নিজেকে সবার মাঝে অসাধারণ করে তুলতে সেলফ ম্যানেজমেন্টের ৭ টি স্কিল | 7 Best Self-Management Skills (in Bengali)


সফলতা আসে সেলফ ম্যানেজমেন্টের ফলাফল হিসেবে।আপনি যদি সুখি,সফল এবং সুন্দর জীবন পেতে চান আপনার মাঝে সেলফ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ধারণ থাকতে থাকতে হবে।এটা এমন একটা বিষয় যা আমাদের কর্মজীবন এবং ব্যাক্তিগত জীবনকে সুন্দর করে তুলতে পারে।এজন্য যেসব মানুষ নিজেকে নিয়ে ভাবেন এবং নিজের অভ্যাসগুলোকে কিভাবে অন্যদের চায়তে আরো অ্যাডভান্স করে তোলা যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করেন তাদের সবাকেই সেলফ ম্যানেজমেন্ট রুলস (Self-Management Rules) গুলো জেনে নিজের মধ্যে প্রয়োগ করা উচিত।এটা একটা শিল্পের মত।যখন আপনি এটা বুঝতে পারবেন অন্যের ভুলগুলো ধরার আগে নিজে ঐ ভুলগুলো শুধরানো কতটা জরুরী তখনই আপনাকে দিয়ে কিছু হবে।এজন্য আপনাকে সেলফ ম্যানেজমেন্ট নিয়মগুলো সহায়তা করবে।এটা আপনাকে শেখাবে কি করে অন্যের ভুল ধরার আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হয়।
এই আর্টিকেলে সেলফ ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত কয়েকটি টেকনিক নিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে লিখতে চেষ্টা করেছি।আশা করছি এগুলো আপনাদের কাজে দেবে।
কথা বলুন
আপনি মনে মনে কি বলছেন মানুষ কখনোই তা শুনতে পাইনা এজন্য সোজা হয়ে দাড়িয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলুন।কারণ এখনো পৃথিবীর বেশীরভাগ মানুষ মাইন্ড রিড (Mind Read) করতে পারেনা!
হয়ত আপনি ভাবছেন আপনি যদি এটা বলেন তাহলে মানুষ কি বলবে অথবা ভয় পাচ্ছেন যে যা বলবেন তা ঠিক নাও হতে পারে।আপনার মাথায় এ চিন্তা আসা খুব স্বাভাবিক কারণ একজন সাধারণ মানুষ এ ভাবেই চিন্তা করে।কিন্তু একটাবার ভাবুন আপনি যা বলতে চাচ্ছেন তা তো সঠিক হতে পারত।একবার মনে করে দেখুন তো এরকম আপনার জীবনে হয়েছিলো কিনা যে আপনি মনে মনে ভেবে রেখেছিলেন এমনটা হবে কিন্তু ভয় পেয়ে বলেন নি অথচ পরে দেখলেন যা ভেবেছিলেন তা সঠিক ছিলো।এজন্য কথা বলুন,ভয় পাবেন না কারণ ভুল বললে কেউ আপনাকে মারতে আসবেনা।বরং ভুল বললে তবেই আপনি নতুন কিছু শিখবেন,পরবর্তীতে আপনার আত্নবিশ্বাস বাড়বে।তাই ভুল হলে কি হবে বা যদি ভুল হয় এমন চিন্তা কখনো মাথায় নিয়ে আসবেন না।

নিজেকে জানুন
ধরুন আপনার বন্ধু কোন একটা ভুল করে ফেলেছে এটা নিয়ে আপনি এখন বেশ রাগান্বিত।আপনার মাথা একদম গরম হয়ে গেছে কারণ সে অনেক বড় একটা ভুল করে ফেলেছে।কিন্তু এখানে একটাবার আপনার বন্ধুর জায়গা থেকে চিন্তা করুন যে ঘটনাটি যদি আপনার সাথে ঘটত তাহলে আপনি কি করতেন।যদি আপনার ভেতর থেকে উত্তরটা এমন আসে যে আপনিও একই কাজই করতেন যা আপনার বন্ধু করেছে তাহলে দেখবেন আপনার রাগটাও অনেকখানি কমে গেছে।আর যদি এমনটা না হয় তাহলে কি রাগ করবেন?না।রাগ কোন সমাধান নিয়ে আসেনা।বরং রাগ ভুল্ভ্রান্তি এবং মনোমালিন্য বাড়িয়ে দেয়।তাই রেগে যাবেন না,একটা বিষয়কে সহজে মেনে নিতে চেষ্টা করুন।এটা আপনার ধৈর্যশক্তি অনেকখানি বাড়িয়ে দেবে।রেগে গেলে সাথে সাথে কোন রিঅ্যাক্ট করবেন না,কিছুক্ষণ একটু থেমে যান দেখবেন আগের চেয়ে কিছুটা হলেও রাগ কমে গেছে।
আপনার আশে পাশে যে মানুষগুলো সবসময় আপনার সাথে চলাফেরা করছে তাদের কাছে প্রশ্ন রাখুন আপনি তাদের কাছে আসলে কেমন।শুরুতে তারা যা বলবে তা আপনার পছন্দ নাও হতে পারে তাই মন খারাপ করবেন না,তাদের কথা গুলো নিজে নিজে উপলব্ধি করুন আপনি আসলেই ওই ভুলগুলো করেছিলেন কিনা তারপর সে অনুযায়ি নিজের মাঝে পরিবর্তন আনুন।একসময় দেখবেন ওই মানুষ গুলোই আপনাকে সেরাদের তালিকায় তুলে দিচ্ছে।

স্ট্রেস নেবেন না
মনে রাখবেন পৃথিবীতে সব কিছুরই সলিউশন আছে।যদি আপনি আপনার কোন সমস্যা সমাধান না করতে পারেন এর অর্থ এটা নয় যে ঐ সমস্যার কোন সমাধান নেই।বরং এর অর্থ হল আপনি সমাধানটা এখনো খুজে পান নি।তাই স্ট্রেস নেবেন না।এটা আপনার সমাধান পাওয়া থেকে আপনাকে দূরে রাখবে।কারণ স্ট্রেস আপনার ব্রেইনকে প্রয়োজনের সময় সঠিকভাবে কাজ করতে বাধা দেয়।যখন প্রচুর স্ট্রেস কাজ করছে তখন সব কাজ করা বন্ধ করে দিন।চোখ বন্ধ রাখুন,লম্বা নিঃশ্বাস নিন,দরকার হলে একটু বিশ্রাম নিন।
যখন আপনার মন ভালো থাকবে সে সময় সমাধানটা নিয়ে ভাবুন,সমাধান পেয়ে যাবেন।আমাদের জীবন ততটা জটিল মোটেও নয় যতটা জটিল আমরা ভাবি।আমরা যেহেতু ভেবে নি জীবনটা অনেক জটিল তাই জীবন আমাদের কাছে জটিল হয়েই দেখা দেয়।

দ্বায়িত্ব জ্ঞান এবং প্রোডাক্টিভিটি (Productivity)
আপনি যদি এটা জানেন যে কখন আপনাকে কি করতে হবে তাহলে আর কোন কিছুরই প্রয়োজন নেই।ছোট বেলা স্কুলে আমাদের এই (দ্বায়িত্ব জ্ঞান) শিক্ষায় দেওয়া হত।এটা সেলফ ম্যানেজমেন্টের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা স্কিল (skill)।কিন্তু তারপরেও অনেকেই আছেন যারা তাদের দ্বায়িত্ব জ্ঞান নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন।
আপনাকে এই চিন্তাটা নিজের মাঝে নিজেকেই নিয়ে আসতে হবে যে দ্বায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন একজন মানুষ হলে তবেই অন্য মানুষগুলো আপনাকে গুরুত্ব দেবে।মানুষ আপনার প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ আপনাকে ধার দেবে না,দ্বায়িত্ব জ্ঞান সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যামে আপনাকে এটা অর্জন করে নিতে হবে।
আপনার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্বগুলোকে বুঝতে চেষ্টা করুন।আপনার কাজের প্রতি গুরুত্ব দিন।কাজের মাঝে যে ভুলগুলো করেন সেগুলো সহজে মেনে নিন।ভুল হওয়াটা কোন দোষ নয়,মানুষ ভুল করবেই তাই ভুল হলে চাপ নেবেন না।মনকে বোঝান ভুল হলে তবেই শিখবেন।আপনার ভুলে যদি কেউ হাসে আপনি গায়ে মাখবেন না।এমনতো না সে আপনাকে দিলে তবেই আপনি খেতে পান।তাই সে হাসলে আপনার কি এসে যায়।
কাজ করার মাঝে যদি খুব বিরক্ত লাগে কাজটা সীমিত সময়ের জন্য অফ রাখুন এবং পরে আবার কাজে যোগ দিন।তাই বলে বিরক্ত লাগলে দেয়ালে কপাল চাপড়াবেন না এটা দিয়ে কোন কাজ হবে না

ব্যবহার
কাউকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করার থাকলে একটু নম্রভাবে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করুন।এতে প্রথম ধাপেই আপনার প্রশ্নের উত্তরটা পেয়ে যাবার খুব সম্ভাবনা থাকবে।কারণ আমাদের সমাজে এখনো ব্যবহারের বিষয়টাকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
কথা বলার সময় এমন কোন শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন যা মানুষ ভালোভাবে নাও নিতে পারে।এতে পরবর্তী সময় গুলোতে মানুষ আপনার কথা শোনার আগ্রহ হারাবেনা।কারণ আপনি যদি কথার মাঝে অপ্রয়োজনীয় এবং খারাপ ভাষা ব্যবহার করেন তাহলে মানুষ এটা জেনে গেল আপনি কেমন এবং পরবর্তীতে তারা আপনার কথায় কোন গুরুত্ব দেবেনা।
কাউকে যদি কোন কথা দিয়ে থাকেন তা অবশ্যই রাখুন।এতে মানুষ আপনার কথার দাম বুঝবে।

আপনার মনকে রুল করুন (Rule Your Mind)
যদি মন আপনাকে রুল (rule) করে তবে এর পরিণাম ভয়াবহ হবে তা লিখে রাখতে পারেন।তাই মনকে রুল করুন।যারা জীবনে সফল হয়েছেন তারা মনকে রুল করার জন্য এক্সপার্ট,এজন্যই তারা সফল।তাছাড়া একটাবার ভাবুন আপনার জীবনে আপনার মন রুল করার কে?আপনি মনকে রুল করবেন আর মনকে সে অনুযায়ি চলতে হবে এটাই সত্য।

পজেটিভিটি
নিজের ভেতর পজেটিভ অ্যাটিটিউড তৈরী করুন।কখনো নেগেটিভ চিন্তা মাথায় নিয়ে আসা থেকে একেবারে বিরত থাকুন।কারণ এটা আপনার আত্নবিশ্বাস কমিয়ে দেবে।কিন্তু পজেটিভ ভাবনা মানে কি শুধু এটায় যে আপনি সবসময় পজেটিভ ভাবছেন অথচ সেভাবে কোন কাজই আপনি করেন না?আপনার কাজ নিয়ে আপনার কোন লক্ষ্যও নেই।জেনে রাখুন যতক্ষন না একটা কাজ আপনি নিজে থেকে শেষ করছেন ঐ কাজ শেষ হবেনা।
পজেটিভিটি হচ্ছে আপনার লক্ষ্যে পৌছানোর একটা কৌশল মাত্র।কারণ আপনার লক্ষ্যে পৌছানোর আগ পর্যন্ত আপনার মনে অনেক নেগেটিভ (স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মন নেগেটিভ চিন্তা করতে ভালোবাসে) চিন্তা আসবে (যেমন কাজটা অনেক কঠিন,আমাকে দিয়ে হবেনা,এত কষ্ট করতে পারছিনা ইত্যাদি) তখন পজেটিভ চিন্তা-ভাবনা আপনাকে সামনে এগিয়ে যাবার শক্তি জোগাবে।তাই আপনার লক্ষ্য (goal) থাকতে হবে।আপনাকে জানতে হবে আগামী ৩০ দিনে আপনি কি করতে চলেছেন।লক্ষ্য দুইটি রাখুন একটি ছোট আরেকটি বড়।প্রত্যেকদিন এতটুকু পরিমাণ কাজ অবশ্যই করুন যাতে আপনার লক্ষ্যের দিকে অন্তত এক ধাপ করে এগোতে পারেন।

অনেক ধন্যবাদ আর্টিকেলটি পড়বার জন্য।আজ এ পর্যন্তই থাক।খুব সংক্ষিপ্ত একটা ধারণা দিতে চেষ্টা করেছি সেলফ ম্যানেজমেন্টের ওপরে।লেখাটি ভালো লাগলে আমাদেরফেসবুক পেজ থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
নিজেকে সবার মাঝে অসাধারণ করে তুলতে সেলফ ম্যানেজমেন্টের ৭ টি স্কিল | 7 Best Self-Management Skills (in Bengali) নিজেকে সবার মাঝে অসাধারণ করে তুলতে সেলফ ম্যানেজমেন্টের ৭ টি স্কিল | 7 Best Self-Management Skills (in Bengali) Reviewed by Rone Ahmed on July 06, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.