোকে খুব সহজে মনিটর করার ক্ষমতা রাখে
কখন ফোন রুট করবেন?
ফোন রুট করার সব থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনার ডিভাইসে আগে থেকে ইন্সটল হয়ে (built-in/preinstalled software) আছে এমন সফটওয়্যার যেগুলোর কাজ মুলত বিজ্ঞাপন শো করা (যাদেরকে bloatware বলে) সেই সমস্ত সফটওয়্যারগুলোকে আনইন্সটল করে ফেলতে পারবেন।কারণ সাধারনভাবে আনইন্সটল করতে গেলে এগুলো আনইন্সটল (যেহেতু বিল্ট-ইন অ্যাপ) হয়না এবং আপনার স্টোরেজ বা র‍্যামে অযথা জায়গা দখল করে রাখে।যেগুলো মাঝে মাঝে খুবই বিরক্তিকর অ্যাড শো করতে শুরু করে বিশেষ করে ডেটা চালু রাখলে।
২য় শর্ত হল আপনার আপডেট পেতে যদি অনেক দেরী হয়ে থাকেযদি দেখেন আপনার আশেপাশের লোকজন যারা আপনার ডিভাইসের মতই একটা ডিভাইস ব্যবহার করছে এবং তারা আপডেটও পেয়ে গেছে অথচ আপনার ডিভাইসে এখন পর্যন্ত কোন আপডেট আসছেনা সেক্ষেত্রে রুট করে নিতে পারেন।এবং রুট করার পরে আপডেট পেতে দেরী হবেনা।কারণ আপনার ডিভাইসে মুলত আপডেট পাঠায় এর প্রস্তুতকারক কোম্পানী বা ম্যানুফ্যাকচারার (manufacturer).সে জন্য মাঝে মাঝে আপডেট পেতে একটু দেরী হতে পারেকিন্তু রুট করলে যেহেতু আপনার ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানী আপনার ফোনকে আর দেখাশোনা করছেনা তাই সরাসরি আপডেট পেয়ে যাবেন।
ওভারক্লিকিং বা আন্ডার ক্লকিং
আপনার যদি মনে হয় আপনার ডিভাইসটির প্রসেসরকে ওভারক্লক করার মাধ্যমে আরো বেশী শক্তিশালী এবং ফাস্ট করা সম্ভব সেক্ষত্রেও রুট করে ফেলতে পারেন।এটাও রুট করার অনেক বড় সুবিধাগুলোর একটি।তবে এর একটা শর্ত হল আপনার প্রসেসরটি অনেক শক্তিশালী হতে হবে সহজ ভাবে বললে ফ্লাগশীপ রেঞ্জের প্রসেসর হতে হবে।তা না হলে তেমন কোন পরিবর্তন চোখে ধরা পড়বেনা।কারণ এখনকার মিডরেঞ্জ প্রসেসর গুলো এমনিতেয় অনেক বেশী শক্তিশালী।
এর পর আরো একটা সুবিধার কথা যা না বললেই নয় তা হল ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে ঝামেলায় পড়ে গেলে।ব্যাটারি অনেক বেশী ড্রেন হয়ে যাচ্ছে?আন্ডার ক্লক করে ফেলুন ব্যাটারি ব্যাকআপ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে।
এই তিনটি বিষয়ই মুলতঃ রুট করার জন্য অনেক বেশী জনপ্রিয়।কারণ এই সুবিধাগুলো কেবল আপনি রুট করা আছে এমন ডিভাইসগুলোতেই পাবেন।আর রুট মুলতঃ সেটাকেই বোঝানো হচ্ছে যেখানে আপনি বাধা ধরা কিছু অপশনের মাঝে না থেকে নিজের ইচ্ছে মত আপনার ডিভাইসটিকে ব্যবহার করতে পারছেন।
কিন্তু রুট তখনই করুন যখন ফোন সম্বন্ধে আপনার ভালো নলেজ আছে।অন্যথায় হিতে বিপরীত হয়ে প্রিয় ডিভাইসটিকে চিরদিনের জন্য হারাতে হতে পারে।

রুট কেন করা উচিত এবং কেন করা উচিত নয় জেনে নিন (Why you should not root your Device) রুট কেন করা উচিত এবং কেন করা উচিত নয় জেনে নিন (Why you should not root your Device) Reviewed by Rone Ahmed on July 14, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.