Header Ads

একটি বাজেট ডিএসএলআর (২০১৮)।Buy a Best budget DsLR

আজকে আমরা আলোচনা করব ডিএসএলআর নিয়ে কারণ হাতে একটা ডিএসএলআর থাকাটাও এখন অনেকটা ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।তাই তরুণরা ডিএসএলআর বলতে একরকম পাগলই বলা চলে।এছাড়া অনেকেই বলে থাকেন হাতে ডিএসএলআর থাকলে নাকি গার্লফ্রেন্ডেরও অভাব পড়েনা!কিন্তু এই কথাটা কতটা যুক্তিযুক্ত তার কোন প্রমাণ নেই!
অনেকেই আছেন যারা শখের বশে বন্ধু বা বান্ধবীর পাল্লায় পড়ে লাখ টাকা খরচ করে একটা DSLR নিয়ে ফেলেন কিন্তু কিছু দিন পরে নিজের ভুলটা বুঝতে পারেন।আসলে এই ভুলটা খুবই সাধারণ একটা ভুল কারণ বেশীর ভাগ মানুষই এই ভুলটা করে থাকেন ডিএসএলআর কিনতে গিয়ে।কারন ডিএসএলআর বলতে সবাই এটাই বুঝে থাকেন যে এটা একটা লাখ টাকার ক্যামেরা (বা অনেক দামী ক্যামেরা)।কিন্তু কেনার আগে একটু বুঝে শুনে কিনলে অনেক কম বাজেটের মধ্যেই প্রো টাইপ ডিএসএলআর কিনে ফেলা সম্ভব।
বাজারে ফিক্সড ফোকাস কম্প্যাক্ট ক্যামেরা গুলোর অভাব নেই এবং DSLR এর চাইতে এদের দামও তুলনা মুলক অনেক কম(৫,০০০ টাকা থেকে শুরু)।কিন্তু এইসব ফিক্সড ফোকাস কমপ্যাক্ট ক্যামেরা গুলোর সব চাইতে বড় দূর্বল দিক হল এগুলো দিয়ে জুম করতে গেলে ছবির মান খারাপ হয়ে যায়।এছাড়া এই সব কম্প্যাক্ট ক্যামেরা গুলোতে যে সেন্সর ব্যবহার করা হয় তা মোটেও উন্নত নয় তাই দাম কম হলেও এ সব কম্প্যাক্ট ক্যাম গুলো সব সময় অ্যাভোয়েড করা উচিত।তবে ১৬,০০০ টাকার ওপরে সনির সাইবারশট (যেমন, CYBER-SHOT WX220) মডেল গুলো চয়েসে রাখতে পারেন কারণ কম্প্যাক্ট ক্যামেরা হলেও দাম অনুযায়ি আপনাকে সন্তুষ্ট রাখতে পারবে।তবে এর নিচে না নামাটায় ভালো।

কেন DSLR কিনবেন

এর প্রথম এবং প্রধান কারণ হিসেবে বলা যায় ডিএসএলআর এর দাম আগের চাইতে এখন অনেক হাতের নাগালে।কারণ একটা সময় ছিলো যখন শুধু একটা বডি কিনতেয় ১ লাখের মত খরচ হত সেখানে এখন এর অর্ধেক দামেই প্রো টাইপ ক্যামেরা বডি পাওয়া যাচ্ছে।কম্প্যাক্ট ক্যামেরা গুলোর দামের সাথে আর মাত্র কিছু টাকা যোগ দিলেই ভালো মানের একটি DSLR পাওয়া সম্ভব।
যদিও বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন গুলো অনেক ভালো মানের ছবি তুলতে সক্ষম কিন্তু তারপরেও এইসব ডিভাইস গুলো এখনো ডিএসএলআর এর থেকে অনেকটায় পিছিয়ে।তাই যদি ক্যামেরা দরকার হয়ে থাকে তবে ডিএসএলআর নেয়াটাই শ্রেয়।

কোন ব্র্যান্ডের DSLR কিনবেন

ক্যানোন অথবা নিকোনের মধ্যে থেকে যে কোন একটা মডেল চয়েস করে নিতে পারেন। তবে ফটোগ্রাফীর জন্য নিতে চান তাহলে অবশ্যই নিকোন নিলে ভালো হয় কারণ প্রোফেশনাল ফটোগ্রাফাররা ফটোশ্যুটের জন্য নিকোন রিকোমেন্ড করে থাকেন।আর উদ্দেশ্য যদি হয় কন্টেন্ট মেকিং বা ভিডিও নির্মান তাহলে অবশ্যই ক্যানোন নিতে হবে ।কারণ ক্যানোনের  কিছু লেন্স আছে যেগুলো শর্ট ফিল্ম বা ভিডিও নির্মানে অনেক হেল্পফুল।

কিভাবে কিনবেন

শুরুতেই দামী ডিএসএলআর বডি কিনবেন না কারণ এগুলো অপারেট করাটা একটু অ্যাডভান্সড তাই শিখতে একটু সময় লাগে,আর যদি না শেখেন তবে DSLR এর অটো মোডেই সারা জীবন পড়ে থাকতে হবে,তখন এত টাকা খরচ করে DSLR কিনে কোনই লাভ হবেনা।তাই সব চাইতে ভালো হয় এন্ট্রি লেভেল ডিএসএলআর গুলো কিনলে। কারণ এগুলো অপারেট করা বিগিনারদের জন্য খুব সহজ হয়।

ক্যামেরা বডির সাথে কম্পানি থেকে একটি কিট লেন্স দেয়া থাকে বাজেট নিয়ে সমস্যা না থাকলে নিয়ে রাখতে পারেন কারণ খুব একটা কাজের না হলেও কাজ চলে যাবার মত।শুরুতে ক্যামেরা মোড গুলো শিখতে অনেক হেল্প করবে।

ক্যামেরা বডি দামী না কিনে চেষ্টা করুন ঐ টাকাটা লেন্স কেনার কাজে ব্যবহার করতে।শুরুতে 50mm প্রাইম লেন্সটি অবশ্যই নিয়ে রাখবেন।এর দামটাও তেমন বেশী নয় এবং দাম অনুযায়ি অনেক ভালো আউটপুট পাওয়া যায় এই লেন্সটি থেকে।

বাজেট DSLR

বাজেট যখন কম থাকে তখন ভালো মানের প্রডাক্ট বা এক্সেসোরিজ পাওটা একটু কঠিন হয়ে দাড়ায় কারণ কম দামী পন্য গুলোতে কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকে।তবে এর মাঝেও আমরা চেষ্টা করেছি এমন একটা ডিএসএলআর বডির সাথে আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে যেটা দাম অনুযায়ি অনেক ভালো আউটপুট দিতে পারবে।

NIKON D3300 এদিক থেকে আমদের কাছে অনেক এগিয়ে আছে।কারণ মার্কেটে এর দাম (কিট লেন্স সহ) এখন ৩২,০০০ টাকার মত অথচ দাম অনুযায়ি এর পারফর্মেন্স সত্যি অবাক করার মত।যারা ইউটিবের কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করছেন এটা তাদের জন্য রিকমেন্ড করছি কারন এতে মাইক পোর্ট আছে তাই ভিডিও শ্যুট করার সময় সুন্দরভাবে অডিও রেকোর্ড করতে কোন সমস্যা হবেনা।৩০,০০০ টাকার আশে পাশে একমাত্র এই ক্যামেরাটিতেয় মাইক ইন পোর্ট দেয়া আছে।তাই যারা ভিডিও কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করছেন এবং কম বাজেটের মধ্যে ভালো মানের একটা ডিএসএলআর খুজছেন তারা ভেবে দেখতে পারেন।
যদিও এটা রিলিজ হয়ে প্রায় ৪ বছর হতে চলেছে কিন্তু তার পরেও এটা আপনার চাহিদাকে পুরোপুরিভাবে পুরন করতে সক্ষম হবে।35mm অথবা 55mm প্রাইম লেন্স গুলো ব্যবহার করে প্রোফেশনাল মানের ছবিও তুলতে পারবেন।এর ব্যাটারি ব্যাকআপও খুব সুন্দর,এক চার্জে ৭০০ শট অনায়াসে নিতে পারবেন যেখানে Canon 700D থেকে মাত্র ৪০০ শট নেয়া যায়।তবে ক্যানোন 700D এর মত এর ডিসপ্লেটা ৩৬০ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে ঘোরানো সম্ভব না (এর ডিসপ্লে ফিক্সড) তাই অনেকেই একে পছন্দ নাও করতে পারেন।তবে ওভারঅল বাকী সব দিক থেকেই অনেক কাজের এই ক্যামেরাটি।কারন ক্যানোন 700D এর বাজার মুল্য নিকোন D3300 চাইতে প্রায় ১০,০০০ টাকা বেশী অথচ এদের পারফর্মেন্স প্রায় একই।
এদিকে ২০১৬ সালের দিকে নিকোন তাদের D3300 এর ছোট ভাই D3400 বাজারে নিয়ে এসেছিলো কিন্তু এতে তারা D3300 এর থেকে খুব বেশী পরিবর্তন নিয়ে আসেনি এমনকি এতে মাইক ইন পোর্টও দেয়া হয়নি।তবে এতে তারা ব্যাটারি এবং শেয়ারিংয়ের দিকে নজর দিয়েছে।তাই এতে এক চার্জে ১২০০ শট নেবার মত বড় একটা সুবিধা আছে।এছাড়াও বিল্ট ইন ব্লুটুথ এবং রিমোটকন্ট্রোল সুবিধার মত কিছু কিছু বিষয় একে D3300 এর চাইতে এগিয়ে রাখছে এবং এর দাম D3300 এর কাছাকাছি(৩৪,০০০ টাকা)।তাই ফটোশুটের জন্য বেস্ট চয়েস হবে D3400. তবে বাজেট যদি ৫০ হাজারের মত হয় তবে ক্যানোনের 750D দেখতে পারেন। কিন্তু ৬০,০০০টাকার মত হলে অবশ্যই ক্যানোনের 800D নিতে হবে কারণ এই বাজেটে এটা সব চাইতে ভালো বাজেট ডিএসএলআর হবে।
ডিএসএলআর কিনতে গিয়ে ক্যামেরার বডি কিনতেয় আমরা সব টাকা শেষ করে ফেলি কিন্তু এটা একটা বড় ভুল কারণ ক্যামেরা বডির সাথে দেয়া কিট লেন্স গুলো খুব একটা উন্নত হয় না তাই প্রথমে লেন্স না কিনলেও পরে কিনতে যেতেয় হয়।এজন্য নির্ধারিত একটা বাজেট তৈরী করে সে অনুযায়ি ক্যামেরা বডি কিনুন এবং বাকী টাকা দিয়ে লেন্স কিনুন।

No comments

Powered by Blogger.